
ব্রহ্মপুত্রের সমতলভূমি ঘেঁষে থাকা অসমের গোয়ালপাড়া জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র—গোয়ালপাড়া পশ্চিম। ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশনের পর এই কেন্দ্র এখন গুয়াহাটি লোকসভা আসনের অন্তর্গত ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। ১৯৬৭ সালে সৃষ্টি হওয়ার পর এতদিন এটি ছিল সাধারণ আসন। কিন্তু ২০২৩-এর পুনর্বিন্যাসে নির্বাচন কমিশন একে তফসিলি উপজাতি (এসটি) সংরক্ষিত আসনে পরিণত করেছে—২০২৬ নির্বাচন থেকেই কার্যকর, ফলে এখন থেকে শুধুমাত্র এসটি প্রার্থীরাই এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
১৯৬৭ থেকে ২০২১—এই দীর্ঘ পরিসরে মোট ১১টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে গোয়ালপাড়া পশ্চিম। কংগ্রেস পাঁচবার জিতেছে, নির্দল প্রার্থীরা তিনবার। প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টি, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)...
ব্রহ্মপুত্রের সমতলভূমি ঘেঁষে থাকা অসমের গোয়ালপাড়া জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র—গোয়ালপাড়া পশ্চিম। ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশনের পর এই কেন্দ্র এখন গুয়াহাটি লোকসভা আসনের অন্তর্গত ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। ১৯৬৭ সালে সৃষ্টি হওয়ার পর এতদিন এটি ছিল সাধারণ আসন। কিন্তু ২০২৩-এর পুনর্বিন্যাসে নির্বাচন কমিশন একে তফসিলি উপজাতি (এসটি) সংরক্ষিত আসনে পরিণত করেছে—২০২৬ নির্বাচন থেকেই কার্যকর, ফলে এখন থেকে শুধুমাত্র এসটি প্রার্থীরাই এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
১৯৬৭ থেকে ২০২১—এই দীর্ঘ পরিসরে মোট ১১টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে গোয়ালপাড়া পশ্চিম। কংগ্রেস পাঁচবার জিতেছে, নির্দল প্রার্থীরা তিনবার। প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টি, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) এবং এআইইউডিএফ—প্রত্যেকে একবার করে জয় পেয়েছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলবদল ও রাজনৈতিক রদবদল ছিল চোখে পড়ার মতো। শেখ শাহ আলম, যিনি ২০০১ সালে এনসিপি-র হয়ে জিতেছিলেন, ২০১১-তে এআইইউডিএফ প্রার্থী হিসেবে অগপ-র পুরন্দর রাভাকে ১০,৯৩৮ ভোটে হারান। ২০১৬-তে কংগ্রেসের আব্দুর রশিদ মণ্ডল, যিনি ২০০৬-এও জিতেছিলেন, শাহ আলমকে ২৪,৩৩৯ ভোটে হারিয়ে আসন পুনর্দখল করেন। ২০২১-এ মণ্ডল আবারও জয়ী হন—এই বার অগপ প্রার্থী হিসেবে লড়া শেখ শাহ আলমকে ৪৬,০২৪ ভোটে পরাজিত করে।
লোকসভা নির্বাচনের ভোটের অঙ্কে একসময় এই কেন্দ্রে এআইইউডিএফ-এর দাপট স্পষ্ট ছিল। ২০০৯-এ তারা কংগ্রেসকে ১৩,৩৬৭ ভোটে, ২০১৪-তে ৯,৮২২ ভোটে এবং ২০১৯-এ অগপ-কে ২৭,৩০১ ভোটে এগিয়ে ছিল। তখন এই কেন্দ্র ধুবড়ি লোকসভা আসনের অংশ ছিল। কিন্তু ২০২৩-এ গুয়াহাটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই সমীকরণ বদলায়—২০২৪-এ এই কেন্দ্রে বিজেপি ২৮,৭৭২ ভোটে কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে।
২০২৫ সালের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) তেমন প্রভাব ফেলেনি, কিন্তু ২০২৩-এর ডিলিমিটেশন গোয়ালপাড়া পশ্চিমের ভৌগোলিক ও জনতাত্ত্বিক চরিত্র আমূল বদলে দেয়। মুসলিম অধ্যুষিত একাধিক গ্রাম সরিয়ে নেওয়া হয়—মূলত জলেশ্বরের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কেন্দ্রে। তার বদলে যুক্ত করা হয় হিন্দু ও উপজাতি অধ্যুষিত এলাকা। ফলে মোট ভোটারের সংখ্যা খুব বেশি না বাড়লেও জনসংখ্যার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬-এ ভোটার সংখ্যা ১,৬১,১৫৬—২০২৪-এর ১,৫৮,৭৬৫ থেকে সামান্য বেশি। আগে ২০২১-এ ছিল ১,৭৩,৫৪২, ২০১৯-এ ১,৬০,৪৫৯, ২০১৬-তে ১,৪৮,৪৫৪, ২০১৪-তে ১,৩৭,২৬৮ এবং ২০১১-তে ১,২৬,৯৯৫।
