
পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রটি জেনারেল ক্যাটাগরির। ২০০৮ সালের সীমানা নির্ধারণের আগে পর্যন্ত মন্তেশ্বর কাটোয়া লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ছিল। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে তা বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হয়ে যায়। মন্তেশ্বর ব্লকের ১০ টি ও মেমারির ৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই বিধানসভা গঠিত।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিধানসভায় এখনও পর্যন্ত ১৮ বার ভোট হয়েছে। নির্বাচন শুরুর পর থেকে এখানে একচেটিয়া বামেরা জিতত। টানা ১১ বার এখানে জিতেছে বামেরা। তার মধ্যে সিপিআই(এম) ১০ বার। ১৯৬২ সালে অবিভক্ত সিপিআই একবার জিতেছিল। কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীরা ৩ বার করে জিতেছেন। নির্দল প্রার্থী একবার।
২০১৬ সাল পর্যন্ত এই আসনে জিতত সিপিআই(এম)। ...
পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রটি জেনারেল ক্যাটাগরির। ২০০৮ সালের সীমানা নির্ধারণের আগে পর্যন্ত মন্তেশ্বর কাটোয়া লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ছিল। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে তা বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হয়ে যায়। মন্তেশ্বর ব্লকের ১০ টি ও মেমারির ৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই বিধানসভা গঠিত।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিধানসভায় এখনও পর্যন্ত ১৮ বার ভোট হয়েছে। নির্বাচন শুরুর পর থেকে এখানে একচেটিয়া বামেরা জিতত। টানা ১১ বার এখানে জিতেছে বামেরা। তার মধ্যে সিপিআই(এম) ১০ বার। ১৯৬২ সালে অবিভক্ত সিপিআই একবার জিতেছিল। কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীরা ৩ বার করে জিতেছেন। নির্দল প্রার্থী একবার।
২০১৬ সাল পর্যন্ত এই আসনে জিতত সিপিআই(এম)। তবে সেবার গড় ধরে রাখতে পারেনি তারা। আসনটি মাত্র ৭০৬ ভোটের ব্যবধানে জেতেন তৃণমূলের সজল পাঁজা। কিন্তু কয়েক মাস পরই তিনি মারা যান। সেই আসনে তাঁর ছেলে সৈকত পাঁজাকে প্রার্থী করে রাজ্যের শাসকদল। তিনিও বাম প্রার্থী ওসমান গনি সরকারকে এক লাখেরও বেশি ভোটে লিড পেয়ে পরাজিত করেন। এরপর সেখানে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে সৈকত পাঁজা বিজেপিতে যোগ দেন ও টিকিট পান। তৃণমূল সেই আসন থেকে প্রার্থী করে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে। তিনি পদ্ম প্রার্থীকে হারিয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন। তাঁকে মন্ত্রিসভার সদস্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।
বামেরা দুর্বল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই আসনে তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে শুরু করে বিজেপি। ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তারা দ্বিতীয় স্থান পায়। তবে নিজেদের শক্তি বাড়াতে থাকে ঘাসফুল শিবির। ২০১৯ ও ২০২৪ সালে তারা এই আসন থেকে লিড নেয় যথাক্রমে ২৮,০৩৬ ও ৪৫,৭৪২ ভোটের। ২০১৬ সালের উপনির্বাচনের পর গত দুবারের বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে বামেদের ভোটের হার তীব্রভাবে কমতে শুরু করে। মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ ভোট পায় তারা।
২০২১ সালে মন্তেশ্বরে ২৪২,২২৯ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। ২০১৯ সালে ২৩৩,৪৫০। সবচেয়ে বেশি মুসলিম ভোটার ৩২.৩০ শতাংশ, তারপরই রয়েছে তপশিলি জাতি। শতাংশ ২৩.৮৮। নির্বাচনী এলাকাটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ। কোনও শহুরে ভোটার নেই। ভোটারদের উপস্থিতি এখানে বরাবর বেশি। ২০২১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৬.৩৯ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৪.১৬ এবং ২০১৬ সালে ৮৭.০৬ শতাংশ।
মন্তেশ্বর পশ্চিমবঙ্গের কৃষিজ ক্ষেত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। ১৯২০ সালে এখানে ইংরেজরা দামোদর খালে সেচের সুবিধা তৈরি করেছিল। আবার ভাগীরথী নদীও এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মাটি উন্নত। সমতল ভূমি হওয়ায় এখানে ধান, পাট, সরিষা উৎপাদিত হয়। দুধ চাষও এখানকার অন্যতম জীবিকা।
মন্তেশ্বরের আশপাশের শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে কালনা, মেমরি ও কাটোয়া। সড়কপথে মন্তেশ্বরের সঙ্গে এই শহরগুলো যুক্ত। হাওড়া-বর্ধমান মূল রেল লাইনে মেমারি এবং নিগান স্টেশনের মাধ্যমে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এখানে রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে রয়েছে সরকারি স্কুল এবং স্থানীয় কলেজ।
১৯০৫ সালের দেশভাগ বিরোধী আন্দোলনে ইংরেজদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল মন্তেশ্বর। এখানকার স্থানী সমিতিগুলোকে বিপ্লবীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। ব্রিটিশ আমলে এখানে একটি পুলিশ স্টেশনও ছিল। ১৯১০ সালের পিটারসনের জেলা গেজেটে তার উল্লেখ ছিল।
কাছাকাছি শহরগুলোর মধ্যে কালনার দূরত্ব এখান থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার। ২২ কিলোমিটার দূরে মেমারি ও ৩৫ কিলোমিটার দূরে কাটোয়া। জেলার সদর শহর বর্ধমানের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। কলকাতা ১১০ কিলোমিটার দূরে। এর আশপাশে রয়েছে নদীয়া, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ। ওই সব জেলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত।
গত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপি এই আসনে ভোট বাড়ালেও এখনও এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। ছাব্বিশের ভোটে বিজেপি যদি হিন্দুদের ভোটকে একত্রিত করতে পারে তাহলে রাজ্যের শাসকদলের প্রার্থীর সঙ্গে জোর টক্কর দিতে পারেন পদ্ম প্রার্থী।
Saikat panja
BJP
Anupam ghosh
CPI(M)
Ansarul aman mondal (babu)
CPI(ML)(L)
Nasimul gani sayed
PDS
Nota
NOTA
Chaudhuri md. hedayatullah
CPM
Biswajit poddar
BJP
Khokan das
BSP
Nota
NOTA
Jagabandhu malik
MPOI
Premchand soren
JDP