ঘুরে দাঁড়াল বর্ষা। যে ব্যাপক বৃষ্টির ঘাটতি চলছিল, তা কয়েক দিনের মধ্যেই অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছে মৌসুমী বায়ু। আপাতত দেশজুড়ে যে পরিমাণ বৃষ্টি হল, তাতে স্বাভাবিক বর্ষা তকমা দেওয়া যাচ্ছে। IMD জানাচ্ছে, টানা ৯ দিন ধরে দেশের নানা প্রান্তে যেভাবে বৃষ্টি চলছে, তা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।
মৌসুমী বায়ু ঢোকার পরেও দীর্ঘ দিন বৃষ্টির ঘাটতি চলছিল। এরপর মধ্য ভারত ও বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ সিস্টেমের জেরে বর্ষা গতি পেয়েছে।
জুলাইয়ের শুরু থেকেই গড় বৃষ্টিপাত ভালই হচ্ছে দেশজুড়ে। পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যে খারিপ শস্যের ভাল ফলনের আশা দেখছেন চাষিরা।
এই প্রশ্নটাই আপাতত ভাবাচ্ছে। বদলা নিতে পারে দানবীয় এল নিনো। ভারতের বর্ষায় বড়সড় আঘাত হানতে চলেছে শীঘ্রই। আইএমডি পূর্বাভাস বলছে, ১০ থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারতে বৃষ্টিপাতের বড়সড় ঘাটতি দেখা দেবে।
নিম্নচাপ সিস্টেম দুর্বল হয়ে যাবে। কারণ স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গিয়েছে, ভারতের যে সব অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বর্ষায় বেশি হয় বা স্বাভাবিক হয়, সেই অঞ্চলগুলিতে মেঘের বিস্তার কমে যাচ্ছে।
স্বাভাবিক বছরের সঙ্গে এল নিনো বছরের পার্থক্য হল, বার বার বর্ষা বিরতি নেয়। সেই বিরতি অনেক দিন ধরে চলে। কোথাও আবার যখন শুরু হয়, তখন অতিবৃষ্টি। মোদ্দা বিষয়, মৌসুমী বায়ুর খামখেয়ালি।
বর্ষা মরশুম জুড়ে একটানা বৃষ্টি হওয়ার বদলে এ বছর আবহাওয়া যেন দুই চরমের মধ্যে দোলাচলে রয়েছে, কখনও অতি ভারী বৃষ্টির দাপট, আবার কখনও দীর্ঘ শুকনো পর্ব।
সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের জেরে দেশে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা, বর্ষা এখনও অত্যন্ত অস্থির এবং অনিশ্চিত।
জুলাইয়ের শেষ দিকে ফের একটি সক্রিয় বর্ষা পর্বের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তার আগে দেশের বিস্তীর্ণ কৃষি অঞ্চলগুলির নজর থাকবে আকাশের দিকেই, কারণ বর্ষার পরবর্তী পর্যায় কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়েই এখন জোর জল্পনা।
আগামী সপ্তাহ তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ, তখনই স্পষ্ট হবে বর্ষার এই চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন দীর্ঘস্থায়ী স্বস্তির সূচনা কিনা, নাকি তা কেবল সাময়িক স্বস্তি মাত্র।