
মানিকতলার ভোটচিত্রটা জানার আগে একবার মানিকতলা নামটির ইতিহাস নিয়ে একটু চর্চা করা যাক। কলকাতার প্রতিটি জায়গারই নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে। তেমনই মানিকতলারও। কলকাতার ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে জানা যায়, নবাব আলিবর্দি খাঁয়ের এক দেহরক্ষী ছিলেন, তাঁর নাম ছিল মানিকচাঁদ বসু। ভীষণ জ্ঞানী ও পণ্ডিত মানুষ ছিলেন বলে কথিত। অনেকে অবশ্য বলেন, তাঁর নাম ছিল মানিকরাম বসু। এই মানিকরাম বা মানিকচাঁদের বেশ নামডাক ছিল ওই এলাকায়। প্রচুর গরিব মানুষকে সাহায্য় করতেন। বেশ দয়ালু ছিলেন। বলা হয়, তাঁর নামেই পরবর্তীকালে ওই জায়গার নাম হয় মানিকতলা। এই সব সপ্তদশ শতকের কথা। উনিশ শতকে গোড়ার দিকে আবার স্বাধীনতা আন্দোলনে বিপ্লবীদের অন্যতম আখড়া ছিল মানিকতলা। যার নাম ছিল 'মানিকতলা গুপ্ত সঙ্ঘ'। ঋষি অরবিন্দ ঘোষে...
মানিকতলার ভোটচিত্রটা জানার আগে একবার মানিকতলা নামটির ইতিহাস নিয়ে একটু চর্চা করা যাক। কলকাতার প্রতিটি জায়গারই নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে। তেমনই মানিকতলারও। কলকাতার ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে জানা যায়, নবাব আলিবর্দি খাঁয়ের এক দেহরক্ষী ছিলেন, তাঁর নাম ছিল মানিকচাঁদ বসু। ভীষণ জ্ঞানী ও পণ্ডিত মানুষ ছিলেন বলে কথিত। অনেকে অবশ্য বলেন, তাঁর নাম ছিল মানিকরাম বসু। এই মানিকরাম বা মানিকচাঁদের বেশ নামডাক ছিল ওই এলাকায়। প্রচুর গরিব মানুষকে সাহায্য় করতেন। বেশ দয়ালু ছিলেন। বলা হয়, তাঁর নামেই পরবর্তীকালে ওই জায়গার নাম হয় মানিকতলা। এই সব সপ্তদশ শতকের কথা। উনিশ শতকে গোড়ার দিকে আবার স্বাধীনতা আন্দোলনে বিপ্লবীদের অন্যতম আখড়া ছিল মানিকতলা। যার নাম ছিল 'মানিকতলা গুপ্ত সঙ্ঘ'। ঋষি অরবিন্দ ঘোষের নেতৃত্বে চলত বিপ্লবী কার্যকলাপ। স্বাভাবিক ভাবেই ব্রিটিশদের কুনজরে ছিল। এই হল চুম্বকে মানিকতলা। মানিকতলায় কেন্দ্রের রাজনৈতিক চিত্র উত্তর কলকাতার মানিকতলা একটি অতি পরিচিত নাম। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের আওতায় পড়ে। কলকাতা পুরসভার ৮টি ওয়ার্ড মানিকতলা বিধানসভার অন্তর্গত। ১৯৫১ সালে এই কেন্দ্র তৈরি হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ১৮ বার ভোট হয়েছে, ২০২৪ সালের উপনির্বাচন সহ। একদা বামেদের একাধিপত্য ছিল। ১২ বার জিতেছিল বামেরা। বাম শরিক CPI জিতেছিল ১০ বার ও CPIM দুবার। ১৯৫২ থেলে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত টানা জয়। এরপর ২০০৬ সালে শেষবার। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে একবার জিতেছিল কংগ্রেস। তারপর থেকে শুরু তৃণমূল কংগ্রেসের দাপট। ৫ বার জিতেছে তৃণমূল। ২০১১ থেকে টানা ৪ বার। প্রথম জয় পায় ২০০১ সালে। তখন তৃণমূল কংগ্রেস নতুন একটি রাজনৈতিক দল। বছর দুয়েক বয়স। সে বার সিটিং এমএলএ পরেশ পাল যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টিতে। ২০১১ সালে তৃণমূলের প্রয়াত বিধায়ক সাধন পাণ্ডে সিপিএম প্রার্থী রূপা বাগচীকে ৩৬ হাজার ৫৫০ ভোটে হারিয়ে দেন। রূপা তখন সিটি এমএলএ ছিলেন। ২০১৬ সালেও জয়ী সাধন পাণ্ডে। ২০২১ সালে ফের রূপা বাগচীকে প্রার্থী করে সিপিএম। কিন্তু ভোট আরও কমে গেল। ২০১১ ও ২০১৬-তে বামেরা যে আসনে দ্বিতীয় স্থানে ছিল, ২০২১ সালে একেবারে তৃতীয়। উঠে এল বিজেপি। ৩৫.৬০ শতাংশ ভোট পেল। ৫০.৮২ শতাংশ ভোট পেয়ে আবার জিতল তৃণমূল। বামেদের কপালে জুটল ১০.