
মোথাবাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার এমন একটি কেন্দ্র যেখানে সংখ্যালঘু ভোটারদের আধিক্য রয়েছে। যদিও এটি একটি জেনারেল ক্যাটেগরির বিধানসভা কেন্দ্র। মালদা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে মোথাবাড়িও একটি। এই বিধানসভা কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে সম্পূর্ণ কালিয়াচক–২ ব্লক, পাশাপাশি কালিয়াচক–১ ব্লকের আলিনগর ও কালিয়াচক–১ গ্রাম পঞ্চায়েত। এমনিতে মোথাবাড়ির নির্বাচনী ইতিহাস তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত এবং কোনও নাটকীয় ঘটনা নেই। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্রটি তৈরি করা হয়। তারপর থেকে টানা তিনটি নির্বাচনে একই নেত্রী—সাবিনা ইয়াসমিন—জয়ী হয়েছেন। যদিও তিনি দু’টি ভিন্ন দলের হয়ে লড়েছেন। ২০১১ সালে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে তিনি সিপিআ...
মোথাবাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার এমন একটি কেন্দ্র যেখানে সংখ্যালঘু ভোটারদের আধিক্য রয়েছে। যদিও এটি একটি জেনারেল ক্যাটেগরির বিধানসভা কেন্দ্র। মালদা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে মোথাবাড়িও একটি। এই বিধানসভা কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে সম্পূর্ণ কালিয়াচক–২ ব্লক, পাশাপাশি কালিয়াচক–১ ব্লকের আলিনগর ও কালিয়াচক–১ গ্রাম পঞ্চায়েত। এমনিতে মোথাবাড়ির নির্বাচনী ইতিহাস তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত এবং কোনও নাটকীয় ঘটনা নেই। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্রটি তৈরি করা হয়। তারপর থেকে টানা তিনটি নির্বাচনে একই নেত্রী—সাবিনা ইয়াসমিন—জয়ী হয়েছেন। যদিও তিনি দু’টি ভিন্ন দলের হয়ে লড়েছেন। ২০১১ সালে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে তিনি সিপিআই(এম)-এর নাইমুদ্দিন শেখকে ৬,০২০ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে আবার কংগ্রেসের টিকিটে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ নজরুল ইসলামকে ৩৮,১৭৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০২১ সালে সাবিনা ইয়াসমিন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে ভোটে দাঁড়িয়ে বিজেপি প্রার্থী শ্যাম চাঁদ ঘোষকে ৫৬,৫৭৩ ভোটে হারান। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, মোথাবাড়িতে বিধানসভা স্তরে তৃণমূলের জয় মূলত সাবিনা ইয়াসমিনের ব্যক্তিগত প্রভাবের ফল, দলের সাংগঠনিক শক্তির কারণে নয়। লোকসভা নির্বাচনের ভোটের ধারা থেকেও সেই তথ্যই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের পর থেকে হওয়া চারটি লোকসভা নির্বাচনের প্রতিটিতেই মোথাবাড়ি বিধানসভা অংশে কংগ্রেস এগিয়ে থেকেছে। ২০০৯ সালে তারা সিপিআই(এম)-এর থেকে ২৪,৮২৬ ভোটে এগিয়ে ছিল। পরে বিজেপি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এলেও, কংগ্রেস ২০১৪ সালে ৩১,১৮০, ২০১৯ সালে ১৮,৩৩৯ এবং ২০২৪ সালে ৩৪,১৩৪ ভোটে লিড ধরে রেখেছে। এই চারটি লোকসভা নির্বাচনের কোনোটিতেই তৃণমূল কংগ্রেস মোথাবাড়িতে দ্বিতীয় স্থানেও পৌঁছাতে পারেনি। ২০২৪ সালে মোথাবাড়িতে নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ছিল ২,০৮,৮৪৪—যা ২০২১ সালে ছিল ১,৯৬,৩২৪ এবং ২০১৯ সালে ১,৮৩,৫৪৮। এই পরিসংখ্যান ভোটার সংখ্যার ধারাবাহিক বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এখানে মুসলিম ভোটারদের আধিপত্য স্পষ্ট—মোট ভোটারের ৬৭.৩০ শতাংশ মুসলিম। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, তফসিলি জাতির জনসংখ্যা ১৩.