সিআইএসএফ জওয়ান যোগেশের বীরত্বের চর্চায় মুখর গোটা দেশ। এক 'ভিআইপি'-কে বাঁচাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলি বিঁধেছে পায়ে, রক্তে ভিজেছে মাটি। কিন্তু কর্তব্যে অবিচল জওয়ানের কাছে নিজের প্রাণের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল সুরক্ষার দায়িত্ব।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও অদম্য মনের জোর দেখাচ্ছেন এই জওয়ান। তাঁর এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাতে সোজা হাসপাতালে হাজির হলেন দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা। খোদ বিএসএফ-এর ডিজি প্রবীণ কুমার এবং সিআইএসএফ-এর ডিজি প্রবীর রঞ্জন পৌঁছে যান জওয়ানের শয্যাপাশে। সঙ্গে ছিলেন এডিজি (উত্তর) সুধীর কুমারও।
ঘটনার সূত্রপাত উত্তরবঙ্গের এক নেতার বাড়ির সামনে। সিআইএসএফ-এর স্পেশাল সিকিউরিটি গ্রুপের কনস্টেবল (জিডি) হিসেবে সেখানে মোতায়েন ছিলেন যোগেশ। ওই ব্যক্তি ‘ওয়াই’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পান। হঠাৎই একদল দুষ্কৃতী দেশি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় চারপাশ।
হামলা চলাকালীন যোগেশ বিন্দুমাত্র ঘাবড়ে যাননি। বরং অতর্কিত এই বিপদের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান তিনি। লক্ষ্য ছিল একটাই, যাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে, তাঁর গায়ে যেন আঁচ না লাগে। সেই লক্ষ্যপূরণ করতে গিয়েই একটি গুলি এসে লাগে যোগেশের বাঁ পায়ে।
রক্তক্ষরণ শুরু হলেও পিছু হটেননি এই বীর জওয়ান। যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করেই নিজের পজিশন সামলে রাখেন তিনি। নিশ্চিত করেন যাতে সুরক্ষিত ব্যক্তিকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। তাঁর এই অতন্দ্র প্রহরার কারণেই বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।
আহত জওয়ানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে গিয়ে ডিজি প্রবীর রঞ্জন তাঁর পিঠ চাপড়ে দেন। কর্তব্যের প্রতি এই চরম নিষ্ঠা দেখে মুগ্ধ কর্তারা। বিএসএফ প্রধান প্রবীণ কুমার বলেন, “যোগেশের মতো কর্মীরাই বাহিনীর আসল সম্পদ। ওঁর সাহস নতুন প্রজন্মের কাছে উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
হাসপাতাল সূত্রের খবর, অস্ত্রোপচারের পর যোগেশ এখন স্থিতিশীল। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে বেশ কিছুদিনের বিশ্রাম প্রয়োজন। জওয়ানের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছেন আধিকারিকরা। বাহিনীর তরফে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি আবার কর্মস্থলে ফিরবেন, এই কামনাই এখন সবার মুখে।
কর্তব্য পালন করতে গিয়ে যেভাবে রক্ত ঝরিয়েছেন এই জওয়ান, তা নিয়ে নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক শোরগোল। একজন কনস্টেবল স্তরের কর্মীর সাহসিকতাকে সম্মান জানাতে খোদ ডিজি-র চলে আসাটা সাধারণ জওয়ানদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।