Advertisement

ভোটের দিন গোলমাল পাকাতে পারে? সামিম, জাহাঙ্গির সহ 'টার্গেট লিস্টে' একাধিক TMC নেতা

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কায় এক বিস্তৃত ‘টার্গেট লিস্ট’ বা নজরদারি তালিকা তৈরি করেছে কমিশন।

Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 28 Apr 2026,
  • अपडेटेड 1:02 PM IST
  • দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে।
  • নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া হচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কায় এক বিস্তৃত ‘টার্গেট লিস্ট’ বা নজরদারি তালিকা তৈরি করেছে কমিশন।

সূত্রের খবর, গত ২৭ এপ্রিল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে রাজ্যের ডিজি-র কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রথম দফার ভোটে যে ধরনের হিংসা, ভীতি প্রদর্শন এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, তার পুনরাবৃত্তি যেন কোনওভাবেই দ্বিতীয় দফায় না ঘটে।

এই তালিকায় শুধু সাধারণ কর্মী নন, একাধিক প্রভাবশালী নেতার নামও রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা কমিশনের বিশেষ নজরে। মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী সামিম আহমেদ এবং ফলতার নেতা জাহাঙ্গির খানের নাম আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, এঁদের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানো বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও সন্দেশখালির শেখ শাহজাহান, শিবপ্রসাদ হাজরা, বসিরহাটের বারিক বিশ্বাস ও সাহানুর মণ্ডলের নামও এই তালিকায় রয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এঁদের গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি চালাতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রথম দফার নির্বাচনে যেখানে প্রায় ২০০০ জনকে সতর্কতামূলক গ্রেফতার করা হয়েছিল, সেখানে দ্বিতীয় দফার আগে সেই সংখ্যা ইতিমধ্যেই ২৩০০ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮০৯ জনকে আটক করা হয়েছে। ভোটের আগে এই সংখ্যা আড়াই হাজার ছুঁতে পারে বলেই অনুমান।

কমিশনের নির্দেশে ‘অ্যানেক্সচার-এ’ ও ‘অ্যানেক্সচার-বি’ নামে দুটি পৃথক তালিকা পাঠানো হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য গোলমালকারীদের নাম, এলাকা এমনকি যোগাযোগের তথ্যও দেওয়া রয়েছে। স্থানীয় থানাগুলিকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশন আরও জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে এফআইআর দায়ের, প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন, সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের প্রসঙ্গ টেনে পুলিশকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তারা স্বাধীনভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে।

Advertisement

প্রথম দফার ভোটে ভাটপাড়াকুমারগঞ্জে বোমাবাজি এবং প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার পর থেকেই কমিশন আরও সতর্ক হয়েছে। তাই দ্বিতীয় দফার আগে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কড়া পদক্ষেপ শাসকদলের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, তা বোঝা যাবে ভোটের দিন পরিস্থিতি দেখে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement