
ভোটের দিন প্রতিটি নেতার উপর কড়া নজর রেখেছিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কে ঘরে বসে কাকে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, আর কে শুধুই লোক দেখানো মাঠে নেমেছেন, সবকিছুর উপরই ছিল ‘অদৃশ্য নজরদারি’। একই সঙ্গে চলেছে তথ্য সংগ্রহের কাজও। সূত্রের দাবি, এই গোয়েন্দাগিরিতে সাহায্য করেছেন বিজেপিরই কিছু ‘বিভীষণ’।
এদিকে, শনিবার কাউন্টিং এজেন্ট ও দলের নেতাদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করতে চলেছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা যাচ্ছে, বুথ ফেরত সমীক্ষার উপর ভরসা না করে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাটিতে থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিতে পারেন তিনি। ইতিমধ্যেই কাউন্টিং এজেন্টদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাঁদের শান্ত মাথায়, স্নায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে পুরো গণনা প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। কোনও প্ররোচনায় পা না দেওয়ার কথাও বলা হতে পারে বৈঠকে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর ও খণ্ডঘোষে বিশেষ নজর ছিল নেতৃত্বের। প্রচারে এসে এক নেতাকে নাম না করে সতর্কও করা হয়েছিল। ভোটের দিন তাঁর গতিবিধির উপর ছিল কড়া নজর, জানা যায়, তিনি দুপুর পর্যন্ত নিজের গ্রামে ছিলেন, পরে পূর্বস্থলীর দিকে যান। খণ্ডঘোষের কয়েকজন নেতার নিষ্ক্রিয় ভূমিকাও নজরে এসেছে। পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্র নিয়েও সারাদিন খোঁজখবর রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পশ্চিম বর্ধমান থেকেও ‘গদ্দারি’র অভিযোগ উঠে এসেছে। সূত্রের দাবি, কিছু তৃণমূল নেতা-কর্মী সুবিধা নিয়েও দলকে পিছন থেকে আঘাত করেছেন। অন্যদিকে, বহু বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা-কর্মী নাকি গোপনে তৃণমূলকে সাহায্য করেছেন। বিজেপির এই ‘বিভীষণ’রাই নাকি তৃণমূলের গদ্দারদের চিহ্নিত করতে সাহায্য করেছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চায়নি বিজেপি।
বিজেপির জানাচ্ছে, ফল ঘোষণার পর থেকেই দলের ভিতরে কারা গদ্দারি করেছেন, তা চিহ্নিত করা হবে। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা নেতাদের কড়া শাস্তি দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, বিজেপির অন্দরেও তৃণমূলকে সাহায্য করার লোক রয়েছে।
রাজনীতিতে ‘গদ্দারি’র ইতিহাস নতুন নয়। অতীতেও একাধিক নির্বাচনে দলের ভেতরের দ্বন্দ্ব ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ উঠেছে। এবারের ভোটেও একই চিত্র সামনে এসেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, গণনার পর এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে দলগুলি কী পদক্ষেপ নেয়।