
প্রথম দফা নির্বাচনের আগে আজ শেষ রবিবার। ফলে আজ ফুল মাইলেজে প্রচার শুরু করতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে সব রাজনৈতিক দলগুলিই। শনিবার ফের রাজ্যে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ তিনি প্রচার সারবেন চারটি জায়গায়। এদিন দক্ষিণবঙ্গে মূলত জঙ্গলমহল এলাকায় ৪টি জনসভা করবেন মোদী। প্রথম সভা বাঁকুড়ার বড়জোড়ায়, দ্বিতীয় সভা পুরুলিয়াতে, তৃতীয় সভা হবে ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে এবং চতুর্থ সভা হবে মেদিনীপুরের বেলদায়। অন্যদিকে, আজ ভবানীপুরে ভোটপ্রচার শুরু করে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, এদিন নন্দীগ্রামে সভা করবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
'আমাদের টুকলি করে মোদীবাবু বলছেন ২৯৪টা ভোট আমায় দিন। আরে আপনি বাংলার ভোটার নাকি?', নিশানা মমতার
এদিন মমতা বলেন, "আমরা থাকাকালীন ওয়াকফ সম্পত্তি কারও হাতে যাবে না। এটা ইমামদের সম্পত্তি। আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন।"
"ওয়াকফ ও অধিকার বাঁচাতে জোড়াফুলে ভোট দিন। এখানে কেউ আমার থেকে টিকিট চেয়েছিল। চাইতেই পারে। তাই বলে বিজেপিকে সাপোর্ট করবে? বিজেপিকে সাপোর্ট করলে আমি দলে রাখতে পারব না", মন্তেশ্বরে বললেন মমতা।
ঝাড়গ্রাম থেকে মোদী বলেন, "TMC সরকারের দুর্নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ৫০০ পরিবার সোলার প্যানেল যোজনার সুবিধা পায়। আমার সঙ্গীদের বিজয়ী করুন। মোদী গ্যারান্টি দিচ্ছে, আপনাদের প্রতি ঘরে ৮০ হাজার টাকা চলে যাবে। এখানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী আনুন। বিদ্যুতের বিল থেকে মুক্তি পাবেন।"
PM নরেন্দ্র মোদী বলেন, "এরাজ্যে সরকার কোনও কাজ করতে চায় না। TMC-এর কাছ থেকে কোনও আশা নেই। এখন ঝাড়গ্রামকে ৩টি বন্দে ভারত ও ৮টি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস দিয়ে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনও জায়গার উন্নতি করতে হলে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা দরকার। কিন্তু এখানে তা হচ্ছে না।"
নরেন্দ্র মোদী বলেন "আপনারা এখানে বিজেপির সরকার গড়ুন আলু চাষিদের সমস্যা দূর করা হবে। মাণ্ডি থেকে TMC-এর সিন্ডিকেট দূর করা হবে। ধান চাষিদেরও সমস্যার সমাধান করা হবে।"
ঝাড়গ্রামে PM সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা নিয়ে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ৫০০ পরিবার এই যোজনার সুবিধা পাচ্ছে। বিজেপি সরকার গড়লে এই যোজনার আওতায় সবাই আপনারা ৮০ হাজার টাকা পাবে। আপনারা সরকার গঠন করুন, দামি বিদ্যুৎ বিলের থেকে মুক্তি পান।"
ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়াম থেকে তৃণমূলকে নিশানা করলেন মোদী। তিনি অভিযোগ করেন, এই এলাকায় কয়েকশো একর জমি TMC-র দুষ্কৃতীরা দখল করে রেখেছে।
রবিবার ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়াম থেকে ফের একবার তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন মোদী। তিনি বলেন, "আজ বাংলার উপর নিজস্বতা হারানোর খড়্গ রয়েছে। TMC অনুপ্রবেশকারীদের সরকার বানাতে চাইছে, এমন এক সরকার যে অনুপ্রবেশকারীদের ভাষা ও ধর্ম রক্ষা করবে।"
I-PAC প্রসঙ্গে মমতার দাবি, 'আমাদের রোজই তো ইডি অভিযান করছে। ভোটের সময় কেন? আমাদের এজেন্সিগুলো যারা আমাদের পার্টির হয়ে কাজ করে, তাদের বলছে বাংলা ছেড়ে চলে যাও, কেন? তোমার তো পঞ্চাশটা আছে। আমাদের তো একটাই আছে। সকালে অভিষেকের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। আমাদের ক্ষমতা নেই। ওদের ভয় দেখালে আমাদের দলের সঙ্গে যুক্ত করব। আমরা ওদের চাকরি দেব। ওদের একটা ছেলেকেও চাকরিছাড়া করব না। সব আপনাদের চক্রান্ত। আর কত অনাচার করবেন?'
