
সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্র: পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬ মালদা জেলার সুজাপুর। মালদা লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার অন্যতম। কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের আলিপুর I, আলিপুর II, বামনগ্রাম মশিমপুর, গায়েসবাড়ি, জালালপুর, জালুয়াবড়াল, কালিয়াচক II, মজমপুর, নওদা যাদুপুর, শিলমপুর I, শিলমপুর II এবং সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে গড়ে উঠেছে এই বিধানসভা কেন্দ্র। ১৯৫৭ সালে তৈরি হওয়া এই সুজাপুর দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসের 'দুর্গ' বলা চলে। এখনও পর্যন্ত ১৮ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে এই কেন্দ্রে। তার মধ্যে ২০০৯ সালে দু’টি উপনির্বাচনও রয়েছে। কংগ্রেস তাতে টানা ১৬ বার জেতে। ব্যতিক্রম শুধু প্রথম নির্বাচন, ১৯৫৭ সালে। সেবার নির্দল প্রার্থী মনোরঞ্জন মিশ্র জিতেছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল,...
সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্র: পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬ মালদা জেলার সুজাপুর। মালদা লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার অন্যতম। কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের আলিপুর I, আলিপুর II, বামনগ্রাম মশিমপুর, গায়েসবাড়ি, জালালপুর, জালুয়াবড়াল, কালিয়াচক II, মজমপুর, নওদা যাদুপুর, শিলমপুর I, শিলমপুর II এবং সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে গড়ে উঠেছে এই বিধানসভা কেন্দ্র। ১৯৫৭ সালে তৈরি হওয়া এই সুজাপুর দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসের 'দুর্গ' বলা চলে। এখনও পর্যন্ত ১৮ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে এই কেন্দ্রে। তার মধ্যে ২০০৯ সালে দু’টি উপনির্বাচনও রয়েছে। কংগ্রেস তাতে টানা ১৬ বার জেতে। ব্যতিক্রম শুধু প্রথম নির্বাচন, ১৯৫৭ সালে। সেবার নির্দল প্রার্থী মনোরঞ্জন মিশ্র জিতেছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, তিনিই সুজাপুর থেকে নির্বাচিত একমাত্র অ-মুসলিম বিধায়ক। দ্বিতীয় ব্যতিক্রমটি ঘটে ২০২১ এ। সেবার প্রথম তৃণমূল কংগ্রেস আসনটি দখল করে। এই কেন্দ্রের ভোট-ইতিহাস যে রাজ্য রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য। গনি খান চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে এই কেন্দ্রের নাম। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৭; টানা পাঁচবার সুজাপুরে জিতেছিলেন কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা এ.বি.এ. গনি খান চৌধুরী। পরে তাঁর বোন রুবি নূর ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত এই কেন্দ্রে আধিপত্য বজায় রাখেন। রুবি নূরের মৃত্যুর পর তাঁর মেয়ে মৌসম নূর ২০০৯ সালের প্রথমবার উপনির্বাচনে জেতেন। তবে মালদা উত্তর লোকসভা আসনে জয়ের পর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। ২০০৯-এর দ্বিতীয় উপনির্বাচনে বিজয়ী হন গনি খান চৌধুরীর ভাই আবু নাসের খান চৌধুরী। তিনি ২০১১ সালেও আসনটি ধরে রাখেন। ২০১৬ সালে জেতেন তাঁর ছেলে ঈশা খান চৌধুরী। মোট ১৩ বার এই আসন 'গনি পরিবারে'র দখলে থেকেছে। কিন্তু ২০২১-এ রীতিমতো 'অঘটন' ঘটে। বিপুল ব্যবধানে (১,৩০,১৬৩ ভোটে) তৃণমূল প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল গঞ্জির কাছে হেরে যান ঈশা খান চৌধুরী। তবে পরে মালদা দক্ষিণ লোকসভা আসনে জিতে সুজাপুর বিধানসভা ক্ষেত্রে তৃণমূল প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে ৮৩,৬২৯ ভোটে লিড এনে স্বমহিমায় ফিরে আসেন। সংসদীয় নির্বাচনে কংগ্রেস এখনও সুজাপুরে ভালই লিড পেয়ে থাকে। সুজাপুরে ভোটার সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে। ২০১৬ সালে যেখানে ছিল ২,১০,২৮৭ জন, ২০১৯-এ তা বেড়ে হয় ২,২৯,৩০১। ২০২১-এ পৌঁছয় ২,৫১,১৮৬-এ। ভোটদানের রেটও বরাবরই ভালই। ২০১৬-তে ৭৯.