Advertisement

কোনও দলকেই চান না যাঁরা, একুশে NOTA ভোট পড়েছিল প্রায় সাড়ে ৬ লাখ, কোথায় বেশি?

তবু তাঁরা ভোট দেন। কারণ গণতন্ত্রের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা এখনো অটুট। কিন্তু সেই অংশগ্রহণের ভেতরে লুকিয়ে থাকে এক ধরনের আপোষ, সীমিত বিকল্পের মধ্যে নিজের অসন্তোষকে প্রকাশ করার আপোষ। ‘NOTA’ তাই শুধু একটি বোতাম নয়, এটি হয়ে উঠেছে এক নীরব প্রতিবাদ, এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন, যার জবাব এখনো খুঁজে পায়নি বাংলার রাজনীতি।

Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 27 Apr 2026,
  • अपडेटेड 10:52 AM IST
  • দিন দিন ভোটের বিষয়ে উদাসীন হয়ে যাচ্ছে এই প্রজন্মের একাংশ।
  • তাঁদের মনে হয়, ভোট যেন সার্কাস, প্রার্থীরা সবাই জোকার, এই হতাশা থেকেই বাংলার দ্বিতীয় দফার ভোটে অনেকের আঙুল ছুঁয়ে যাবে ‘NOTA’ বোতাম।

দিন দিন ভোটের বিষয়ে উদাসীন হয়ে যাচ্ছে এই প্রজন্মের একাংশ। তাঁদের মনে হয়, ভোট যেন সার্কাস, প্রার্থীরা সবাই জোকার, এই হতাশা থেকেই বাংলার দ্বিতীয় দফার ভোটে অনেকের আঙুল ছুঁয়ে যাবে ‘NOTA’ বোতাম। অংশগ্রহণে ভাটা নেই, কিন্তু বিশ্বাসে ফাটল স্পষ্ট। ভোটাররা লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, নিয়ম মেনে ভোট দিচ্ছেন, তবু তাঁদের একাংশের কাছে এই প্রক্রিয়া যেন ক্রমশ অর্থহীন হয়ে উঠছে।

অনেকেই মনে করছেন, ইভিএমে থাকা কোনও প্রার্থীই তাঁদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করছেন না। ফলে ‘NOTA’, অর্থাৎ ‘ওপরের কোনওটিই নয়’, হয়ে উঠছে প্রতিবাদের নীরব ভাষা। এটি উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং রাজনৈতিক দল ও নেতাদের থেকে ক্রমবর্ধমান দূরত্বেরই প্রতিফলন। ভোটাররা বলছেন, তাঁরা আর কোনও দলের প্রতি আস্থাশীল নন, আবার সম্পূর্ণভাবে প্রক্রিয়া থেকেও সরে দাঁড়াতে চাইছেন না, এই দ্বৈত মানসিকতাই তাঁদের ঠেলে দিচ্ছে ‘NOTA’-র দিকে।

পরিসংখ্যানও সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৬ লক্ষ ৪৬ হাজারেরও বেশি ভোট পড়েছিল ‘NOTA’-র পক্ষে, যা মোট ভোটের প্রায় ১.০৮ শতাংশ। কলকাতা ও সংলগ্ন একাধিক কেন্দ্রে হাজার হাজার ভোটার এই বিকল্প বেছে নিয়েছিলেন, মহেশতলা, হাওড়া মধ্য, বেহালা পূর্ব-পশ্চিম কিংবা টালিগঞ্জ, সব জায়গাতেই সেই প্রবণতা চোখে পড়ার মতো।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও একই ছবি ধরা পড়ে। বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ১৫ হাজার থেকে ২৪ হাজার পর্যন্ত ‘NOTA’ ভোট নথিবদ্ধ হয়েছে। সংখ্যাটা হয়তো মোট ভোটের তুলনায় কম, কিন্তু বার্তাটা স্পষ্ট, ভোটারদের একাংশ ক্রমশ বিমুখ হচ্ছেন প্রচলিত রাজনৈতিক বিকল্প থেকে।

তবু তাঁরা ভোট দেন। কারণ গণতন্ত্রের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা এখনো অটুট। কিন্তু সেই অংশগ্রহণের ভেতরে লুকিয়ে থাকে এক ধরনের আপোষ, সীমিত বিকল্পের মধ্যে নিজের অসন্তোষকে প্রকাশ করার আপোষ। ‘NOTA’ তাই শুধু একটি বোতাম নয়, এটি হয়ে উঠেছে এক নীরব প্রতিবাদ, এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন, যার জবাব এখনো খুঁজে পায়নি বাংলার রাজনীতি।

Advertisement

 

Read more!
Advertisement
Advertisement