১৬ শতাংশ ভোট। ২০২২ সালে সাধন পাণ্ডের মৃত্যুর পরে আসনটি খালি হয়ে যায়। ২০২৪ সালে উপনির্বাচনে সাধন পাণ্ডের স্ত্রী সুপ্তি পাণ্ডেকে প্রার্থী করল তৃণমূল কংগ্রেস। জিতলেন। ৬২ হাজার ৩১২ ভোটের মার্জিনে। বিজেপি-র প্রার্থী কল্যাণ চৌবে একেবারে নাস্তানাবুদ। এখনও ভোটের হাওয়া শাসকদলের দিকেই ২০০৯ সাল থেকে হওয়া চারটি লোকসভা ভোটেই মানিকতলায় তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থেকেছে। প্রথমে সিপিএম-এর বিরুদ্ধে, পরে দ্রুত বাড়তে থাকা বিজেপির বিরুদ্ধে। ২০০৯ সালে তৃণমূল এখানে ১৮,২৭২ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে লিড বেড়ে হয় ১৮,৭৮৫ ভোট। ২০১৯ সালে ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমে দাঁড়ায় মাত্র ৮৬১ ভোটে ( ০.৬০ শতাংশ ), যখন বিজেপি অল্পের জন্য এগিয়ে যেতে পারেনি। ২০২৪ সালে তৃণমূল আবার ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়, ৩,৫৭৫ ভোটে ( ২.৫০ শতাংশ ) এগিয়ে থাকে বিজেপির থেকে। অর্থাৎ ২০০৯ থেকে ২০২৪, টানা আটটি নির্বাচনেই তৃণমূল এগিয়ে মানিকতলায়। তবে বিজেপি যেভাবে ভোটের ব্যবধান কমিয়েছে, তাতে ২০২৬ বিধানসভায় লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটার সংখ্যা কমেছে, কিন্তু ভোটদানের হার স্থিরভাবে ভাল মানিকতলা পশ্চিমবঙ্গের বিরল কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি, যেখানে ভোটারের সংখ্যা কমেছে। ভবানীপুর কেন্দ্রের মতোই ভোটার সংখ্যা কমেছে এই কেন্দ্রে। ২০২১ সালে ভোটার ছিল ২,১১,২১৪, যা ২০২৪-এ কমে হয়েছে ২,১০,৪৬৪। ২০১৯ সালে মোট ভোটার ছিল ২,০১,৬৮৮। ভোটদানের হার — ২০২৪ : ৬৮.৫৩% ২০২১ : ৬২.৯৯% (সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন) ২০১১ : ৭২.৯৭% (সর্বোচ্চ) ২০১৬ : ৬৯.৭০% ২০১৯ : ৭০.৫৯% মানিকতলা মানেই পুরনো কলকাতার ঐতিহ্য ১৮৮৯ সালে মানিকতলায় East Suburban Municipality প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯২৩ সালে কলকাতা মিউনিপ্যাল অ্যাক্ট অনুযায়ী কলকাতা শহরের সঙ্গে যুক্ত হয়। এলাকাটি আজও পুরনো কলকাতার পরিবেশ ধরে রেখেছে। ঐতিহ্যবাহী বাড়ি, পুরনো বাজার এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের জন্য বিখ্যাত। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল শতাব্দী প্রাচীন মানিকতলা ঘড়ি-বাড়ি। মানিকতলা বাজারের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। বাজারটি কলকাতার সবচেয়ে পুরনো ও ব্যস্ত বাজারগুলির একটি। বিশেষ করে মাছ ও সবজির জন্য বিখ্যাত। এলাকার আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, গৌরীবাড়ি বদ্রীদাস জৈন মন্দির। দেশবন্ধু পার্ক, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান (নিকটবর্তী এলাকায়)। যাতায়াত ও যোগাযোগ মানিকতলার যোগাযোগ ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় কলকাতার মতোই সুসংগঠিত। এ পি সি রোড, বিবেকানন্দ রোড, সতীন সেন সরণি সংযোগ রাখে শ্যামবাজার, রাজাবাজার ও উল্টোডাঙার সঙ্গে। এখানে মেট্রো স্টেশন রয়েছে। গিরিশ পার্ক : ২.৫ কিমি শিয়াদা: ৩ কিমি শিয়ালদা স্টেশন : ৩ কিমি হাওড়া স্টেশন : ৪ কিমি বিমানবন্দর : ১১ কিমি এসপ্ল্যানেড : ৪ কিমি পার্ক স্ট্রিট : ৬ কিমি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল : ৮ কিমি ২০২৬-এ কঠিন লড়াইয়ের সম্ভাবনা যদিও তৃণমূল ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সব নির্বাচনে জিতেছে এবং ২০২৪-এর উপনির্বাচনেও বড় ব্যবধানে এগিয়েছে, বিজেপি খুব কাছাকাছি এসেছে। তাই সামান্য ভোট-হাওয়া বদল হলেই ২০২৬-এ প্রথমবারের মতো বিজেপি আসনটি জিততেও পারে।
Kalyan chaubey
BJP
Rupa bagchi
CPI(M)
Nota
NOTA
Nimai nath
IND
Ajay prajapati
BSP
Subir das
BMUP
Somnath das
IND
Somen das
IND
Moumita manna
IND
Tarun banerjee
SP(I)
Bablu dey
IND
Rajib majumder
CPM
Sunil roy
BJP
Nota
NOTA
Tarun banerjee
IND
Sunil roy
IND
Anup kumar dey
IND
Saikat majumder
IND