রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) বাঙালিদের আত্মার সঙ্গে মিশে আছেন। তাই তো ২২ শে শ্রাবণ (Baishe Srabon) এতটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৪১ সালের এদিনই (ইংরাজি ৮ অগাস্ট) না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই বছর রবীন্দ্র প্রয়াণের আশিতম বার্ষিকী। বাঙালির মনে- প্রাণে, সুখে-দুঃখে, উৎসবে সবেতেই থাকেন গুরুদেব। অতিমারীর জন্য দীর্ঘদিন সমস্ত কিছুতেই বাধা থাকলেও গান শোনার এবং ভাল অনুষ্ঠান দেখার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি।
এই কোভিড আক্রান্ত শহরে যখন তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় প্রায় সকলেই ভীত, ঠিক তখনই রবীন্দ্রনাথ হয়ে ওঠেন শুশ্রূষা। রবীন্দ্রনাথ তাঁর নানান লেখায় মৃত্যুকে কখনও "সন্ততি" আবার কখনও বা "বন্ধু" বলে সম্বোধন করেছেন। জীবনের ওপার নিয়ে তাঁর কম আগ্ৰহ ছিল না। আর তাই আপনজনের অন্বেষণে পরলোক চর্চায় অনেক সময়েই নিমগ্ন ছিলেন তিনি। আসলে, মৃত্যু যাঁর কাছে এক নতুন আলোক সঞ্চার, তিনি কি কখনও মরে যেতে পারেন?
এসপিসি ক্রাফট ও সৃজনের 'Our Infinite Light' শীর্ষক অনুষ্ঠানে সেই আলো আর আশার বাণী ধ্বনিত হবে সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের (Sujoy Prosad Chatterjee) পাঠে এবং সুছন্দা ঘোষের (Suchhanda Ghosh) গানে। বাইশে শ্রাবণ স্মরণে, ৭ অগাস্ট বিকেল ৫.৩০ থেকে গ্যালারী গোল্ডে এই নির্মাণ অনুষ্ঠিত হবে কোভিড সংক্রান্ত সমস্ত নিয়মাবলী মেনেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস পালন ও তাঁর সৃষ্টির উদযাপন এই উপস্থাপনার নির্যাস। এদিন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে থাকবেন নাট্যব্যক্তিত্ত্ব সোহাগ সেন।
এরকম একটা ভাবনা প্রসঙ্গে সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় জানালেন, "রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু চেতনা বড় গভীর আর সেই অগাধ সমুদ্রে এ হয়তো সামান্য নুড়ি পাথর মাত্র। তবু এই কোভিড কালে ছন্দে ও মঞ্চে ফিরতে একমাত্র তিনিই ভরসা।"
প্রসঙ্গত, এর আগে দর্শকদের কাছে নিত্য নতুন ভাবনা নিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন সুজয়প্রসাদ। তিনি কোভিড কালে ডিজিটাল মাধ্যমকে ভরসা করেই কবি শঙ্খ ঘোষ, চলচ্চিত্র পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ ছাড়াও আরও একাধিক কিংবদন্তিদের স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠান উপহার দিয়েছেন সকলকে।