
অসমের দক্ষিণ সালমারা-মানকাছার জেলার অন্তর্গত মানকাছার—একটি সেনসাস টাউন, আবার একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেভিনিউ সার্কেল। ধুবড়ি লোকসভা কেন্দ্রের ১১টি বিধানসভা আসনের মধ্যে এটি একটি সাধারণ আসন। শহর আর তার চারপাশের গ্রামগুলিকে নিয়ে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রের চরিত্র মূলত গ্রামীণ—প্রায় ২০০-২৫০টি গ্রাম জুড়ে বিস্তৃত। কৃষিনির্ভর জনজীবন, বাংলা ভাষাভাষী মানুষের উপস্থিতি এবং বহুজাতিক সামাজিক বিন্যাস—সব মিলিয়ে মানকাছার এক জটিল রাজনৈতিক ভূগোল।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ বার বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে মানকাছার। এই সময়ে কংগ্রেস ও নির্দল প্রার্থী তিনবার করে জিতেছে। অন্যদিকে জনতা পার্টি, অগপ, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি এবং এআইইউডিএফ—প্রত্যেকেই দু'বার করে এই আসন দ...
অসমের দক্ষিণ সালমারা-মানকাছার জেলার অন্তর্গত মানকাছার—একটি সেনসাস টাউন, আবার একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেভিনিউ সার্কেল। ধুবড়ি লোকসভা কেন্দ্রের ১১টি বিধানসভা আসনের মধ্যে এটি একটি সাধারণ আসন। শহর আর তার চারপাশের গ্রামগুলিকে নিয়ে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রের চরিত্র মূলত গ্রামীণ—প্রায় ২০০-২৫০টি গ্রাম জুড়ে বিস্তৃত। কৃষিনির্ভর জনজীবন, বাংলা ভাষাভাষী মানুষের উপস্থিতি এবং বহুজাতিক সামাজিক বিন্যাস—সব মিলিয়ে মানকাছার এক জটিল রাজনৈতিক ভূগোল।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ বার বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে মানকাছার। এই সময়ে কংগ্রেস ও নির্দল প্রার্থী তিনবার করে জিতেছে। অন্যদিকে জনতা পার্টি, অগপ, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি এবং এআইইউডিএফ—প্রত্যেকেই দু'বার করে এই আসন দখল করেছে। ৯০ শতাংশেরও বেশি মুসলিম অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে স্বাভাবিকভাবেই এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র মুসলিম প্রতিনিধিরাই জয়ী হয়েছেন। তবে গত তিনটি নির্বাচনে লড়াই হয়েছে অত্যন্ত তীব্র।
২০১১ সালে নির্দল প্রার্থী জাবেদ ইসলাম কংগ্রেসের ডা.মতিউর রহমান মণ্ডলকে ১০,৭৮৭ ভোটে হারান। ২০১৬-তে পাল্টা ঘুরে দাঁড়ান মণ্ডল, তিনি এআইইউডিএফের মহম্মদ আমিনুল ইসলামকে ৪,৩১৩ ভোটে পরাজিত করেন। ২০২১-এ আবার সমীকরণ বদলায়—এই বার অগপ প্রার্থী হিসেবে লড়ে আমিনুল ইসলাম ২০১১-র জয়ী জাবেদ ইসলামকে ৫৬,৮৪০ ভোটে হারিয়ে আসন দখল করেন।
রাজনীতির এই ওঠানামার মধ্যে সবচেয়ে লক্ষণীয় দিক—দলের চেয়ে প্রার্থীর গুরুত্ব। আমিনুল ইসলাম তিনবার জিতেছেন, কিন্তু তিনটি আলাদা ব্যানারে—১৯৮৫ সালে নির্দল, ১৯৯৬-এ অগপ, এবং ২০২১-এ এআইইউডিএফ। একইভাবে জাবেদ ইসলামও ২০০৬-এ কংগ্রেস, ২০১১-তে নির্দল এবং ২০২১-এ অগপ প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন। মানকাছারের রাজনীতিতে দলবদল যেন এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া—ব্যক্তিত্বই এখানে আসল মূলধন।
ভোটের অঙ্কও বলছে অন্য গল্প। লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৯ সালে এআইইউডিএফ যথাক্রমে ৩৮,১০২, ৭৬,২০৭ এবং ৪১,৯১৮ ভোটে কংগ্রেসকে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ২০২৪-এ সেই ধারা ভেঙে কংগ্রেস অগপ-কে ৯৯,৮৩২ ভোটে পিছনে ফেলে দেয়। একই সঙ্গে, এই অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা বদরুদ্দিন আজমল ধুবড়ি লোকসভা কেন্দ্রে মাত্র ১৩.৯৬ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেন—যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত।
