
আজ বাংলায় প্রথম দফার ভোট। আর বৃহস্পতিবারই ভাগ্যপরীক্ষা মুর্শিদাবাদের 'রবিন হুড' অধীররঞ্জন চৌধুরীর। এই দফার নির্বাচনই ঠিক করে দেবে পাঁচবারের সাংসদ, একবারের বিধায়ক এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধীরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। তিনি বাংলার রাজনীতিতে টিকে থাকবেন কি না, সেটাই এখন দেখার।
৭০ বছর বয়সের 'তরুণ' অধীর বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এটি তাঁর দীর্ঘদিনের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এই কেন্দ্র থেকেই তিনি দীর্ঘদিন জিতে এসেছেন। যদিও ২০২৪ সালেই ছন্দপতন। তিনি বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে হেরে যান। এর ফলে ১৯৯৯ সালে শুরু হওয়া তাঁর ২৫ বছরের সংসদীয় যাত্রার ইতি হয়ে যায়।
মাথায় রাখতে হবে, বহরমপুরের সঙ্গে চৌধুরীর সম্পর্ক প্রায় তিন দশকের। তিনি রাজীব গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন কংগ্রেসে যোগ দেন। যদিও ১৯৯১ সালে নবগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনে তিনি হেরে যান। তবে সেই কেন্দ্র থেকেই ১৯৯৬ সালে তিনি জয়ী হন। এরপর থেকে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র তাঁকে টানা পাঁচবার সংসদে পাঠিয়েছে। প্রতিবারই তিনি বিপুল ব্যবধানে জিতে এসেছেন।
তবে ২০২৪ সালে তৃণমূলের পাঠানের কাছে তাঁকে হারতে হয়। তাঁর পরাজয় রাজ্যজুড়ে বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালদার মতোই বহরমপুর পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি ছিল। যদিও রাজ্যের অন্যত্র দলের প্রভাব কমে গিয়েছিল। একসময় ‘নবাবদের জেলা’ নামে পরিচিত মুর্শিদাবাদ বাংলায় কংগ্রেসের দুর্বল সময়ে দলকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু সেই ট্রেন্ড ভেঙে যায় ২০২৪ সালে।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পরিসংখ্যান অধীরের সামনে চ্যালেঞ্জের চিত্র স্পষ্ট করে। সেই ভোটে বহরমপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তী ২০.৩৩ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। বিজেপির সুব্রত মৈত্র ৪৫.২১ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। আর তৃণমূলের প্রার্থী ৩১.৬২ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। এবার সেই সিটেই ভাগ্য পরীক্ষা অধীরের।
কংগ্রেস মনোজ চক্রবর্তীর পরিবর্তে অধীরকের প্রার্থী করেছে দল। বিজেপি আবার সুব্রত মৈত্রকেই প্রার্থী করেছে। আর তৃণমূল কংগ্রেস বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়কে টিকিট দিয়েছে। ফলে লড়াই এখানে সেয়ানে সেয়ানে।
মাথায় রাখতে হবে, এখানে ত্রিমুখী লড়াই। অধীরের প্রতিদ্বন্দ্বী দুইজনই প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় মুখ। তাই চ্যালেঞ্জ তো একটা থাকছেই। কংগ্রেসের জন্য মুর্শিদাবাদ জেলা রাজ্যে দলের পুনরুত্থানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চৌধুরীর কাছে এই লড়াই ব্যক্তিগত লড়াইও বটে। এবারও হারলে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।
অধীর তাঁর পাঁচবারের সাংসদের ইমেজ, মানুষের 'কাছের ছেলে' এবং ‘মাটির ছেলে’ পরিচয়কে প্রচারের মূল ভিত্তি করেছেন। দলীয় কর্মীরাও সেই মতো সারছেন কাজ। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা জেলায় শিবির করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ভোটের ফলাফল জানিয়ে দেবে অধীর এখনও মুর্শীদাবাদের ভোটারদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বজায় রেখেছেন, নাকি সরে গেছেন দূরে। আর তার উপরই নির্ভর করবে এই রবিন হুডের ভাগ্য।