
বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র অশান্তি ও বিক্ষোভ। তালিকায় ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ককে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে দলীয় অন্দরে ক্ষোভ তুঙ্গে উঠেছে। ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক জেলায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন কর্মী-সমর্থকরা, যা শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনেক বাদ পড়া বিধায়ক প্রকাশ্যে অসন্তোষ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের অনুগামীরাও সরব হয়ে উঠেছেন, কোথাও রাস্তা অবরোধ, কোথাও দলীয় কর্মসূচি বয়কটের হুঁশিয়ারি। পাশাপাশি, একাধিক কেন্দ্রে 'বহিরাগত' প্রার্থী দেওয়ার অভিযোগও নতুন করে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে।
উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙায় বর্তমান বিধায়ক রফিকুর রহমানকে টিকিট না দেওয়ায় তীব্র বিক্ষোভ দেখা যায়। স্থানীয় কর্মীরা নতুন প্রার্থীকে মানতে অস্বীকার করে রাস্তায় নামে এবং অবরোধ গড়ে তোলে। একই ছবি পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষেও, সেখানে বিদায়ী বিধায়ককে ফের প্রার্থী করার প্রতিবাদে দলের একাংশ সরব হয়েছে, এমনকি পদত্যাগের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
মন্তেশ্বরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত। প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। মেমারিতেও নতুন প্রার্থীকে ঘিরে দলীয় অনীহা স্পষ্ট, প্রচারে সেভাবে সাড়া মেলেনি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে শওকত মোল্লার আসন বদল ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তাঁর সমর্থকেরা নতুন প্রার্থীকে 'বহিরাগত' বলে আক্রমণ করেছেন। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায় টিকিট না পেয়ে বিধায়ক মনিরুল ইসলাম দল ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং নিজেকে 'বলির পাঁঠা' বলে দাবি করেছেন।
হুগলির চুঁচুড়ায় আবার উল্টো চিত্র, সেখানে বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদার টিকিট না পাওয়ায় কিছু কর্মী উল্লাসে মেতেছেন। অন্যদিকে বালাগড়ে মনোরঞ্জন ব্যাপারীও অসন্তোষ প্রকাশ করে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি আগেই অনুমান করেছিলেন।
সব মিলিয়ে, প্রার্থী বদলের কৌশল যে তৃণমূলের জন্য একদিকে যেমন রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে, অন্যদিকে তেমনি দলীয় অন্দরে বড়সড় চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, এই ক্ষোভ প্রশমনে নেতৃত্ব কতটা সফল হয় এবং তার প্রভাব ভোটের ফলাফলে কতটা পড়ে।