
নতুন বজালি কেন্দ্র। কোনও ভোটের ইতিহাস নেই। তবু ২০২৬-এর আগে ঠিক এই কেন্দ্রেই নজর সকলের। কেন? জানব। তার আগে একটু এই অঞ্চলের বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক। লোয়ার অসমের বজালি একটি শহর এবং বজালি জেলার সদর দফতর। এটি একটি জেনারেল (অসংরক্ষিত) বিধানসভা কেন্দ্র এবং বরপেটা লোকসভা কেন্দ্রের ১০টি বিধানসভা অংশের একটি। এই কেন্দ্রটি মূলত গ্রামীণ চরিত্রের, যেখানে শহুরে এলাকা খুবই কম। প্রাক্তন বজালি (পার্ট), জলাহর কিছু অংশ এবং সরুপেটা সার্কেলের এলাকা নিয়ে এই কেন্দ্র গঠিত। পাঠশালা; যা এই অঞ্চলের প্রধান শহর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র; এবং তার আশপাশের গ্রামীণ এলাকা যেমন ডোলোর পাথার প্রভৃতি অঞ্চল এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। ২০২৩ সালের সীমা পুনর্নির্ধারণে একাধিক সংলগ্ন কেন্দ্র থেকে বুথ নিয়ে বজালি গঠ...
নতুন বজালি কেন্দ্র। কোনও ভোটের ইতিহাস নেই। তবু ২০২৬-এর আগে ঠিক এই কেন্দ্রেই নজর সকলের। কেন? জানব। তার আগে একটু এই অঞ্চলের বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক। লোয়ার অসমের বজালি একটি শহর এবং বজালি জেলার সদর দফতর। এটি একটি জেনারেল (অসংরক্ষিত) বিধানসভা কেন্দ্র এবং বরপেটা লোকসভা কেন্দ্রের ১০টি বিধানসভা অংশের একটি। এই কেন্দ্রটি মূলত গ্রামীণ চরিত্রের, যেখানে শহুরে এলাকা খুবই কম। প্রাক্তন বজালি (পার্ট), জলাহর কিছু অংশ এবং সরুপেটা সার্কেলের এলাকা নিয়ে এই কেন্দ্র গঠিত। পাঠশালা; যা এই অঞ্চলের প্রধান শহর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র; এবং তার আশপাশের গ্রামীণ এলাকা যেমন ডোলোর পাথার প্রভৃতি অঞ্চল এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। ২০২৩ সালের সীমা পুনর্নির্ধারণে একাধিক সংলগ্ন কেন্দ্র থেকে বুথ নিয়ে বজালি গঠিত হয়েছে, যা শুধুমাত্র পুরনো সোরভোগ কেন্দ্রের পুনর্নামকরণ নয়।
ডিলিমিটেশন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০২৩ সালে বজালি বিধানসভা কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। অসম বিধানসভার ১২৬টি কেন্দ্রের ভোটার বণ্টন সমান করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বজালি তৈরি হয়েছে সোরভোগ বিধানসভা কেন্দ্র ভেঙে। সোরভোগ কেন্দ্রটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত সোরভোগে মোট ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। সেখানে সিপিআই(এম) ছ’বার, কংগ্রেস পাঁচ বার এবং নির্দল ও বিজেপি দু’বার করে জয়ী হয়েছে। সিপিআই(এম)-এর মনোরঞ্জন তালুকদার সোরভোগের শেষ বিধায়ক। ২০২১ সালে তিনি বিজেপির শঙ্কর চন্দ্র দাসকে ১০,২৬২ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, সোরভোগকে সরাসরি বজালি হিসেবে পুনর্নামকরণ করা হয়নি। নতুন কেন্দ্রটি একাধিক সংলগ্ন কেন্দ্রের এলাকা ও বুথ নিয়ে গঠিত হওয়ায় সোরভোগের অতীত ভোটের ফল বজালির ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। ফলে রাজনৈতিক শক্তির প্রকৃত অবস্থান বোঝার জন্য নতুন সমীকরণই গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ভোটের প্রবণতা বজালির রাজনৈতিক মেজাজ বোঝার ক্ষেত্রে কিছুটা ইঙ্গিত দেয়। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের হয়ে লড়া অসম গণ পরিষদ (এজিপি) এই কেন্দ্রে কংগ্রেসকে ৪১,৫৮৬ ভোটে পিছনে ফেলে। এজিপির ফণী ভূষণ চৌধুরী পান ৭৬,১৭০ ভোট, যেখানে কংগ্রেসের দীপ বায়ন পান ৩৪,৫৮৪ ভোট। সিপিআই(এম)-এর মনোরঞ্জন তালুকদার তৃতীয় স্থানে থেকে পান ১০,৪৯২ ভোট।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বজালিতে মোট ভোটার সংখ্যা ১,৬৫,৩৯৯। ২০২৪ সালের ১,৬৩,০৭১ ভোটারের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি হয়েছে। এই কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত একমাত্র নির্বাচন হয়েছে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট, যেখানে ভোটদানের হার ছিল উল্লেখযোগ্য; ৮০.০৬ শতাংশ।
