
একদা এই এলাকাকে বলা হত পশ্চিমবঙ্গের অক্সফোর্ড। শিক্ষা, সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র ছিল। পণ্ডিতদের একাধিক টোল। উচ্চমানের সংস্কৃত চর্চা। সংস্কৃত জানা পণ্ডিতদের ভিড়। শুধু সংস্কৃতই নয়, আইন,দর্শন, আয়ুর্বেদ চর্চাও হত। লোকে সে সময় ভট্টপল্লি বলত। পরে তা হয়ে যায় ভাটপাড়া। আবার ভাটপাড়া কালীপুজোর জন্যও বিখ্যাত। নৈহাটি অঞ্চলে একাধিক কালীপুজো হয়। এই প্রথাও প্রাচীন। শোনা যায়, একসময় মধু, গৌরী বেদের মতো বাংলার কুখ্যাত ডাকাতরা বড় বড় কালীপুজো করত ওই অঞ্চলে। সেখানে নরবলিরও চল ছিল। সেই সব ইতিহাস পেরিয়ে ভাটপাড়া বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি অন্যতম নাম। ব্রিটিশ আমলেই ভাটপাড়া পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হয়ে ওঠে। এখনও একাধিক পাট কা...
একদা এই এলাকাকে বলা হত পশ্চিমবঙ্গের অক্সফোর্ড। শিক্ষা, সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র ছিল। পণ্ডিতদের একাধিক টোল। উচ্চমানের সংস্কৃত চর্চা। সংস্কৃত জানা পণ্ডিতদের ভিড়। শুধু সংস্কৃতই নয়, আইন,দর্শন, আয়ুর্বেদ চর্চাও হত। লোকে সে সময় ভট্টপল্লি বলত। পরে তা হয়ে যায় ভাটপাড়া। আবার ভাটপাড়া কালীপুজোর জন্যও বিখ্যাত। নৈহাটি অঞ্চলে একাধিক কালীপুজো হয়। এই প্রথাও প্রাচীন। শোনা যায়, একসময় মধু, গৌরী বেদের মতো বাংলার কুখ্যাত ডাকাতরা বড় বড় কালীপুজো করত ওই অঞ্চলে। সেখানে নরবলিরও চল ছিল। সেই সব ইতিহাস পেরিয়ে ভাটপাড়া বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি অন্যতম নাম। ব্রিটিশ আমলেই ভাটপাড়া পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হয়ে ওঠে। এখনও একাধিক পাট কারখানা রয়েছে। আবার কিছু বন্ধও হয়ে গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার এই বিধানসভা কেন্দ্র তৈরি হয় ১৯৫১ সালে। ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের আওতায়। ভাটপাড়া পুরসভা বাংলার অন্যতম প্রাচীন পুরসভাগুলির মধ্যে অন্যতম। একেবারে কলকাতা লাগোয়া। কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির আওতায় পড়ে। এখনও পর্যন্ত ১৮টি নির্বাচনের সাক্ষী ভাটপাড়া। ২০১৯ সালের উপনির্বাচন সহ। এই কেন্দ্র তৈরি হওয়ার পর প্রথম ৫ দশক, কংগ্রেস ও বামেরা জিতেছে। দুই দলই ৬ বার করে জয়ী হয়েছে। ২০০০ সালের পর থেকে ভাটপাড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের দাপট শুরু হয়। ২০০১ ও ২০১৬-র মধ্যে ৪ বার জয়ী হন এলাকার শ্রমিকনেতা হিসেবে খ্যাত অর্জুন সিং। ২০১৯ সালে অর্জুন সিং তৃণমূল ছেড়ে বিজপি-তে যোগ দেন। ব্যারাকপুর লোকসভা আসনে উপনির্বাচন হয়। অর্জুনের ছেলে বিজেপি প্রার্থী পবন সিং তৃণমূল কংগ্রেসের মদন মিত্রকে ২৩ হাজার ১০৪ ভোটে হারিয়ে দেন। ২০২১ সালেও পবন জিতে যান। ভাটপাড়ায় অর্জুন সিংয়ের হাত ধরেই মূলত বিজেপির এন্ট্রি বলা যেতে পারে। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে যেখানে এই কেন্দ্রে মাত্র ২ হাজার ৫১৫টি ভোট পেয়েছিল বিজেপি, ২০১৯ সালে লিড বেড়ে হয়ে যায় ২৯হাজার ৭০৭। ২০২৪ সালে আবার কমে যায়, ১৭ হাজার ৪৬৩ ভোট। যদিও ২০১৪ বা ২০২৪, দুটি নির্বাচনেই ব্যারাকপুর লোকসভায় জিততে পারেনি বিজেপি। ২০২১ সালে ভাটপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে মোট নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ১,৫৪,০৩৭ জন। ২০১৯ সালের তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে, তখন ভোটার সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ১৬৪। এখানে মোট ভোটারের মধ্যে মুসলিম ভোটার প্রায় ২৩.