
খণ্ডঘোষ পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান সদর দক্ষিণ মহকুমায় অবস্থিত। এটি একটি তফসিলি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। পুরো খণ্ডঘোষ ব্লক এবং গলসি–২ ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই কেন্দ্রটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে এই কেন্দ্রের চরিত্র সম্পূর্ণ গ্রামীণ। এটি বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৫৭ সালে খণ্ডঘোষ সাময়িকভাবে নির্বাচনী মানচিত্র থেকে বাদ পড়ে। তবে ১৯৬২ সালের নির্বাচনের আগে ফের এই কেন্দ্রটিকে সক্রিয় করা হয়। এখন পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ১৬টি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম তিনটি নির্বাচনে কংগ্রেস জয়ী হলেও পরে সিপিআই(এম) প্রাধান্য পায়। সিপিআই(এম) এখানে মোট ৯ বার জিতেছে। যার মধ্যে ১৯৭৭ থেকে...
খণ্ডঘোষ পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান সদর দক্ষিণ মহকুমায় অবস্থিত। এটি একটি তফসিলি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। পুরো খণ্ডঘোষ ব্লক এবং গলসি–২ ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই কেন্দ্রটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে এই কেন্দ্রের চরিত্র সম্পূর্ণ গ্রামীণ। এটি বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৫৭ সালে খণ্ডঘোষ সাময়িকভাবে নির্বাচনী মানচিত্র থেকে বাদ পড়ে। তবে ১৯৬২ সালের নির্বাচনের আগে ফের এই কেন্দ্রটিকে সক্রিয় করা হয়। এখন পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ১৬টি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম তিনটি নির্বাচনে কংগ্রেস জয়ী হলেও পরে সিপিআই(এম) প্রাধান্য পায়। সিপিআই(এম) এখানে মোট ৯ বার জিতেছে। যার মধ্যে ১৯৭৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত টানা আটবার জয় উল্লেখযোগ্য। কংগ্রেস চারবার জিতেছে। ১৯৬৯ সালে Samyukta Socialist Party একবার জয়ী হয়। তৃণমূল কংগ্রেস এখন পর্যন্ত দু’বার জিতেছে।
২০১১ সালে সিপিআই(এম)-এর নবীনচন্দ্র বাগ তৃণমূল কংগ্রেসের অলক কুমার মাজিকে ১৩,১৪৭ ভোটে পরাজিত করেন। টানা তিনবার সিপিআই(এম)-এর কাছে হারার পর তৃণমূল কংগ্রেস কৌশল বদলায়। ২০১৫ সালে নবীন বাগ তৃণমূলে যোগ দেন এবং নতুন দলের হয়ে দু’বার জয়ী হন। ২০১৬ সালে তিনি সিপিআই(এম)-এর অসীমা রায়কে ৩,২০২ ভোটে হারান। ২০২১ সালে তিনি বিজেপির বিজন মণ্ডলকে ২০,৮৮৬ ভোটে পরাজিত করেন। এ সময় থেকে সিপিআই(এম) কার্যত ম্লান হয়ে যায় এবং তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিজেপি উঠে আসে।
লোকসভা নির্বাচনে খণ্ডঘোষ বিধানসভা অংশের ভোটের ধারা একই ছবি তুলে ধরে। তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধি এবং বিজেপির উত্থান যেন এখানকার বর্তমানচিত্র। ২০০৯ সালে সিপিআই(এম) তৃণমূলের চেয়ে ৩২,৫১৭ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে সেই চিত্র পাল্টে যায়; তৃণমূল সিপিআই(এম)-এর চেয়ে ২২,৬৫১ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০১৯ ও ২০২৪ সালে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেও তৃণমূল যথাক্রমে ৩০,৯৯৪ ও ৩৭,৬৪৬ ভোটে এগিয়ে ছিল।