৯২ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতির জনসংখ্যা ২.২৫ শতাংশ। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি প্রায় সম্পূর্ণ গ্রামীণ; মাত্র ১.৪৬ শতাংশ ভোটার ছোট ছোট শহুরে এলাকায় বাস করেন। ভোটদানের হার এই কেন্দ্রে বরাবরই বেশি। ২০১১ সালে ৭৯.৭২ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮০.১৫ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে ৭৯.২৮ শতাংশ ভোটদান রেকর্ড হয়। তবে ২০২১ সালের ৮৩.১৯ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ৭৫.২৫ শতাংশে, অর্থাৎ ৭.৯৪ শতাংশ পয়েন্টের বড়সড় পতন ঘটে। ভৌগোলিকভাবে মোথাবাড়ি গঙ্গা অববাহিকা অঞ্চলে অবস্থিত। এই এলাকা মূলত সমতল পলিমাটি দ্বারা গঠিত। যা ধীরে ধীরে নদী সঞ্চয়ের ফলে গঠিত। তবে এই এলাকা বন্যা ও নদীভাঙনপ্রবণ। বিশেষ করে ভূতনি থেকে পাঁচানন্দপুর পর্যন্ত গঙ্গার বাঁ তীর মালদা জেলার সবচেয়ে ভয়াবহ ভাঙনপ্রবণ এলাকার মধ্যে পড়ে। কৃষিকাজ, নদী পারের বালু ও ইটের কাজ এবং ছোটখাটো ব্যবসাই স্থানীয় অর্থনীতির মূল ভরসা। মালদা শহর ও আশপাশের বাজারগুলির সঙ্গে এই এলাকার সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, মোথাবাড়ি সড়কপথে মালদা জেলা সদর থেকে প্রায় ১৬–১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কলকাতা থেকে এই এলাকার দূরত্ব প্রায় ৩২৫ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার। ফারাক্কা ও বহরমপুর হয়ে যাওয়া রুটের উপর দূরত্ব কিছুটা কম-বেশি হয়। কালিয়াচক, মানিকচক ও ইংরেজবাজারের মতো মালদা জেলার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলি মোথাবাড়ি থেকে প্রায় ১৫ থেকে ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে। রাজ্য সড়ক ও স্থানীয় রাস্তা ধরেই ওই জায়গায় পৌঁছানো যায়। গঙ্গার ওপারে বাংলাদেশের রোহনপুর ও চাপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের কাছাকাছি সীমান্ত এলাকা মোথাবাড়ি থেকে আনুমানিক ৪০ থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে। এই ভৌগোলিক নৈকট্যই দশকের পর দশক ধরে মালদার জনসংখ্যাগত চরিত্র ও রাজনীতিতে সীমান্ত-পার বাণিজ্য, যাতায়াতের প্রভাবকে তুলে ধরেছে। লক্ষণীয় বিষয় হল, মোথাবাড়িতে শেষ তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে থেকেছে। তবে যেখানে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভোটার মুসলিম, সেখানে এর বেশি বিজেপি কতদূর যেতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। প্রত্যেক বারেই BJP-র পরাজয়ের ব্যবধান যথেষ্ট বেশি। বিজেপির একমাত্র বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা হতে পারে মুসলিম ভোটের কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে গভীর বিভাজন এবং একই সঙ্গে প্রায় সম্পূর্ণ হিন্দু ভোটের বিজেপির দিকে চলে আসা। কিন্তু লোকসভা স্তরে কংগ্রেসের দৃঢ় অবস্থান এবং বিধানসভা আসনে সাবিনা ইয়াসমিনের ব্যক্তিগত দখলদারিত্বের কারণে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অত্যন্ত কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।
Shyamchand ghosh
BJP
Dulal sk
INC
Md. ali kalimullah (nur hoque)
RSSCMJP
Nota
NOTA
Subodh sarkar
IND
Mst aktari khatun
KPPU
Saidur rahaman
IND
Md ebrahim
CPI(ML)(L)
Md faruque hossain(sahityaratna)
IUML
Ramchandra chowdhuri
IND
Md. najrul islam
AITC
Shyam chand ghosh
BJP
Nota
NOTA
Dinesh kumar jaju
BSP
Anharul haque
IND
Prem kumar ghosh
SHS
Shyama pada saha
IND
Saiyad samser
HKRD