
কলকাতায় বড়সড় কৌশলগত পরিবর্তন আনল তৃণমূল কংগ্রেস। শহরের ছ’টি কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করেছে দল, যার মধ্যে পাঁচটিতেই একেবারে নতুন মুখকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই নতুন তালিকায় যেমন অভিজ্ঞ রাজনীতিক রয়েছেন, তেমনই জায়গা পেয়েছেন একেবারে নতুন মুখও। বেলেঘাটা কেন্দ্রে দীর্ঘদিনের বিধায়ক পরেশ পালের পরিবর্তে প্রার্থী করা হয়েছে সাংবাদিক-রাজনীতিক কুণাল ঘোষকে। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা এবং দলীয় কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও, এই প্রথম তিনি বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে নামছেন। কুণালের কথায়, 'আমরা সকলে কর্মী। লক্ষ্য একটাই, বাংলাকে রক্ষা করা এবং বিজেপিকে জবাব দেওয়া।'
মানিকতলা কেন্দ্রে প্রয়াত সাধন পান্ডের কন্যা শ্রেয়া পান্ডেকে প্রথমবারের মতো প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেহালা পূর্ব কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী, তিনিও বিধানসভা ভোটে নতুন মুখ।
জোড়াসাঁকো কেন্দ্রে বড় চমক দিয়ে বিদায়ী বিধায়ক বিবেক গুপ্তাকে সরিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে কাউন্সিলার বিজয় উপাধ্যায়কে। দীর্ঘদিনের সংগঠক বিজয় বলেন, এই সুযোগ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ এবং মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করবেন।
এন্টালি কেন্দ্রেও একই ছবি। বহুদিনের বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার পরিবর্তে প্রার্থী হয়েছেন তাঁর ছেলে, কাউন্সিলার সন্দীপন সাহা। তিনিও প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে নামছেন এবং দলের আস্থা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে শুধু নতুন মুখই নয়, কিছু ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ নেতাদের আসন বদলও করা হয়েছে। বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় খড়দহ ছেড়ে এবার লড়বেন বালিগঞ্জ থেকে। বেহালা পূর্বের বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়কে পাঠানো হয়েছে বেহালা পশ্চিমে, আর তাঁর জায়গায় বেহালা পূর্বে আনা হয়েছে নতুন প্রার্থী।
সব মিলিয়ে, কলকাতার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে তৃণমূল। নতুন মুখ ও অভিজ্ঞতার মিশেলে দল যে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চাইছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, এই কৌশল ভোটের ময়দানে কতটা ফলপ্রসূ হয়।