AI Impact Summit-এ কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভারতের ভূমিকা ও ভবিষ্যত্ বোঝালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মানুষের সঙ্গে AI কীভাবে তাল মিলিয়ে চলবে, কীভাবে ভারতবাসী তথা দেশের যুবসমাজ AI-কে ব্যবহার করবে, তার রোডম্যাপ দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদীর কথায়, 'AI-কে গণতান্ত্রিক ভাবে ব্যবহার করতে হবে। একে ক্ষমতায়নের মাধ্যম হিসেবে বানাতে হবে। এআই-এর কম্যান্ড মানুষের হাতে রাখতে হবে। জিপিএস আমাদের রাস্তা দেখায়, কিন্তু আমরা কোন দিকে যাবো, তা আমরাই ঠিক করি। এআই আজ আমরা যেভাবে ব্যবহার করব, তেমনই আমাদের ভবিষ্যত্ নির্ধারিত হবে।'
ভারতে হিউম্যান-সেন্ট্রিক AI ইকোসিস্টেম বানানোর উপরেই মূলত জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থাত্ AI মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করবে না, মানুষ AI-কে নিয়ন্ত্রণ করবে। স্টিয়ারিং থাকবে মানুষের হাতে। ভারতের AI রোডম্যাপ নিয়ে মোদী 'MANAV' ভিশন বোঝালেন।
তাঁর কথায়, 'কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাকে গণতান্ত্রিক করতে হবে আমাদের। আমরা যা দেখছি, তা শুধু শুরুর সঙ্কেত। মানুষের সামর্থকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। অতীতে নতুন প্রযুক্তির প্রভাব পেতে কয়েক দশক লেগে যেত। তাই আমাদের ভিশন যেমন বড় রাখতে হবে, তেমনই দায়িত্বশীলও হতে হবে। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, আগামী প্রজন্মের হাতে আমরা এআই-কে কীভাবে তুলে দেবো।'
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাকে কীভাবে হিউম্যান সেন্ট্রিক বানানো যায়, তার জন্য ‘MANAV’ ফ্রেমওয়ার্ক দিলেন মোদী। যার নির্যাস হল, M অর্থাত্ Moral and Ethical Systems: Ethical considerations and moral responsibility should guide AI systems, A অর্থাত্ Accountable: Governance must ensure accountability with transparent rules and oversight, N অর্থাত্ - National Sovereignty: Data generated within a country should belong to that nation and remain under its jurisdiction, A অর্থাত্ Accessible and Inclusive: AI systems should be accessible to all sections and it should be a multiplier, not a monopoly ও V অর্থাত্ Valid and Legitimate: AI must be lawful, reliable, and verifiable under the rule of law।
ভারতের এই সামিটে বিশেষ অতিথি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এছাড়াও বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনেতা, সিইওরাও অংশ নিলেন। এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ভারতের UPI সিস্টেমের ভূয়সী প্রশংসা করলেন। বললেন, '১০ বছর আগে মুম্বইয়ে রাস্তার ধারের একজন হকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারতেন না। কোনও ঠিকানা ছিল না, কোনও নথি বা কোনও অ্যাক্সেস ছিল না। আজ সেই বিক্রেতাই তাঁর মোবাইলে ইন্সট্যান্ট পেমেন্ট নিচ্ছেন। দেশের সকলের জন্য এটি ফ্রি। ভারত এমন কিছু বানিয়েছে, যা অন্য কোনও দেশ তৈরি করতে পারেনি। ১৪০ কোটি মানুষের জন্য ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করেছেন।'
শুধু ফরাসি প্রেসিডেন্টই নন, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভাও উপস্থিত ভারতের এই বিরাট ইভেন্টে। এছাড়া ভুটান, বলিভিয়া, ক্রোয়েশিয়া, এস্টোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, গ্রিস, গুয়ানা, কাজাখস্তান, মরিশাস, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্পেন, শ্রীলঙ্কা, সিসিলি, সুইত্জারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাষ্ট্রনেতারা যোগ দিলেন ভারতের এই কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার সামিটে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর কথায়, এই সামিটে ১০০র বেশি দেশের অংশগ্রহণ এবং বিশ্বজুড়ে এআই ইকোসিস্টেমের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি শুধু ভারতের জন্যই নয়, গোটা গ্লোবাল সাউথের কাছেও গর্বের বিষয়।
তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্ভাবকদের শক্তিশালী উপস্থিতি বিশেষভাবে নজরে পড়েছে। নতুন প্রযুক্তি নিয়ে শুরুতে সন্দেহ থাকলেও, বর্তমান প্রজন্ম সেই সংশয় কাটিয়ে উঠে নিজেদের হাতে ভবিষ্যতের প্রযুক্তির দায়িত্ব তুলে নিচ্ছে, এই প্রবণতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কর্পোরেট দুনিয়ায় বর্তমানে যাঁরা সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম, তাঁরাও যোগ দিলেন সামিটে। গুগল সিইও সুন্দর পিচাই, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি, Google DeepMind সিইও ডেমিস হাসাবিজ, অ্যান্থ্রোপিক সিইও দ্যারিও আমোদেই ও OpenAI-এর স্যাম অল্টম্যান সহ তাবড় ব্যক্তিত্বদের সমাগম দিল্লিতে।