
মাত্র ৪ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট শেয়ারে পৌঁছতে ২৫ বছরে লেগে যেত। কোন ছকে বাজিমাত করলেন বঙ্গ বিজেপির(BJP) পর্যবেক্ষক। India Today Conclave East 2021-এ তারই খোলসা করলে কৈলাস বিজয়বর্গীয় (Kailash Vijayvargiya) । কী বললেন রাজ্য় বিজেপির (BJP) কান্ডারি ?
কেন বাংলা আলাদা বিহার, ইউপির থেকে ?
বিহার, উত্তরপ্রদেশকে হার মানায় বাংলা, রাজ্য়ে নির্বাচনী হিংসায় সবাইকে টপকে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এমনই মনে করেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। India Today Conclave East 2021-এ তিনি বলেন,আমি সংগঠন গড়়ার জন্য় অনেক রাজ্য়ে ঘুরেছি। বাংলায় যে ধরনের রাজনৈতিক হিংসা হয়, তা সবাইকে হার মানাচ্ছে। বিহার, উত্তরপ্রদেশকেও রাজনৈতিক হিংসায় হার মানাবে বাংলা। সেকারণে বাংলার নির্বাচন অন্য়দের থেকে আলাদা।
বঙ্গে কৈলাস কি বহিরাগত ?
ইতিমধ্য়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহিরাগত আখ্য়া দিয়েছে তৃণমূল। এদিন কনক্লেভে যা নিয়ে মুখ খুলেছেন কৈলাস। তিনি বলেন, ''আমরা বহিরাগত নই। আমরা শ্য়ামাপ্রসাদ মুখার্জির বাংলা বানাতে চাইছি। জনসংঘের থেকে শুরু। সেই সংগঠনের প্রথম প্রধান ছিলেন শ্য়ামাপ্রসাদ মুখার্জি।। এক দেশে দুই প্রধান দুই নিশান থাকবে না, উনিই প্রথম স্লোগান দিয়েছিলেন। কাশ্মীর থেকে ধারা ৩৭০ হটানো তাঁরই চিন্তা ছিল। এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ধারা ৩৭০ হটানো গিয়েছে। বাংলার পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চাই।
কোন ছকে বঙ্গে উত্থান বিজেপির ? ফাঁস করলেন কৈলাস
রাজ্য় রাজনীতির সাম্প্রতিক চিত্র বলছে,তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন বেশকিছু বিধায়ক, সাংসদ এমনকী মন্ত্রীও। এতদিন এই তৃণমূলের নেতা কর্মীদের সঙ্গেই সংঘর্ষ হচ্ছিল বিজেপির। নতুন করে এরা দলে যোগ দেওয়ায় , সংগঠনে নব্য বনাম আদি বিজেপির সংঘাত শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, ''আপনাকে পার্টি বড় করতে হবে। বিজেপির নীতি আদর্শের সঙ্গে কোনও পরীক্ষিত অন্য দলের নেতার যদি মত মিলে যায়, তাকে নিতে আপত্তি নেই। বাংলায় শুধু বিজেপির লোকজনকে দিয়ে ভোট লড়তে গেলে সমস্যা হত। যেখানে ৪ শতাংশ ভোট রয়েছে, সেখান থেকে সংগঠন বাড়াতে ২৫ বছর লেগে যেত। তাই আমাদের সংগঠনের আদর্শ নীতিতে বিশ্বাস করলে তার দলে আসতে আপত্তি নেই। কোনও তোলাবাজ লোক আমাদের দলে আসতে চাইলেই আসতে দিতে পারিনা। আমি দল কোনও ধর্মশালা না।
বিজেপিতে যেতে গেলে...
এই বলেই থেমে থাকেননি রাজ্য় বিজেপির অন্য়তম কান্ডারি। তাঁর কথায়, বাইরের দল থেকে কাউকে নিতে হলে স্ক্রিনিং করে নেওয়া হয়। আমরা জেলার নেতাকে জিজ্ঞাসা করি প্রথমে। নীচে অসম্মতি থাকলে আপত্তি থাকলে কথা বলা হয়। বঙ্গে সংগঠন গড়তে সব বিধানসভায় অনেকবার গিয়েছে। সংগঠনকে কীভাবে গড়তে হয় হয় তা আমি শিখেছি। আমার সঙ্গ দিয়েছেন শিবপ্রকাশজি ও অরবিন্দ মেননজি। বঙ্গে এখন তারই ফল পাচ্ছে বিজেপি।
দীনেশের পদত্যাগ প্রসঙ্গে কৈলাস
রাজ্য়সভায় তৃণমূলের সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীর পদত্যাগ প্রসঙ্গে কৈলাস বলেন, সংসদে এরকম কোনও ঘটনা আগে ঘটনা আগে ঘটেনি। দলের হিংসার সঙ্গে সম্মত হননি তাই পার্টি থেকে সংসদে দাঁড়িয়ে ইস্তফা দিয়েছেন দীনেশ ত্রিবেদী। আমার ওনার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। তবে ওনার মতো ব্যক্তিত্ব দলে এলে স্বাগত।