২০২৫ সালের SIR প্রক্রিয়ার পর খণ্ডঘোষে ভোটার সংখ্যা ৬,৪১৭ কমেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার ২,৪৩,৭৫৯ জন, যা ২০২৪ সালের ২,৫০,১৭৬ জন থেকে কম। পূর্বে ২০২১ সালে ছিল ২,৪২,৭৩০; ২০১৯ সালে ২,৩৪,৮৩৪; ২০১৬ সালে ২,২০,৪৭৩ এবং ২০১১ সালে ১,৯৪,৯২২ জন। ভোটারদের মধ্যে তফসিলি জাতি ৪০.২৫ শতাংশ, তফসিলি উপজাতি ৪.২১ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ২৮.৬০ শতাংশ।
এটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ আসন; কোনও শহুরে ভোটার নেই। এখানে ভোটদানের হার বরাবরই বেশি। ২০১১ সালে ৯২.৮০%, ২০১৬ সালে ৮৯.১৮%, ২০১৯ সালে ৮৭.১৮%, ২০২১ সালে ৮৯.৮১% এবং ২০২৪ সালে ৮৬.৩৪%। লোকসভা নির্বাচনে ভোটের হার সামান্য কমার প্রবণতা দেখা যায়।
খণ্ডঘোষ পূর্ব বর্ধমান জেলার মধ্যভাগে দামোদর নদ অববাহিকার সমতল পলিমাটির অঞ্চলে অবস্থিত। ভূমি নিচু ও উর্বর, যা নিবিড় কৃষিকাজের জন্য উপযুক্ত। ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীর জলবৃদ্ধির সময় এলাকায় বন্যার আশঙ্কা থাকে। দক্ষিণে দামোদর এবং উত্তরে অজয় নদ প্রবাহিত, পাশাপাশি শাখানদী ও সেচখাল জলনিকাশ ও সেচব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এখানকার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। ধান, আলু, পাট, শাকসবজি ও তেলবীজ প্রধান ফসল। কিছু গ্রামীণ ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্পও রয়েছে। বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও হাটবাজারের মতো মৌলিক পরিকাঠামো বিদ্যমান। সড়ক যোগাযোগ রাজ্য সড়ক ও জেলা সড়কের মাধ্যমে ভালো। রেলযোগাযোগের জন্য নিকটবর্তী স্টেশনগুলি হাওড়া–বর্ধমান মেন লাইনে অবস্থিত; প্রধান রেলজংশন বর্ধমান জংশন প্রায় ৩০–৩৫ কিমি দূরে, যেখান থেকে কলকাতাসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল করে।
নিকটবর্তী শহরগুলির মধ্যে রয়েছে জেলা সদর বর্ধমান (৩০–৩৫ কিমি), মেমারি (২৫ কিমি), গলসি (১৫–২০ কিমি), ভাতার (৪০ কিমি), কালনা (৫০ কিমি) এবং রাজ্য রাজধানী কলকাতা (প্রায় ১০০–১২০ কিমি)। এছাড়া পশ্চিমে দুর্গাপুর (প্রায় ৬০ কিমি) এবং উত্তরে কাটোয়া ও বীরভূম জেলার বোলপুর (প্রায় ৫০ কিমি) অবস্থিত।
তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ব্যবধানের জয়ের প্রেক্ষিতে ৬,৪১৭ ভোটার বাদ পড়া সংখ্যাগতভাবে খুব তাৎপর্যপূর্ণ নাও হতে পারে। এতে জয়ের ব্যবধান কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু ফলাফলে বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। বিজেপির প্রধান কৌশল হতে পারে তফসিলি জাতি ভোটারদের মধ্যে গভীর প্রভাব বিস্তার এবং তৃণমূল-বিরোধী শক্তিশালী প্রচার গড়ে তোলা। তা না হলে, SIR সত্ত্বেও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খণ্ডঘোষ কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্টতই এগিয়ে থাকবে।
Bijan mandal
BJP
Asima roy
CPI(M)
Protul biswas
BSP
Nota
NOTA
Basudeb ruidas
BMUP
Asima roy
CPM
Ashoke santra
BJP
Protul biswas
BSP
Nota
NOTA