ভোটারের নিরিখেও মানকাছার বড় কেন্দ্র। ২০২৬ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এখানে ৩,১০,২৩২ জন ভোটার—২০২৪ সালের ২,৯৬,৮৯৫ থেকে ১৩,৩৩৭ বেশি। ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশনের পর ৭২,৪৬৩ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যা এই কেন্দ্রের জনতাত্ত্বিক চরিত্র আরও দৃঢ় করেছে। ২০২১-এ যেখানে ভোটার ছিল ২,২৪,৪৩২, সেখানে ২০১৯-এ ২,১০,৬২৫, ২০১৬-তে ১,৮২,৭০৬, ২০১৪-তে ১,৬৭,১৭৬ এবং ২০১১-তে ১,৫৫,১৪৩।
বর্তমান হিসাবে প্রায় ৯১.২০ শতাংশ ভোটার মুসলিম, তফসিলি জাতি ১.৬১ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতি ১.২৫ শতাংশ। ডিলিমিটেশনের পরে মুসলিম ভোটারের হার আরও বেড়েছে বলেই অনুমান। শহরাঞ্চলে ভোটার মাত্র ৮.১৪ শতাংশ, গ্রামে ৯১.৮৬ শতাংশ। ভোটদানের হার বরাবরই নজরকাড়া—২০১১-তে ৯০.৪৩%, ২০১৪-তে ৯০.৯৪%, ২০১৬-তে ৯৩.৯৩%, ২০১৯-তে ৯১.২৬%, ২০২১-এ ৯১.৮৩% এবং ২০২৪-এ ৯২.৭৫%। ভূগোলও এই কেন্দ্রের রাজনীতিকে প্রভাবিত করে। ব্রহ্মপুত্রের বন্যাপ্রবণ সমতলভূমি, চরাঞ্চল, নিম্নভূমি—সব মিলিয়ে কৃষি ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত অনিশ্চয়তা এখানে চিরস্থায়ী। ধান, পাট চাষ, মাছধরা, ক্ষুদ্র ব্যবসা—এই সবই মানুষের জীবিকার মূল ভরসা। প্রতিবছরের বন্যা ও ভাঙন সেই ভরসায় ধাক্কা দেয়।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় রয়েছে সড়কপথে সংযোগ, নিকটবর্তী রেলস্টেশন ফকিরাগ্রাম বা ধুবড়ি (৩০-৫০ কিমি দূরে)। নিকটবর্তী বড় শহর হাতসিংমারি (২০-৩০ কিমি), ধুবড়ি (৫০-৬০ কিমি)। রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটি প্রায় ২৫০-৩০০ কিমি দূরে। পূর্ব ও দক্ষিণে মেঘালয় (তুরা প্রায় ৮০-১০০ কিমি), পশ্চিমে বাংলাদেশ সীমান্ত (০-৫ কিমি দূরে), যা বাণিজ্য, অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের প্রশ্নকে প্রাসঙ্গিক করে তোলে।
ঐতিহাসিক দিক থেকে বড় কোনও স্বতন্ত্র গুরুত্ব না থাকলেও, প্রাচীন কামরূপ ও পরবর্তী রাজবংশের বিস্তৃত ইতিহাসের অংশ হিসেবে মানকাচরের অবস্থান রয়েছে। তবে আধুনিক গুরুত্ব এসেছে মূলত দেশভাগ-পরবর্তী জনসংখ্যা পরিবর্তন ও সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে। ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশন ঘিরে তীব্র বিতর্কও এই কেন্দ্রকে আলোচনায় এনেছে। এআইইউডিএফ, এএএমএসইউ, কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের অভিযোগ—নির্বাচন কমিশন মুসলিম ভোটারদের কিছু বড় কেন্দ্রে কেন্দ্রীভূত করে (যেমন মানকাচর) পাশের আসনগুলিতে তাদের প্রভাব কমিয়েছে, যা বিজেপি ও তার মিত্রদের সুবিধা দিতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে মানকাছারে বিজেপি কার্যত অপ্রাসঙ্গিক। ফলে লড়াইয়ের মূল ভার পড়ছে অগপ-র উপর, যারা বিজেপির জোটসঙ্গী হিসেবে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছুড়বে। একই সঙ্গে নজর থাকবে এআইইউডিএফ-এর দিকে—২০২৪-এর ধাক্কা কাটিয়ে তারা আদৌ ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না। মানকাছার তাই শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়—এটি এক রাজনৈতিক পরীক্ষাগার, যেখানে দল নয়, শেষ কথা বলে প্রার্থী, সমাজ ও সময়ের স্রোত।
Input by: Ajay Jha
Zabed islam
AGP
Zamer ali
IND
Monowar hussain
IND
Aminul islam
NPEP
Rukunur zaman
IND
Nota
NOTA
Sayed hassan iman
JD(U)
Shahidur alam
SUCI
Md. aminul islam
AIUDF
Zabed islam
IND
Abdul salam shah
BJP
Aminul islam
IND
Rukunur zaman
IND
Pahchan ali
SUCI
Nota
NOTA
Mostaque md moksedur hassan
SP