'আমার যে সিকিউরিটি দেখেন তার বাড়িও সকাল থেকে তল্লাশি করছে। আমাদের কি খুন করতে চান?', দাবি মমতার।
"আমি আলু চাষিদের জন্য আরও ভবনাচিন্তা করব। এবার ৩০-৪০ শতাংশ আলু বেশি হয়েছে। খুব ভালো। উত্তরপ্রদেশে আমাদের বস্তা থেকে বেচা বলছে ৪০ টাকা কমে বিক্রি করে। আমরা তা করি না", বললেন মমতা।
'বাজেটে কেন মেয়েদের টাকা দিলেন না? আমরা তো বাজেটে ঘোষণা করে আগেই দিয়ে দিয়েছি', বললেন মমতা।
"মহিলাদের জন্য পীড়িত, দয়ামায়া। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আমরা সবাই সমর্থন করেছিলাম। সেই মহিলা বিল আজ পর্যন্ত কার্যকরী হয়নি কেন মোদী, শাহ জবাব দাও। একটা বিল কতবার পাস হয়? তোমরা এর সঙ্গে ডিলিমিটেশন করার পরিকল্পনা করছিলে। তোমরা ৮৫০-ের বেশি লোকসভায় আসন করতে যাচ্ছিলে যাতে তোমরা ক্ষমতায় থাক। কোনওদিন মোদী সরকার মহিলা বিল আনবে না। দূরদর্শনে মিথ্যে কথা বলেছ। সরকারি মেশিনারি ব্যবহার করে কীকরে রাজনৈতিক প্রচার করেন?" প্রশ্ন মমতার।
নির্বাচনী ইশতেহারে বিজেপির প্রতিশ্রুতিগুলির উল্লেখ করেন মোদী। বলেন, ‘মেয়েদের প্রতি বছর ৩৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড আমরা এনেছি। এ ছাড়া, বাংলার বিজেপি আপনাদের ছোট ছোট চাহিদার খেয়াল রেখেছে। গর্ভাবস্থায় মেয়েরা ২১ হাজার টাকার সহায়তা পাবেন। শিক্ষার বিস্তারে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। ৭৫ লক্ষ মহিলার আয় যাতে এক লক্ষ টাকার বেশি হয়, তা নিশ্চিত করবে বিজেপি সরকার।’ মহিলা বিল নিয়ে মোদী বলেন, ‘সংসদে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলাম। তৃণমূল সেটা চায় না। তাই সংরক্ষণের বিরোধিতা করেছে তারা। ভোট দেওয়ার সময় আপনাদের এই অপরাধের সাজাও তৃণমূলকে দিতে হবে।’
মোদী বলেন, ‘সমস্যা ছাড়া তৃণমূল আর কিছু দেয়নি মানুষকে। পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব ভয়ানক বেড়ে গিয়েছে। এটা খুব বড় সঙ্কট। তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজ এর জন্য দায়ী। ওরা শিক্ষকদের নিয়োগ লুটে নিয়েছে। হাজার হাজার যুবক-যুবতীকে ধোঁকা দিয়েছে। কাটমানি ছাড়া এখানে কোনও কাজই হয় না! কাটমানি দিতে হলে শিল্প কোত্থেকে আসবে? তাই এখানে শিল্প বেহাল। তাই আমি বলি, আর কাটমানির খেলা চলবে না। মাফিয়াদের মেলা চলবে না।’
মোদী বলেন, ‘তৃণমূলের জঙ্গলরাজে আদিবাসী জেলা পিছিয়ে যাচ্ছে। রাস্তা, জল, স্কুল— সব বেহাল। আদিবাসীদের জমিতে আদিবাসীদের নিয়ন্ত্রণ নেই! তৃণমূলের সিন্ডিকেট সব চালাচ্ছে। অবৈধ খননের কালোবাজারি চরমে পৌঁছেছে। এখানে অযোধ্যা পাহাড় আছে, সীতাকুণ্ড রয়েছে। কিন্তু সীতাকুণ্ডের এই মাটিকে তৃণমূল জলের জন্য তৃষ্ণার্ত করে তুলেছে। কৃষকেরাও হয়রান। কত প্রকল্প এখানে আটকে আছে। নির্মম সরকার শুধু লুটে যাচ্ছে। লুটেরাদের বাঁচাচ্ছে।’
মোদীর মুখে জল সমস্যা। পুরুলিয়ায় তৃণমূলের সরকারকে নির্মম সরকার হিসেবে আক্রমণ। ক্ষেতে জল পৌঁছে যাবে বিজেপি এলে, আশ্বাস দিলেন মোদী। বিজেপি তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজ শেষ করবে।
এবার বিজেপির সরকার তৈরি হবে। পুরুলিয়া থেকে বড় দাবি মোদীর। আদিবাসীদের জন্য কাজ করেছে বিজেপি। বললেন মোদী। আদীবাসী মুখ্যমন্ত্রী আমরাই বানিয়েছি।
মোদী বলেন, "আলু চাষিদের সঙ্গে অত্যন্ত অন্যায় করা হচ্ছে। মাণ্ডিতে যতদিন TMC-র সিন্ডিকেট থাকবে, ততদিন কৃষকদের শোষণ হবে। আপনারা পদ্ম ফুল ফোটান, আর BJP এই সিন্ডিকেটের পারমানেন্ট সার্জারি করবে। বাংলাতেও রোজগার মেলা করা হবে, যুবকদের ভাতাও দেওয়া হবে আবার সময় মতো সরকারি শূন্যপদ প্রকাশ করা হবে। রোজগার মেলা থেকে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।"
PM মোদী এদিন বলেন, বাঁকুড়া শিল্পের এলাকা। এখানে নানা মন্দিরে, স্থাপত্যে কারুকার্য শিল্প দেখা যায়। এই ধরনের লোকের জন্য কেন্দ্র পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা চালু করেছে।
