
মালদার কালিয়াচকে অবরোধ-বিক্ষোভ ও বিচারকদের ঘিরে রাখার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মোফাক্কেরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, 'মোফাক্কেরুলের সঙ্গে ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক ও দলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতির কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।'
সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা করছিলেন। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। কমিশনের দাবি, তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন। অন্যদিকে, সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, মোফাক্কেরুল নেপালে পালানোর ছক কষছিলেন এবং এই হিংসার অন্যতম মূল উসকানিদাতা তিনিই।
এই প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেনের নাম। সাগরদিঘি উপনির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর সংখ্যালঘু সেলের সভাপতির পদে হাজি নুরুল ইসলামের পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকেই।
মোশারফ হোসেন উত্তর দিনাজপুর জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার তাঁকে প্রার্থী করে তৃণমূল, এবং তিনি প্রায় ৪০ হাজার ভোটে জয়লাভ করেন। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা মোশারফ সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুর, এই তিন জেলার সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের চরিত্র অন্যান্য জেলার থেকে আলাদা। সেই কারণেই তৃণমূল এই অঞ্চলগুলিতে আলাদা করে সাংগঠনিক জোর বাড়াতে চেয়েছে এবং তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে মোশারফ হোসেনকে সামনে এনেছে।
তবে মোফাক্কেরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা বিতর্কে তাঁর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, তা এখন তদন্তের বিষয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।