কলকাতার নিউ মার্কেট যা হগ মার্কেট নামেও পরিচিত, সোমবার গভীর রাতে আচমকাই একদল লোক বুলডোজার নিয়ে চড়াও হয় ওই এলাকায়। সেখানে ভাঙচুর চালানো হয়। কয়েকটি পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউ মার্কেট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে ততক্ষণে বুলডোজার ফেলে চম্পট দিয়েছে হামলাকারীরা। মধ্যরাতের এই তান্ডবের জেরে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জনবহুল এই এলাকায় যেখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশের নজরদারি থাকে, সেখানে কীভাবে একটি আস্ত বুলডোজার এনে অফিস ভাঙার দুঃসাহস দেখানো হলো, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, রাত তখন বারোটার কাঁটা পেরিয়েছে। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে হগ মার্কেট এলাকা। দেখা যায়, একটি বুলডোজার সরাসরি ধাক্কা মারছে একটি ঘরে। স্থানীয়রা জানায় সেটি তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়। হামলাকারীদের পরিচয় পরিষ্কার না হলেও, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই কাণ্ড বলে অভিযোগ জোড়াফুল শিবিরের।
এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘাসফুল শিবিরের ইউনিয়ন অফিস ও পার্টি অফিসগুলো আক্রমণের নিশানায় রয়েছে। কিন্তু কলকাতার হেরিটেজ তকমা পাওয়া নিউ মার্কেট বা হগ মার্কেটের মতো এলাকায় এই ধরনের ‘বুলডোজার হামলা’ বেনজির। অভিযোগের তির সরাসরি বিজেপির দিকে উঠলেও গেরুয়া শিবির তা অস্বীকার করেছে। তাদের পাল্টা দাবি, এটি শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল।
শহর কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এই এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি। পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে হগ মার্কেটের প্রবেশপথে। বাজারের স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হলেও ব্যবসায়ীদের চোখেমুখে চাপা উদ্বেগ।
দোষীদের খুঁজে বের করতে পুলিশ তদন্তে নেমেছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। বুলডোজারটি কোথা থেকে এল এবং মাঝরাস্তায় পুলিশের নজর এড়িয়ে কীভাবে এটি বাজারে ঢুকল, তা জানতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ট্রাফিক ক্যামেরাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিধানসভায় ফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় এমন ঘটনার খবর এসেছে। শিলিগুড়িতেও এদিন তৃণমূলে পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কিছু জায়গায় বলে অভিযোগ করেছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। এছাড়াও মাথাভাঙা, গঙ্গারামপুর সহ কয়েক জায়গায় আরও গোলমালের খবর এসেছে।