
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক ফল। ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার রাতে কাউন্টিং সেন্টার থেকে বেরিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। নিজের জয়কে ‘হিন্দুত্বের জয়’ বলে দাবি করেন। শুভেন্দু বলেন, 'আমাকে মুসলমানরা ভোট দেয়নি। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখ সমাজ আমাকে জিতিয়েছে।'
শুভেন্দু বলেন, 'এই আসন না জিতলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণ হত না।' বিজেপির এই জয়ের পিছনে দলীয় কর্মীদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন। বলেন, 'বাংলায় পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে ৩০০ বিজেপি কর্মীর আত্মবলিদান।' তাঁর কথায়, 'হিন্দু শহিদ হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাস-সহ যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের এই জয় উৎসর্গ করছি।'
ভবানীপুরের ফল নিয়ে শুভেন্দু আরও বলেন, '২০২১ সালে নন্দীগ্রামে উনি হেরেছিলেন। এ বারও হারলেন।' তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীকে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক বিপুল সমর্থন দিলেও অন্য সম্প্রদায়ের ভোট তাঁর দিকে এসেছে। শুভেন্দুর কথায়, 'মুসলমানরা আমাকে ভোট দেয়নি। শিখ, জৈন, বৌদ্ধ সমাজ আমাকে ভোট দিয়েছে। এই জয় বাংলার মানুষের জয়।'
গণনার সময়কার পরিস্থিতিও জানান শুভেন্দু। জানান, প্রথম দিকে পিছিয়ে থাকলেও ধীরে ধীরে ব্যবধান কমতে শুরু করে। শুভেন্দুর দাবি, 'উনি ১৫ রাউন্ড পর্যন্ত এগিয়ে ছিলেন। আমি যখন ব্যবধান কমিয়ে ৫০০ ভোটে এগিয়ে যাই, তখন উনি ছুটোছুটি শুরু করেন।'
ভবানীপুরে বিজেপির সাফল্যের পিছনে বাম ভোটের একটি বড় অংশ তাদের দিকে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, 'সিপিএমের ভবানীপুরে প্রায় ১৪ হাজার ভোট ছিল। সেখান থেকে ১০ হাজার ভোট আমাদের দিকে এসেছে।' পাশাপাশি রাজস্থানের বিজেপি বিধায়কদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। তাঁর দাবি, 'ওঁরা ভবানীপুর নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন। আমার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন।' গুজরাত থেকে আসা বিজেপি পরামর্শদাতাদেরও ধন্যবাদ জানান।
ঐতিহাসিক জয়। তবে এখনই বিশ্রাম নিতে নারাজ শুভেন্দু। সোমবার রাতেই হলদিয়ায় যাচ্ছেন বলে জানালেন। সেখানে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের জয়ের শংসাপত্র নেওয়ার কথাও বলেন। উল্লেখ্য, ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেও লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।