
পশ্চিমবঙ্গের ভোটে বিজেপি ঝড়। তবে এর মাঝেও চমকপ্রদ উত্থান হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীরের। বাবরি মসজিদ তৈরির দায়িত্ব নেওয়া হুমায়ুন দুই জায়গা থেকে লড়ছেন। আর দুই জায়গাতেই লিড রয়েছে তাঁর।
মাথায় রাখতে হবে, কিছু মাস আগেও তৃণমূলের নেতা ছিলেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু হঠাৎই তাঁর মতিগতি বদলে যায়। তিনি বাবরি মসজিদ তৈরির কথা ঘোষণা করেন। তারপরই রাজ্য রাজনীতিতে হইচই শুরু হয়ে যায়। এই সময়ই তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে সাসপেন্ড করে। তখন ভরতপুরের বিধায়ক ছিলেন তিনি।
এসবের মাঝেই হুমায়ুন কবীর ২০২৬ সালের ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আর ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি বাবরি মসজিদ নির্মাণের কাজও শুরু করে দেন। এরই মাঝে নতুন দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি তৈরি করেন। তাঁর দল এই ভোটে লড়াই করছে। সেখানেই বাজিমাত করলেন তিনি।
দু'টি সিটে লড়ছেন, দুই জায়গায় রয়েছে লিড
এইবার ভোটে রেজিনগর এবং নওদা সিটে লড়াই করছেন হুমায়ুন। আর এই দুই সিটেই তিনি অনেক ভোটে এগিয়ে আছেন বলে খবর মিলছে।
রেজিনগর সিটে ৭ রাউন্ডের কাউন্টিংয়ের পর ৩৮ হাজার ৩৪ ভোটে তিনি বিজেপির প্রার্থীর থেকে এগিয়ে রয়েছেন। তিনি ৬৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন।
তবে শুধু রেজিনগর নয়, নওদাতেও এগিয়ে রয়েছে হুমায়ুন। এখানে তিনি ১৬০০০ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। এখানে ১০ রাউন্ডের কাউন্টিং হয়ে গিয়েছে। আর ইতিমধ্যেই হুমায়ুন জানিয়ে দিয়েছেন, দুই সিটেই জিততে চলেছেন তিনি।
কী বললেন হুমায়ুন?
আজ তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর জন্য বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ দিয়েছেন হুমায়ুন। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যকে লুটেছে বলে অভিযোগ করেন।
তিনি আজ বলেন, 'আমি কী বলব? যা হয়েছে ভালর জন্যই হয়েছে। এমনটা হওয়ারই ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি নিজের ভাইপোকে বেশি শক্তি দিয়ে দেন। উনি সাধারণ মানুষকে ধোকা দিয়েছেন। তাদের পয়সা লুট করেছেন। ইংরেজরা ১০০ থেকে ২০০ বছর যেই লুঠ করেনি, সেটা উনি ১৫ বছরে করে ফেলেছেন। আমি বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ জানাই যাঁরা তৃণমূলকে বড় জবাব দিয়েছে। উনি রাজ্যকে লুটেছেন।'
মাথায় রাখতে হবে, এখনও চূড়ান্ত ফলাফল সামনে আসেনি। সেটা আসতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তবে তার আগে ট্রেন্ড যা দেখা যাচ্ছে, তাতে এগিয়ে রাজ্যে বিজেপির প্রবল হাওয়া রয়েছে।