ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন বা আইএসএস পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা বৃহত্তম গবেষণাগার। ১৯৯৮ সালে এটি তৈরি করা শুরু হয়েছিল।
আইএসএস প্রতি ৯০ মিনিটে একবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। ফলে সেখানে থাকা মহাকাশচারীরা দিনে প্রায় ১৬ বার সূর্যোদয় এবং ১৬ বার সূর্যাস্ত দেখতে পান।
মহাকাশ স্টেশনটি ঘণ্টায় প্রায় ২৮,০০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলে। এত দ্রুত গতিতে চলার কারণেই এটি পৃথিবীর মহাকর্ষকে এড়িয়ে কক্ষপথে থাকতে পারে।
সম্পূর্ণ সৌর প্যানেল মেললে আইএসএসের বিস্তার প্রায় একটি ফুটবল মাঠের সমান। এর ওজন প্রায় ৪২০ টনেরও বেশি।
২০০০ সাল থেকে আইএসএসে মানুষের উপস্থিতি কখনও বন্ধ হয়নি। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সেখানে ধারাবাহিক ভাবে মহাকাশচারীরা বসবাস করছেন।
মহাকাশে এক ফোঁটা জলও মূল্যবান। তাই আইএসএসে ব্যবহৃত জল পুনর্ব্যবহার করা হয়, এমনকি মহাকাশচারীদের ঘাম ও প্রস্রাব থেকেও বিশুদ্ধ জল তৈরি করা হয়।
আমেরিকা, রাশিয়া, ইউরোপ, জাপান এবং কানাডা যৌথ ভাবে আইএসএস পরিচালনা করে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও মহাকাশ গবেষণায় এই সহযোগিতা আজও বজায় রয়েছে।
আইএসএসে লেটুস, লঙ্কা-সহ বিভিন্ন উদ্ভিদের চাষ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চাঁদ বা মঙ্গলগ্রহে দীর্ঘমেয়াদি মানব বসতি গড়ার প্রস্তুতিতে এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ।
রাতের আকাশে সঠিক সময়ে তাকালে আইএসএস খালি চোখেই দেখা সম্ভব। এটি অনেক সময় আকাশে দ্রুতগতিতে চলা উজ্জ্বল তারার মতো দেখায়।
চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের জন্য বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি প্রথমে আইএসএসেই পরীক্ষা করা হয়। তাই শুধু গবেষণাগার নয়, ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশন।