
মালদার কালিয়াচকের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ৯ ঘণ্টা ধরে ৩ মহিলা সহ ৭ বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও, পথ অবরোধ করে বিক্ষোভের ঘটনা নিয়ে এখন আলোচনা সর্বত্র। কালিয়াচকের ২ ব্লক অফিসের বাইরে বিপুল সংখ্যক মানুষের জনসমাগমের যে চিত্র চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতেই দেখা গিয়েছে গাড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি উত্তেজিত ভাবে ভাষণ দিচ্ছেন। আঙুল উঁচিয়েস, হুঁশিয়ারির সুরে তাঁর ভাষণে পড়ছে হাততালি। বহু মানুষ জড়ো হয়েছেন তাঁর ভাষণ শুনতে। যা রীতিমতো চর্চার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বলা হচ্ছে, কালিয়াচকের অশান্তির মাস্টার মাইন্ড তিনিই। কে এই ব্যক্তি?
জানা গিয়েছে, গাড়ির মাথায় উঠে যে ব্যক্তি জড়ো হওয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের সামনে বক্তব্য রাখছিলেন, তিনি মোফাক্কেরুল ইসলাম। পেশায় কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী মোফাক্কেরুল রাজনীতিবিদও বটে। ২০২১ সালে তিনি AIMIM-এর হয়ে ইটাহার কেন্দ্র থেকে বিধানসভার প্রার্থী হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ভোটের সময়েও এই মোফাক্কেরুল বেশ চর্চায় এসেছিলেন। সে সময়েও তাঁর একাধিক মন্তব্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মালদায় প্রচারে আসে যোগী আদিত্যনাথকে 'ন্যাড়া', 'গাধা'-র মতো শব্দ প্রয়োগ করে কটাক্ষ করতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে। মোফাক্কেরুল বলেছিলেন, 'উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় BJP ক্ষমতায় আসলে গোমাংস খাওয়া বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছেন। ওঁর বাপের দেশ হলে এটা আমাদের বাপের দেশ।'
এই ধরনের মন্তব্য মালদার কালিয়াচকেও করতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। গাড়ির বনেটের উপর দাঁড়িয়ে হাইকোর্টের এই আইনজীবী বলেন, 'এটা আমার বাপের দেশ, আমার বাপ এসে বললেও এই দেশ ছেড়ে যাব না। কোনও নেতা, এলাকার মুরুব্বি এসে বললেও যাব না। কোনও DM, SP এসে বললেও যাব না।'
উল্লেখ্য, SIR প্রক্রিয়ার শেষে বের হওয়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে অনেকের নাম বাদ পড়েছে। ৮টি সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষের মধ্যে ৫২ লক্ষের নামের নিষ্পত্তির কথা কমিশন জানালেও বহু ভোটারের নাম ডিলিটেড। আর এই নিয়েই প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন কালিয়াচক, মোথাবাড়ি, সুজাপুরের বাসিন্দারা।
রাজনৈতিক কারবারিদের একাংশের মতে, এই মোফাক্কেরুল ইসলামই এই প্রতিবাদীদের সংগঠিত করেছেন। তাদের একজোট করে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসে থাকা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও করার প্ল্যানও তাঁরই।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে এই মোফাক্কেরুলকে নিয়ে। অনেকের মতেই, উস্কানি দেওয়ার হোতা এই আইনজীবীই। যেভাবে তাঁকে ভাষণ দিতে দেখা গিয়েছে, যে ধরনের ভাষা প্রয়োগ করতে দেখা গিয়েছে, তা হিংসাকেই প্রোমোট করছে বলে মনে করছে অধিকাংশ। একাধিক ফেসবুক পোস্টে এই মোফেক্কারুলের গ্রেফতারির দাবি উঠেছে।