ডিলিমিটেশনের আগে মুসলিম ভোটার ছিল ৬৮.৯০ শতাংশ—সবচেয়ে বড় অংশ। তফসিলি উপজাতি ১৬.৭৬ শতাংশ এবং তফসিলি জাতি ২.৩৫ শতাংশ। এখন নতুন সীমানায় নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না মিললেও, বিশ্লেষণ বলছে মুসলিমরা আর একক সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়; উপজাতি ও হিন্দু ভোটারের উপস্থিতি বেড়েছে। গ্রামীণ চরিত্র এখানেও প্রবল—মাত্র ৯.৩৫ শতাংশ শহুরে ভোটার, ৯০.৬৫ শতাংশ গ্রামে। ভোটদানের হার বরাবরই উচ্চ—২০১১-তে ৮৭.৫৫%, ২০১৪-তে ৮৮.৬২%, ২০১৬-তে ৯১.৮৯%, ২০১৯-এ ৯০.৭৩%, ২০২১-এ ৯০.৩১%। তবে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে তা কিছুটা নেমে ৮৬.৯২% হয়েছে।
ভূগোলের দিক থেকেও গোয়ালপাড়া পশ্চিম চিরচেনা অসমের প্রতিচ্ছবি—ব্রহ্মপুত্রের বন্যাপ্রবণ সমতলভূমি, চরাঞ্চল, নিম্নভূমি। ধান, পাট, মাছধরা—এই সবই জীবিকার ভিত্তি। কিন্তু প্রতি বছরের বন্যা ও ভাঙন এই জীবনযাত্রায় অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলে।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় রয়েছে রাজ্য সড়ক, গ্রামীণ রাস্তা, বাঁধ—এবং গোয়ালপাড়া শহরের সঙ্গে সংযোগ (১০-২০ কিমি)। দুধনই (২০-৩০ কিমি), কৃষ্ণাই, রাঙ্গাজুলি—নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। রেল সংযোগ রয়েছে গোয়ালপাড়া টাউন স্টেশন (১৫-৩০ কিমি দূরে বিভিন্ন অংশ থেকে), যা গুয়াহাটি-সহ বড় শহরের সঙ্গে যুক্ত। রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটি ১২০-১৫০ কিমি পূর্বে। উত্তরে ব্রহ্মপুত্র, দক্ষিণে মেঘালয়ের পূর্ব গারো পাহাড় জেলা (তুরা প্রায় ৮০-১০০ কিমি), পশ্চিমে ধুবড়ি জেলা—আর তারও ওপারে বাংলাদেশ সীমান্ত।
ডিলিমিটেশন ঘিরে বিতর্ক এখানেও কম হয়নি। এআইইউডিএফ, কংগ্রেস, এএএমএসইউ-সহ বিরোধীদের অভিযোগ—নিম্ন অসমে মুসলিম ভোটারদের প্রভাব কমাতে ইচ্ছাকৃতভাবে এলাকা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। গোয়ালপাড়া পশ্চিমে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল বাদ দিয়ে উপজাতি ও হিন্দু এলাকা যুক্ত করে এসটি সংরক্ষণ চালু করা—এই পদক্ষেপ বিজেপি ও তার মিত্রদের সুবিধা দিতেই বলে অভিযোগ।
নতুন বাস্তবতায় সমীকরণও পাল্টে গেছে। তিনবারের কংগ্রেস বিধায়ক আব্দুর রশিদ মণ্ডল, যিনি পরে রাইজোর দলে যোগ দিয়েছেন, এখন আর লড়াই করতে পারবেন না—কারণ তিনি এসটি নন। কংগ্রেস প্রার্থী করেছে মার্কলাইন মারাককে।
গোয়ালপাড়া পশ্চিম এখন যেন পুরনো বোতলে নতুন মদ। জনতাত্ত্বিক বদল, মুসলিম ভোটারের আপেক্ষিক হ্রাস, বিরোধী জোটে এআইইউডিএফ-এর অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে ভোটের সমীকরণ অনিশ্চিত। মুসলিম ভোট ভাগ হলে এবং এসটি ও অ-মুসলিম ভোট একজোট হলে বিজেপি ও তার মিত্রদের সুবিধা মিলতে পারে।
তবে শেষ কথা এখনও অজানা। প্রথমবারের মতো এসটি সংরক্ষিত এই কেন্দ্রে ২০২৬-এর নির্বাচন—গোয়ালপাড়া পশ্চিমকে করে তুলেছে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক রণক্ষেত্র, যার ফলাফলের দিকে নজর থাকবে গোটা অসমের।
Input by: Ajay Jha
Sheikh shah alom
AGP
Chan ali miah
IND
Nabajyoti rabha
IND
Abdul baten sikdar
NPEP
Nota
NOTA
Puspadhar nath
VPI
Pabitra kumar nath
IND
Nizam uddin
AITC
Mohibul islam
SUCI
Safior rahman
ASMJTYP
Jehirul islam
IND
Jahangir alom mondal
IND
Delowar hussain
IND
Abtabul ambia mollah
JD(U)
Sheikh shah alam
AIUDF
Jabeen barbhuiyan
BJP
Anowar hussain
AGP
Mohibul islam
SUCI
Nota
NOTA
Zesmina khatun
AITC
Mizanur rahman
IND
Khanindra chandra nath
RPI(A)
Babli goswami chakraborty
IND
Ali akbar
JMBP
Jali begum
IND
Joynal abedin
NPEP
Gias uddin ahmed
AICP