বজালির স্বতন্ত্র কেন্দ্র হিসেবে ভোটার জনসংখ্যার বিস্তারিত তথ্য এখনও উপলব্ধ নয়। তবে ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, বজালি জেলায় হিন্দুদের সংখ্যা ৬৭.৯০ শতাংশ এবং মুসলিমদের ৩১.৯১ শতাংশ। বজালি সার্কেলে (মূল এলাকা) হিন্দু ৯৪.৫১ শতাংশ এবং মুসলিম ৫.৩৪ শতাংশ। সীমা পুনর্নির্ধারণের ফলে এই অনুপাত কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে, তবে কেন্দ্রটি এখনও মূলত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রামীণ এলাকা হিসেবেই পরিচিত।
ভৌগোলিক দিক থেকে বজালি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার উর্বর সমতলভূমিতে অবস্থিত। সমতল অলুভিয়াল মাটি কৃষির জন্য উপযুক্ত। ছোট পুকুর, বিল এবং নিচু এলাকা রয়েছে, যা বর্ষায় বন্যাপ্রবণ হয়ে ওঠে। বড় নদী সরাসরি শহরের মধ্য দিয়ে না বয়ে গেলেও ব্রহ্মপুত্রের উপনদী ও খালগুলি সেচ ও মাছ চাষে সহায়তা করে।
এখানকার অর্থনীতি প্রধানত কৃষিনির্ভর। ধান প্রধান ফসল। পাশাপাশি পাট, শাকসবজি, ডাল এবং কিছু তেলবীজ চাষ হয়। রেশম চাষ এবং ছোটখাটো বাণিজ্যও জীবিকার অংশ। পরিকাঠামোর মধ্যে রয়েছে সড়ক, বাজার, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র। জাতীয় সড়ক ৩১ এবং রাজ্য সড়ক দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। পাঠশালা রেল স্টেশন এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল, যা গুয়াহাটি, বরপেটা রোড এবং অন্যান্য এলাকার সঙ্গে যুক্ত।
বজালি (পাঠশালা এলাকা) রাজ্যের রাজধানী দিসপুর বা গুয়াহাটির থেকে প্রায় ১০০-১১০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। বরপেটা শহর থেকে ৩০-৪০ কিলোমিটার, সোরভোগ ও হাওলি থেকে ২০-৩০ কিলোমিটার দূরে। নলবাড়ি ও বঙ্গাইগাঁও কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ শহর। এই কেন্দ্রের সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক সীমান্ত সরাসরি সংযুক্ত নয়, যদিও বৃহত্তর লোয়ার অসম অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গ ও ভুটানের নৈকট্যের প্রভাবে প্রভাবিত।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বজালি কার্যত এক নতুন সমীকরণের কেন্দ্র। অতীতের সরাসরি কোনও নির্বাচনী ইতিহাস না থাকায় এই কেন্দ্রকে অনেকটাই অজানা বলেই ধরা হচ্ছে। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের প্রবণতা যদি ধরা হয়, তাহলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে। যদিও বজালি কেন্দ্র নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, বৃহত্তর রাজ্যজুড়ে সমীক্ষায় লোয়ার অসম অঞ্চলে এনডিএর শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে।
এই নতুন কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত ফল নির্ভর করবে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, জোটের সমীকরণ এবং কৃষি, বন্যা ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত স্থানীয় ইস্যুগুলির উপরই।
Input by: Ajay Jha
Santanu sarma
INC
Pabindra deka
ASMJTYP
Nota
NOTA
Chakra pani medhi
IND
Krishnamani das
RPPRINAT
Sailen kalita
INC
Kamaleswar medhi
IND
Manoranjan das
IND
Kartik deka
IND
Nota
NOTA
Baikuntha sarma
IND
Puspak dutta
IND
Nilima bhattacharjya
IND