২০%, ২০১৯-এ ৭৭.৬৯% এবং ২০২১-এ ৮২.৬৪%। ২০২১ সালের ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৮৭.৬% মুসলিম এবং ৩.২৮% তফসিলি জাতিভুক্ত ছিলেন। গ্রামাঞ্চলের ভোটার প্রায় ৬৩.৭%, বাকি ৩৬.৩% শহর এলাকায় থাকেন। এই অঞ্চলের ইতিহাস ঘাঁটলে তা সুদূর মুঘল আমল পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। শাহজাহানের রাজত্বকালে উত্তর ভারতের সৈয়দ রাই এখানে বসতি স্থাপন করেন। ভাগীরথী (গঙ্গা) নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত সুজাপুর ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক দিক থেকে খুবই সমৃদ্ধ। রাজ্যের সবচেয়ে বড় ঈদের নমাজের জমায়েতও হয় এখানে। ভূপ্রাকৃতিক দিক থেকেও দক্ষিণবঙ্গের নিম্ন গঙ্গা অববাহিকার মতোই সমতল এলাকা সুজাপুর। 'অলুভিয়াম' মাটি। চাষাবাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। গঙ্গা নদীর সান্নিধ্যে ভূমি উর্বর হলেও মাঝে মাঝে বন্যার ঝুঁকিও থাকে। ধান, গম, পাট, আম ও রেশম উৎপাদনে এগিয়ে এই অঞ্চল। মালদা আম ও রেশমের জন্য বিখ্যাত। সুজাপুর ও কালিয়াচক ব্লক এই সুখ্যাতি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্ষুদ্র ব্যবসা, তাঁতশিল্প, হস্তশিল্প; সব মিলিয়ে কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্প ভিত্তিক অর্থনীতি এই অঞ্চলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই অঞ্চলের পরিকাঠামোও ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। সুজাপুরের উপর দিয়ে জাতীয় সড়ক ১২ গিয়েছে। মালদা শহরে যাতায়াতের মূল মাধ্যম বলতে পারেন এটি। জেলা সদর মালদা শহর এখান থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে। মালদা টাউন রেলস্টেশনও প্রায় একই দূরত্বে। কালিয়াচক মহকুমা সদরও অদূরে। কলকাতার দূরত্ব সড়ক পথে প্রায় ৩০৫ কিলোমিটার। সুজাপুরের দক্ষিণে মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে। গঙ্গার ওপারে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান এবং ঝাড়খন্ড; বিহারের সাহেবগঞ্জ, পাকুড়; সবই ২৫ থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর সরলরেখায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে, যদিও নিয়মিত সড়ক-সংযোগ নেই। বিহারের কাটিহার জেলা-শহরও সহজে পৌঁছনো যায়; সুজাপুর থেকে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার। বিশ্লেষকরা বলছেন সুজাপুরে বিপুল মুসলিম ভোটারসংখ্যার জেরে বিজেপি স্থানীয় রাজনীতিতে প্রায় অপ্রাসঙ্গিকই বলা চলে। এই অঞ্চলে সাধারণত এক অঙ্কের ভোটই(পার্সেন্টেজ) পায় গেরুয়া শিবির। তবে ২০১৯ সালে তা বেড়ে ১০.৭০% হয়েছিল। তবে এখনও পর্যন্ত যা ট্রেন্ড, তাতে মনে করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই মূলত কংগ্রেস বনাম তৃণমূল কংগ্রেস; এই দুই পক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কংগ্রেস এখন বামের সঙ্গে জোটবদ্ধ; ফলে তাদের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও প্রবল। বাম-কংগ্রেস জোটের ভোট বাড়লে সেক্ষেত্রে তৃণমূলের জন্য লড়াইটা আরও কঠিন হতে পারে। তবে বিজেপিকে এখানকার সমীকরণে কোনও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনের কোনও সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
Isha khan choudhury
INC
Sk ziauddin
BJP
Md. nur islam sekh
RSSCMJP
Md. rahim biswas
IND
Nota
NOTA
Rafiqul islam
BSP
Nasmul hoque
PDS
Manjur alahi munshi
IND
Md. saidul hoque
IND
Md monirul hasan
JeSM
Abu nasar khan choudhury
AITC
Nandan kumar ghosh
BJP
Nota
NOTA
Sekh wased ali
IND
Sadhan chatterjee
IND
Md. rajiul islam
IND
Md. gul hasan
JESM
Md. touhid sk
IND
Nasmul hoque
PDS
Pulak gupta
BSP
Manjur alahi munshi
IND
Md. sariful alam
IND
Md.munna khan
IND
Pankaj rishi
JMM
Abdul karim
BMUP