
১৫ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল। তৃণমূলকে কার্যত পদর্যুস্ত করে জয়ী হয়েছে বিজেপি। সোমবার দুপুরের পর থেকে ট্রেন্ড স্পষ্ট হতেই খুশির ভেলায় ভাসছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা। তবে তারপরেই বাংলাজুড়ে উঠছে একাধিক অশান্তির অভিযোগ। কলকাতা, বীরভূম, হাওড়া ও বরানগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সংঘর্ষ ও অশান্তির খবর পাওয়ার গিয়েছে। TMC-এর তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, বীরভূমের নানুরে বিজেপি কর্মীরা তাঁদের এক কর্মীকে কুপিয়ে খুন করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিওতে, দেখা গিয়েছে TMC-র একাধিক পার্টি অফিস ভাঙচুর করছে জনতা। সোমবার গভীর রাতে আচমকাই একদল লোক বুলডোজার নিয়ে চড়াও হয় নিউ মার্কেটের হগ মার্কেটেও। সেখানে প্রাক্তন শাসক দলের একটি পার্টি অফিস ভাঙার পাশাপাশি একাধিক দোকান ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। মধ্যরাতের এই তান্ডবের জেরে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জনবহুল এই এলাকায় যেখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশের নজরদারি থাকে, সেখানে কীভাবে একটি আস্ত বুলডোজার এনে অফিস ভাঙার দুঃসাহস দেখানো হলো, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন ওঠে। হিংসার ঘটনা রুখতে সক্রিয় রয়েছে পুলিশ।
বুধবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে DGP সিদ্ধনাথ গুপ্তা বলেন, '২০০-র বেশি FIR দায়ের করা হয়েছে। ৪৩৩ জনকে একাধিক ঘটনার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রায় ১১০০ জনকে নানা আশঙ্কার কারণে আগাম গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ সকাল থেকে আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।'
আনন্দপুরের পূর্বপাড়ায় তৃণমূল কর্মীর বাড়ি থেকে তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার। তৃণমূলকর্মার নাম নারায়ণ রঞ্জিত। ৩ মে শেষবার তাকে দেখা গিয়েছিল।
ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় গত ২ দিনে আসানসোলে গ্রেফতার ২০০ জন। গত ৪৮ ঘণ্টায় তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকটি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা থেকে শুরু করে হামলার ঘটনার অভিযোগ এসেছে। এরপরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) যৌথ অভিযান শুরু করেছে।
আজ বুধবার বিজয়ী বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করবেন পশ্চিমঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। সূত্রের খবর, কালীঘাটের বাড়িতে এই বৈঠক হবে।
ফল ঘোষণা হতেই রাজ্যের একাধিক এলাকা থেকে ভোট পরবর্তী হিংসার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। কলকাতাতেও নিউ মার্কেটের হগ মার্কেটের মতো এলাকায় তৃণমূলের পার্টি অফিস বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি, রুবি এলাকাতেও ভাঙচুর চলেছে তৃণমূল অফিসে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমাগত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নড়েচড়ে বসল পুলিশ প্রশাসন। বুধবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ বলেন, 'জেসিবি নিয়ে কোনও মিছিল করা যাবে না। নির্দেশ অমান্য করলে কড়া বন্দোবস্ত নেওয়া হবে। জেসিবি মালিকদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হবে।'
৯ মে অর্থাত্ রবীন্দ্রনাথের জন্মজয়ন্তী ২৫শে বৈশাখে নতুন সরকার শপথ নেবে বাংলায়। বাংলায় পরিবর্তন শুধু ক্ষমতায় হল না, পরিবর্তন ঘটছে কালীঘাটেও। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে যে নিশ্ছিদ্র পুলিশি দুর্গ ছিল, তা হঠে গেল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শান্তিনিকেতন’ বাসভবন থেকে নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাড়ির বাইরে থেকে সেই সংক্রান্ত দৃশ্যও সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে তৃণমূলের কার্যালয়ে আগুন লাগানো হয়। পুড়ে ছাই হয়ে যায় আসানসোল উত্তর কেন্দ্রটি। পাশে থাকা কেকের দোকান আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিউ টাউনে বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কমল মণ্ডল গ্রেফতার। বাংলাদেশে পালাতে গিয়ে সীমান্ত এলাকা গোপালনগর থেকে ভোর রাতে কমল মণ্ডলকে গ্রেফতার করে টেকনোসিটি থানার পুলিশ। তার সঙ্গে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে ভাঙা হল লেনিনের মূর্তি। এই ঘটনার ভিডিয়ো এবং ছবি ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যায়, মূর্তিটির প্রথমে মুখের অংশ ভাঙা হয়। পরে গোটা মূর্তিই বেদি থেকে উপড়ে ফেলা হয়। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরাই লেনিনের এই মূর্তিটি ভেঙেছে। সেখানে নতুন করে শিবাজি বা গোপাল পাঁঠার মূর্তি বসানো হবে বলে দাবি করেছেন বিজেপি সমর্থকরা। এদিকে অভিযোগ করা হচ্ছে, ঘটনার সময় আশপাশে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও ভাঙচুর রুখতে তৎপরতা দেখা যায়নি। যদিও ভারতীয় জনতা পার্টি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপি বলছে, এই ঘটনায় তাদের কর্মী বা সমর্থকদের কোনও ভূমিকা ছিল না। দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচন-পরবর্তী উদযাপনের সময় বিভিন্ন গোষ্ঠীর লোকজন উপস্থিত ছিল এবং অজ্ঞাত ব্যক্তিরা এর জন্য দায়ী হতে পারে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।
নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভাবে মিটলেও বাংলায় ভোট পরবর্তী অশান্তি কমছে না। গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমপক্ষে ৩ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ৪ মে রাতে। অভিযোগ এক TMC কর্মীকে খুন করা হয়। অভিযোগের তীর বিজেপির কিছু কর্মীর দিকে। মঙ্গলবার ৫ মে বীরভূমের নানুরে আরও এক TMC কর্মীকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, নিউটাউনে এক বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত ভোট পরবর্তী হিংসায় ৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানালেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। তিনি বলেন, 'জেসিবি নিয়ে কোনও মিছিল করা যাবে না। নির্দেশ অমান্য করলে কড়া বন্দোবস্ত নেওয়া হবে। জেসিবি মালিকদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হবে।'
পশ্চিমবঙ্গে গুলিবিদ্ধ ৩ জন পুলিশ কর্মী ও ২ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। তাঁদের উপর কারা হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।