৪০ শতাংশ। তফসিলি জাতির ভোট ৮.৮৪ শতাংশ এবং উপজাতির ভোট ১.১১ শতাংশ। সম্পূর্ণভাবে শহুরে একটি কেন্দ্র হিসেবে ভাটপাড়া গ্রাফে নামছে ভারতের অনেক শহুরে কেন্দ্রের মতোই, ভোটদানে অনীহা বাড়ছে প্রতি নির্বাচনে। ২০১৬ সালে ভোট পড়েছিল ৭৫.০২ শতাংশ, ২০১৯-এ তা কমে দাঁড়ায় ৭২.৯৯ এবং ২০২১-এ আরও কমে ৬৯.৫৮ শতাংশে নেমে আসে। শিল্পনগরীর উত্থান-পতন ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত ভাটপাড়া ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। বিশেষ করে পাটকল শিল্প এই অঞ্চলের জীবন ও অর্থনীতির প্রধান উৎস ছিল। কাজের খোঁজে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক এখানে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং তাঁদের থেকেই গড়ে ওঠে ভাটপাড়ার উল্লেখযোগ্য হিন্দিভাষী জনসমাজ। আজও এই জনসংখ্যাই বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী ভোটভিত্তি হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে পাটকলগুলির বেশিরভাগই বন্ধ। পুরনো শিল্পের জায়গায় গড়ে উঠেছে ছোট ছোট উৎপাদন ইউনিট ও ব্যবসা কেন্দ্র। অর্থনীতি আজ মূলত খুচরো ব্যবসা, পরিষেবা খাত ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। ভূগোল ও যোগাযোগ ভাটপাড়ার পশ্চিমে হুগলি নদী এবং পূর্বে শিয়ালদা–কৃষ্ণনগর রেললাইন। পুরো অঞ্চলই সমতল এবং ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকা। নদী যেমন এই এলাকার শিল্প ইতিহাস তৈরি করেছে, তেমনই গড়ে তুলেছে সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার নিজস্ব ছাপ। যোগাযোগ ব্যবস্থাও বেশ উন্নত। শিয়ালদা–রানাঘাট লাইন ধরে সহজেই কলকাতা সহ আশেপাশের শহরে যাতায়াত সম্ভব। ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোড বা বিটি রোড ভাটপাড়াকে সড়কপথেও ভালভাবে যুক্ত করে। জেলা সদর বারাসত এখান থেকে প্রায় ৩৫ কিমি দূরে, আর কলকাতা মাত্র ২৫ কিমি। কাছাকাছি নৈহাটি (৫ কিমি), কাঁচরাপাড়া (৮ কিমি), হালিশহর (৬ কিমি)। নদীর ওপারে হুগলি জেলার চন্দননগর প্রায় ১০ কিমি দূরে। ২০২৬ বিধানসভা ভোট: মাঠে নামার আগেই এগিয়ে বিজেপি ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে ভাটপাড়া সেই কয়েকটি কেন্দ্রের মধ্যে একটি, যেখানে শুরুতেই বিজেপির সংগঠন এবং ভোট-সমীকরণ তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে। বিশেষ করে হিন্দিভাষী শ্রমিক জনগোষ্ঠীর ওপর বিজেপির প্রভাব আরও বেড়েছে ২০২১ সালে দিনেশ ত্রিবেদীর যোগদানের পর। তিনবার করে লোকসভা ও রাজ্যসভায় সাংসদ থাকা ত্রিবেদী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং সেই ঘটনার প্রতীকী গুরুত্ব এখনও প্রবল। তৃণমূলের কঠিন অঙ্ক ২০২৬ সালে ভাটপাড়া কেন্দ্রে জিততে হলে, তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ একটি প্রভাবশালী হিন্দিভাষী মুখ তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কংগ্রেস–বামফ্রন্ট জোট পুনরুজ্জীবিত হলে মুসলিম ভোটের একটি অংশ সরে যেতে পারে, যা তৃণমূলের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
Jitendra shaw (jitu)
AITC
Dharmendra shaw
INC
Nota
NOTA
Vinod kishor verma
IND
Ajay kumar ram
BSP
Sabari chowdhury
IND
Partha bhattacharyya
SUCI
Muneel kumar rajak
IND
Uday veer choudhury
IND
Jitendra shaw (jitu)
IND
Rumesh kumar handa
BJP
Nota
NOTA
Gopal raut
IND
Partha bhattacharyya
SUCI
Dharmendra singh
IND
Shatrughna singh
IND