রাঘব চাড্ডা এবং পরিণীতি চোপড়া জনপ্রিয় এবং চর্চিত তারকা দম্পতি। একজন রাজনীতিতে তুখড়, অন্যজন দাপুটে অভিনেত্রী। দু'জনেই নিজ নিজ পেশায় যুক্ত। কিন্তু পরিণীতি কি কখনও তাঁর স্বামীর মতো রাজনীতিতে আসবেন? এই প্রশ্ন চিরকালের।
শুক্রবার জাতীয় রাজনীতিতে কার্যত বোমা ফাটান রাঘব চাড্ডা। সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি আম আদমি পার্টি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করলেন। তিনি বলেন, 'ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলছি, আম আদমি পার্টি যে আদর্শ ও মূল্যবোধের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা থেকে সম্পূর্ণ ভাবে বিচ্যুত হয়েছে।' একইসঙ্গে তিনি BJP-তে যোগদানের ঘোষণা করেন।
তবে রাঘব একলা নন, আম আদমি পার্টির দুই তৃতীয়াংশ সাংসদ নিয়ে তিনি গেরুয়া ঝান্ডা হাতে তুলে নিচ্ছেন। এই তালিকায় রয়েছেন তারকা সাংসদ হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়ালের মতো আপ নেতারাও।
আগে ইন্ডিয়া টিভির একটি টক শো-তে রাঘব তাঁর স্ত্রীর রাজনীতিতে প্রবেশ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন, 'যে যাঁর নিজের কাজই করা উচিত। নিজের কাজের বাইরে কিছু করলে সে বোকামি করবে।'
রাঘব চাড্ডা আরও বলেছিলেন, 'আসলে আমাদের পেশাতেও অনেকেই অভিনয় করেন। আমাদের পেশাতেও অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে। ওঁদের জগতে ততটাই নাটক আর অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে যতটা আমাদের জগতে।'
রাঘবের মতে, রাজনীতিতে প্রবেশ করা বা না করাটা পরিণীতির সিদ্ধান্ত। তবে তিনি বলেন, 'আমার মনে হয়, রাজনীতির প্রতি পরির বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।'
রাঘব বরাবরই মনে করতেন, তাঁর পেশা এবং পরিণীতির পেশার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। তিনি বলেন, 'আমাদের অভিনয় করতে হয়। ওঁকেও করতে হয়। আমাদের মতো ওঁর পেশাতেও রাজনীতি জড়িত।'
রাজনীতিবিদদের ভোটারদের মন জয় করতে হয় এবং পরিণীতিকে দর্শকদের মন জয় করতে হয়। এমনটাই মনে করে রাঘব চাড্ডা।
রাঘব বলেছিলেন, 'আমরা হয় নির্বাচনে জিতি, নয়তো হারি। ওঁদের সিনেমাও হিট হয়, নয়তো ফ্লপ। আমরা নিজেদের নিজ নিজ পেশাকে আলাদা রাখি।'
পরিণীতি রাঘবের কথার জবাবে মজার ছলে বলেন, 'আমি তো ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে গিয়েছি।'
পরিণীতিতে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কেন চান না রাঘব অভিনয়ের জায়গায় আসুন। অভিনেত্রী জবাব দেন, 'এটা অসম্ভব। আমরা যখন বাড়িতে থাকি, তখন রাজনীতি বা সিনেমা নিয়ে কথা বলি না। আমরা সাধারণ একঘেঁয়ে বিষয় নিয়ে কথা বলি। আমরা বাড়ি ও পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আমাদের দু'জনেরই পেশা বদলানো উচিত নয়।'