
তিনি নাকি দলের ‘ফার্স্ট বয়’। খড়দার রিংয়ে প্রতিপক্ষকে কার্যত নকআউট করেছিলেন বিপুল ব্যবধানে জিতে। এবার তৃণমূলের সেই প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বালিগঞ্জে প্রার্থী করা হতে পারে, এমন জল্পনাই জোরদার রাজনৈতিক মহলে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে পরাজিত হওয়ার পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলায়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে রদবদল হয়। খড়দহ উপনির্বাচনে শোভনদেবের বড় জয়ের পর তাঁর সংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তা নিয়ে দলীয় মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এই সম্ভাবনা নিয়ে শোভনদেবের পুত্র সায়নদেব বলেন, 'দল যদি বাবাকে বালিগঞ্জে প্রার্থী করে, উনি বিরাট মার্জিনে জিতবেন।' তাঁর দাবি, ৮২ বছর বয়স হলেও শোভনদেব এখনও নিয়মিত বক্সিং অনুশীলন করেন। 'দেখলে বোঝাই যায় না বয়স। মানসিক ও শারীরিক জোর দুটোই অটুট,' বলেন তিনি।
শোভনদেবের রাজনৈতিক জীবনও সমৃদ্ধ। প্রথম দু’বার বারুইপুর, পরের পাঁচবার রাসবিহারী এবং পরে ভবানীপুর থেকে জয়ী হয়েছেন। খড়দহেও বিপুল ভোটে জয়ের নজির রয়েছে তাঁর। এবার তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বালিগঞ্জে প্রার্থী করা হতে পারে বলেই জল্পনা।
সায়নদেবের কথায়, 'বালিগঞ্জে আমাদের পারিবারিক যোগ আছে। বাবা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সহকর্মী ছিলেন। দক্ষিণ কলকাতার সেরা আসন বালিগঞ্জ, মানুষ দু’হাত ভরে জেতাবেন।'
বাবুলকে সরানো হতে পারে?
অন্যদিকে, ২৯৪টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। শোনা যাচ্ছে, বালিগঞ্জ থেকে সরানো হতে পারে বর্তমান বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয়কে। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে তিনি মন্ত্রী হন এবং ২০২২ সালের উপনির্বাচনে জয়ী হন।
তবে সেই জয়ের মার্জিন ছিল তুলনামূলকভাবে কম। প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায় যেখানে প্রায় ৭১ শতাংশ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জিতেছিলেন, সেখানে বাবুলের জয়ের ব্যবধান নেমে আসে প্রায় ৩০ হাজারে। দলীয় অন্দরে তাঁর ‘দলবদলু’ পরিচয় নিয়েও অসন্তোষের কথা শোনা গিয়েছিল। এমনকি কয়েকটি ওয়ার্ডে তাঁর প্রতিপক্ষ সিপিএম প্রার্থী এগিয়েও ছিলেন।
এই প্রেক্ষাপটে বালিগঞ্জে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের নিচুতলার অসন্তোষ এবং ভবিষ্যৎ সমীকরণ মাথায় রেখেই বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে নেতৃত্ব।
সব মিলিয়ে, বালিগঞ্জে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। শোভনদেবকে সামনে আনা হলে দক্ষিণ কলকাতার এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে ভোটযুদ্ধ যে জমজমাট হতে চলেছে, তা বলাই যায়।