
দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র হল মহেশতলা। এটি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা সাতটি ভাগের মধ্যে অন্যতম। ১৯৫১ সালে এই আসনটি তৈরি হয়। এই কেন্দ্রে মহেশতলা পৌরসভার ২৬টি ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত। এটি কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথারিটির মধ্যে পড়ে। এই আসনটিতে কোনও গ্রামীণ ভোটার নেই। এটা পুরোপুরি শহরভিত্তিক কেন্দ্র। এখনও পর্যন্ত ১৮টি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে মহেশতলায়। যার মধ্যে বিধায়ক কস্তুরী দাসের মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত হওয়া ২০১৮ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। প্রসঙ্গত, একটা সময় এই আসন ছিল বামদুর্গ। ছয় দশক ধরে এখানে কমিউনিস্ট দলগুলো দাপট দেখিয়েছি। এখানে CPI(M) এবং CPI মোট ১২টি নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। ১৯৬২ এব...
দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র হল মহেশতলা। এটি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা সাতটি ভাগের মধ্যে অন্যতম। ১৯৫১ সালে এই আসনটি তৈরি হয়। এই কেন্দ্রে মহেশতলা পৌরসভার ২৬টি ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত। এটি কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথারিটির মধ্যে পড়ে। এই আসনটিতে কোনও গ্রামীণ ভোটার নেই। এটা পুরোপুরি শহরভিত্তিক কেন্দ্র। এখনও পর্যন্ত ১৮টি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে মহেশতলায়। যার মধ্যে বিধায়ক কস্তুরী দাসের মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত হওয়া ২০১৮ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। প্রসঙ্গত, একটা সময় এই আসন ছিল বামদুর্গ। ছয় দশক ধরে এখানে কমিউনিস্ট দলগুলো দাপট দেখিয়েছি। এখানে CPI(M) এবং CPI মোট ১২টি নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। ১৯৬২ এবং ১৯৭২ সালে, এই দুইবার মাত্র কংগ্রেস এই আসন জিতেছে। অবশ্য ২০১১ সালে এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক মোড় ঘুরে যায়। তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমবার মহেশতলা আসনটি জয় করে। ওই বছর তৃণমূলের কস্তুরী দাস সিপিএম-এর শেখ মোহাম্মদ ইসরাইলকে ২৪,২৮৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালেও তিনি আসনটি ধরে রাখেন। তবে CPI(M)-এর শমিক লাহিড়ীর বিরুদ্ধে তার ব্যবধান কমে যায়। সে বার মাত্র ১২,৪৫২ ভোটে জেতেন তিনি। তবে কস্তুরি দাসের মৃত্যুর পর ২০১৮ সালের উপনির্বাচনে দাঁড়ান তাঁর স্বামী দুলাল চন্দ্র দাস। এই ভোটটি তিনি ৬২,৭৬৫ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এরপর আবার ২০২১ সালে ৫৭,৯৪৯ ভোটে জিতে তিনি আসনটি ধরে রাখেন। অবশ্য ২০১৮ সালের উপনির্বাচন থেকে বিজেপি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে উঠে আসছে। বামেরা ক্রমশ প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে। ২০১৯ এবং ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনও সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। ২০১৯ সালে মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস ২৮,৮৪০ ভোটে বিজেপির থেকে এগিয়ে ছিল। যদিও ২০২৪ সালে এই ব্যবধান বেড়ে যায়। সেই ভোটে তৃণমূল এগিয়ে যায় ৬৯,৫৩৮ ভোটে। এই ভোটে সিপিএম CPI(M) আরও পিছিয়ে পড়ে। ২০১৯ সালে এখানকার ভোটারের সংখ্যা ছিল ২,৫২,৭৬০ জন। ২০২১ সালের হিসেব বলছে মহেশতলায় ২,৭১,০০৭ জন ভোটার ছিল। তবে ২০২৪ সালে তা বেড়ে ২,৭৭,৪৪১ জনে পৌঁছে গিয়েছে। এই কেন্দ্রে লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে বেশি ভোটার ভোট দিয়ে এসেছেন। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখানে ৮০.৯৪ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ছিল ৮১.২৫ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। আবার ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৭৮.২৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৮.৯২ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। মহেশতলা হুগলী নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। এটি গঙ্গা ব-দ্বীপের অংশ। ভূখণ্ডটি সমতল এবং পলি দ্বারা গঠিত। সেই কারণে ভারী বৃষ্টির সময় এই এলাকায় জল জমার প্রবণতা রয়েছে। তবে KMDA-এর বর্তমানে এই সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করেছে। অর্থনৈতিকভাবে দেখলে মহেশতলা একটি মাঝারি শিল্পাঞ্চল শহর থেকে একটি ব্যস্ত শহরে পরিণত হয়েছে। এখানে পোশাক তৈরি, প্লাস্টিকের জিনিস তৈরি এবং ধাতব কাজ সহ ছোট ও মাঝারি আকারের শিল্প রয়েছে। আসলে এই কেন্দ্রের কাছেই রয়েছে বজবজ বন্দর। যার ফলে এই জায়গার লজিস্টিকের গুরুত্ব রয়েছে। এছাড়া গত কিছু বছরে এই এলাকায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসা বাড়ছে। এখানে বেশ কিছু সংস্থা আবাসন প্রকল্প এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। একানকার রাস্তা বেশ ভাল। মূল কলকাতার সঙ্গে ভালভাবেই কানেক্টেড। এছাড়া ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা পরিকল্পনার অধীনে এখানে বর্জ্র পরিশোধন প্রকল্প হতে চলেছে। জেলা সদর আলিপুর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং কলকাতার কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে রয়েছে বজবজ (১০ কিমি), পূজালী (১২ কিমি) এবং বেহালা (৮ কিমি)। এছাড়া এই কেন্দ্রটির উত্তর দিকে রয়েছে ঠাকুরপুকুর এবং মেটিয়াবুরুজ। আর দক্ষিণ দিকে বজবজের সঙ্গে সীমানা রয়েছে। নদীর ওপারে রয়েছে হাওড়া জেলার কিছু অংশ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এখানে তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখানে বিধানসভা এবং লোকসভা দুই নির্বাচনে তারা ধারাবাহিকভাবে জয় পেয়েছে। বিজেপির ভোট বাড়লেও তারা তেমন কোনও বড় দিকে এগতে পারেনি। এখন দেখার ২০২৬ সালে এখানে কী হয়।
Umesh das
BJP
Pravat chowdhury
CPI(M)
Nota
NOTA
Subhendu barik
IND
Rina debi
BSP
Dhruba kumar bose
IND
Samik lahiri
CPM
Kartic ch. ghosh
BJP
Nota
NOTA
Debashish bose
PDS
Bechu mondal
IND