
ইটাহারের মাটি তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। এখানে ২০২৬ সালেও ঘাসফুল এগিয়ে থাকতে পারে। এখন দেখার বিজেপি এই সিটে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। প্রসঙ্গত, উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ সাব ডিভিশনের একটি ব্লক-স্তরের শহর হল ইটাহার। এটি একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। তবে এখানে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। এই আসনটি বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি কেন্দ্রের জন্য একটি। এটি সম্পূর্ণ ইটাহার কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে গঠিত। ইটাহার বিধানসভা কেন্দ্রটি ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে রাজ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে এখানে। এই কেন্দ্রে কংগ্রেস এবং কংগ্রেস থেকে ভেঙে তৈরি হওয়া দলগুলিই আধিপত্য দেখিয়েছে। তারা এখানে ১২ বার জিতেছে। এর মধ্যে ...
ইটাহারের মাটি তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। এখানে ২০২৬ সালেও ঘাসফুল এগিয়ে থাকতে পারে। এখন দেখার বিজেপি এই সিটে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। প্রসঙ্গত, উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ সাব ডিভিশনের একটি ব্লক-স্তরের শহর হল ইটাহার। এটি একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। তবে এখানে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। এই আসনটি বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি কেন্দ্রের জন্য একটি। এটি সম্পূর্ণ ইটাহার কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে গঠিত। ইটাহার বিধানসভা কেন্দ্রটি ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে রাজ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে এখানে। এই কেন্দ্রে কংগ্রেস এবং কংগ্রেস থেকে ভেঙে তৈরি হওয়া দলগুলিই আধিপত্য দেখিয়েছে। তারা এখানে ১২ বার জিতেছে। এর মধ্যে কংগ্রেস দল আটবার জিতেছে। তারা ১৯৬২ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত ৬টি নির্বাচনে টানা জয় পেয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান কংগ্রেস (সোশালিস্ট) একবার জিতেছে এই আসনে। এছাড়া ২০১১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে তিনটি বিধানসভায় ধারিবাহিকভাবে জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এখানে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়াও ভাল ফল করেছে। তারা ইটাহার কেন্দ্রে ৫ বার জিতেছে। যার মধ্যে ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তিনটি ধারাবাহিক জয়ও রয়েছে। অবশ্য ২০১১ সালে সিপিআই-এর আধিপত্য ভেঙে দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের প্রার্থী অমল আচার্য্য সিপিআই নেতা এবং সেই সময়ের মন্ত্রী শ্রীকুমার মুখোপাধ্যায় ৭,০৫২ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালে ব্যবধান আরও বাড়ে। সেই ভোটে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ১৯,১২০ ভোট। আর সেই ধারা ২০২১ সালেও বজায় ছিল। সেই ভোটে তিনি বিজেপির অমিত কুমার কুণ্ডুকে ৪৩,৯৭৫ ভোট পরাজিত করেন। এই ভোটে সিপিআই-এর শ্রীকুমার মুখোপাধ্যায় কেবল ২.২৪ শতাংশ ভোট পান। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ই এখানে নিজের প্রভাব বাড়াতে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই ভোটে তারা আরএসপি-এর থেকে এই আসনে ১২,৮৩০ ভোটে এগিয়ে ছিল। আর ২০১৪ সালে এই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়ে। সেবার তারা ২৮,৮৮৪ ভোটের লিড পায়। ২০১৯ সালে আবার বামেদের সরিয়ে বিরোধী হিসেবে উঠে আসে বিজেপি। তবে সেই ভোটেও জেতে তৃণমূল। তাদের লিড ছিল ২৭,৭৭৭ ভোটের। ২০২৪ সালেও রমরমা বজায় থাকে ঘাসফুলের। ব্যবধান বাড়িয়ে ৩০,৭৬৯ ভোটে বিজেপিকে হারিয়ে দেয় টিএমসি। আর আরও তলানিতে চলে যায় বামেরা। ২০২৪ সালে ইটাহারে ২৪১,০৬৯ মোট ভোটার ছিল। আর এই পরিসংখ্যান ২০২১ সালের ২,২৯,৩৬২ এবং ২০১৯ সালের ২,১৮,৩৬৭ থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এই কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যার এতটা বৃদ্ধির পিছনে বাংলাদেশ সীমানার নৈকট্য বয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশই এই বৃদ্ধির মূলে। এখানে ভোটারের সংখ্যার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয় ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে। পাঁচ বছরে ভোটার সংখ্যা ৫৬,১০৮ বেড়ে যায়। প্রসঙ্গত, ইটাহার এখন মুসলিম-প্রধান আসন। এখানে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৫০.৭০ শতাংশ। অনগ্রসর জাতি ২৫.৭৪ শতাংশ এবং আদিবাসী ৮.২৮ শতাংশ ভোটার রয়েছে এখানে। ওই কেন্দ্রের ৯৭.৯৬ শতাংশ ভোটার গ্রামে বসবাস করেন। মাত্র ২.০৪ শতাংশ ভোটার শহরে বসবাস করেন। এখানে ২০১১ সালে ভোট দিয়েছিলেন ৮৫.৫৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৩.৭৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮০.১১ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৪.৯৮ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৫.২০ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ ২০২৪ সালে কিছুটা হলেও ভোটদানের হার কমেছে। ইটাহারের ইতিহাস সমৃদ্ধ। এখানে প্রাচীন বসতি দেখা যায়। এছাড়া ইটাহারের উর্বর সমভূমিতে অবস্থিত। একে ঘিরে রয়েছে মহানন্দা ও কুলিক নদীর উপনদী। এখানকার স্থানীয় অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। এখানে প্রধানত ধান, পাট, গম এবং মৌসুমী সবজি চাষ হয়। এখানে সড়ক যোগাযোগ মোটামুটি ভাল। সম্প্রতি সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে এই অঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নত হয়েছে। পাশাপাশি এখানকার গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্যুতায়নের কাজও চলছে। ইটাহার রায়গঞ্জ থেকে ২০ কিমি দূরে অবস্থিত। ডালখোলা ৬৮ কিমি, বিহারের কিশনগঞ্জ ২০০ কিমি এবং রাজ্যের রাজধানী কলকাতা প্রায় ৩৭৫ কিমি দূরত্বে অবস্থিত। এখান থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুর সীমান্ত মাত্র ৩৫ কিমি দূরে। কী হতে পারে? বিজেপির ইটাহারে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। কারণ মুসলিম-প্রধান ভোটাররা তৃণমূল কংগ্রেসকে এগিয়ে দিতে পারে। তাই এখানে তাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। তবে বাম-কংগ্রেস যদি মুসলিম ভোট দখল করতে পারে, তাহলে কিছুটা সুবিধা হতে পারে বিজেপির।
Amit kumar kundu
BJP
Srikumar mukherjee
CPI
Nota
NOTA
Mojammel haque
IND
Mofakkerul islam
AIMIM
Firoj alam
IND
Tufan barman
IND
Dilip kumar barman
IND
Srikumar mukherjee
CPI
Yunish hoque
BJP
Nota
NOTA
Hopna murmu
JDP
Jainal abedin
BSP