নরেন্দ্র মোদী এদিন সভামঞ্চ তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন তৃণমূলের গরিব পরিবারের সমস্যাতে কোনও যায় আসে না।
নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘‘তৃণমূল কুড়মিদের কথা শোনে না। অনুপ্রবেশকারীদের কথা শোনে। নিজের ভোটব্যাঙ্ক সংবিধানের বিরুদ্ধে গিয়ে নিশ্চিত করতে চায়। হাই কোর্ট বার বার বলছে, এ সব চলবে না। মহাজঙ্গলরাজ কোর্টের কথাও শোনে না। মহিলাদের সংরক্ষণের জন্য কোর্ট আইন করেছে। আর দেরি করা চলবে না।। কিন্তু তৃণমূল তা চায় না।’’
মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড নিয়ে বার্তা দিলেন PM নরেন্দ্র মোদী। এটি নিয়ে বাংলার মহিলারা খুব বেশি। এর আওতায় বছরে ৩৬ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এছাড়াও, মহিলারা আরও সুবিধা পাবেন। গর্ভবতী মহিলাদের ২১ হাজার টাকার সুবিধা দেওয়া হবে। সন্তান জন্মের পর ৫০০০ টাকা দেওয়া হবে। লাখপতি দিদি অভিযানের সঙ্গে মহিলাদের জোড়া হবে। চাষের সঙ্গে যারা যুক্ত তাঁরা আলাদা করে ৯০০০ টাকা করে পাবেন। বলেও জানালেন মোদী।
বাংলার সুরক্ষা, মা-বোনেদের সম্মান -বিজেপির প্রাথমিক লক্ষ্য বলে জানালেন PM মোদী। তিনি বলেন, "বিজেপি রাজ্যগুলিতে মহিলাদের যে সুবিধা দেওয়া হয়, তা বাংলায় মহিলারা পান না।" এপ্রসঙ্গে অসমের উদাহরণ দেন মোদী।
বাংলায় জঙ্গলরাজ চলছে বলে তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বড়জোড়ার সভা থেকে তৃণমূলকে নিশানা করলেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, "আমি চাই বিকশিত ভারত তৈরি করতে মহিলাদের বিস্তার হোক। রাজনীতিতেও বেশি মহিলারা এগিয়ে আসুক। কিন্তু আপনারা দেখেছেন সংসদে কী হয়েছে... TMC বাংলার বোনেদের সঙ্গে আরও একটি ধোঁকা দিয়েছে। বাংলার মেয়েরা চাইছিল ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ হোক। কিন্তু TMC এটা চায়নি। TMC চায়নি বাংলার মেয়েরা বেশি সংখ্যক বিধায়ক ও সাংসদ হোক। তাই TMC কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে যড়যন্ত্র করেছে। তাই মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন সুরক্ষিত করার আইন তৈরি হতে দেয়নি।"
রবিবার সকাল ১১টার পরেই বাঁকুড়ার বড়জোড়ার ফুলবেড়িয়া গ্রাউন্ডে সভামঞ্চে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আজ রবিবার সকাল ১১টায় শীতলকুচিতে জনসভা করবেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং রাসায়নিক ও সার মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা। এরপর দুপুর আড়াইটায় জলপাইগুড়িতে রোড শো রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজ তিনটি প্রচার কর্মসূচি রয়েছে রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপে একটি জনসভা করবেন তিনি। তার পরে যাবেন নন্দীগ্রামে। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের সমর্থনে একটি সভা করবেন তিনি। পরে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে একটি রোড শো করবেন অভিষেক।
এবার নির্বাচনে ফোকাস রয়েছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই কেন্দ্রে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছেন। এতদিন এখানে প্রচারে দেখা যায়নি মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে। তবে রবিবার থেকে ভবানীপুরেও কর্মসূচি শুরু করছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার মহারাষ্ট্র নিবাস হলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সর্ব স্তরের মানুষের সমন্বয়ন ক্রমসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
রবিবার রাজ্যে চারটি জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর প্রথম সভাটি রয়েছে বাঁকুড়ার বড়জোড়ায়। এদিন সকাল ১০টায় ফুলবেড়িয়া ফুটবল গ্রাউন্ডে সভা করবেন মোদী।