
পূর্বস্থলী উত্তর পশ্চিমবঙ্গের একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে এটি ছিল সিপিআই(এম)-এর শক্ত ঘাঁটি, মাঝে মাঝে কংগ্রেস জিতেছে, আর বর্তমানে এখানে মূল লড়াই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় অবস্থিত পূর্বস্থলী উত্তর পূর্বস্থলী শহরকেন্দ্রিক দুইটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি, অন্যটি পূর্বস্থলী দক্ষিণ। এই আসনটি গঠিত হয় ১৯৫১ সালে। এর মধ্যে রয়েছে পুরো পূর্বস্থলী–২ ব্লক এবং পূর্বস্থলী–১ ও মন্তেশ্বর ব্লকের তিনটি করে গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত।
এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত সব ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনেই পূর্বস্থলী উত্তর একটি কেন্দ্র ছিল। ১৯৫১ থেকে ১৯৬২ পর্যন্ত প্রথম তিনটি নির্বাচনে এখানে কংগ্রেস জেতে...
পূর্বস্থলী উত্তর পশ্চিমবঙ্গের একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে এটি ছিল সিপিআই(এম)-এর শক্ত ঘাঁটি, মাঝে মাঝে কংগ্রেস জিতেছে, আর বর্তমানে এখানে মূল লড়াই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় অবস্থিত পূর্বস্থলী উত্তর পূর্বস্থলী শহরকেন্দ্রিক দুইটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি, অন্যটি পূর্বস্থলী দক্ষিণ। এই আসনটি গঠিত হয় ১৯৫১ সালে। এর মধ্যে রয়েছে পুরো পূর্বস্থলী–২ ব্লক এবং পূর্বস্থলী–১ ও মন্তেশ্বর ব্লকের তিনটি করে গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত।
এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত সব ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনেই পূর্বস্থলী উত্তর একটি কেন্দ্র ছিল। ১৯৫১ থেকে ১৯৬২ পর্যন্ত প্রথম তিনটি নির্বাচনে এখানে কংগ্রেস জেতে। এরপর ১৯৬৭, ১৯৬৯ ও ১৯৭১—এই তিনটি নির্বাচনে সিপিআই(এম) জয়ী হয়। ১৯৭২ সালে কংগ্রেস আবার আসনটি দখল করে, যা এখানে কংগ্রেসের শেষ জয়। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা ছয়বার সিপিআই(এম) জেতে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমবার বামেদের পরাজিত করে। ২০১৬ সালে সিপিআই(এম) অল্প সময়ের জন্য আসনটি ফেরত পেলেও ২০২১ সালে আবার তৃণমূলের কাছে হার মানে। মোট হিসেবে সিপিআই(এম) ১১ বার, কংগ্রেস ৪ বার এবং তৃণমূল কংগ্রেস ২ বার এই আসনে জয় পেয়েছে।
২০১১ সালে তৃণমূলের তপন চট্টোপাধ্যায় সিপিআই(এম)-এর প্রদীপ সাহাকে ২,১৪০ ভোটে হারিয়ে বাম দুর্গ ভাঙেন। ২০১৬ সালে সেই ফল উল্টে যায়। প্রদীপ সাহা তপন চট্টোপাধ্যায়কে ২,৮২৮ ভোটে পরাজিত করেন। ২০২১ সালে তৃণমূল আবার আসনটি ফিরে পায়, তপন চট্টোপাধ্যায় বিজেপির গোবর্ধন দাসকে ৬,৭০৬ ভোটে হারান। এর ফলে স্পষ্ট হয় যে বিজেপি এখন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে।
লোকসভা নির্বাচনে পূর্বস্থলী উত্তর অংশে তৃণমূল তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল লিড ধরে রেখেছে, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সেই ব্যবধান কমেছে। ২০০৯ সালে এখানে সিপিআই(এম) তৃণমূলের থেকে ৫,০৭৫ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে তৃণমূল সিপিআই(এম)-এর বিরুদ্ধে ১৫,৮৫৮ ভোটের লিড পায়। এরপর বিজেপি বামেদের জায়গা নিয়ে প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে। ২০১৯ সালে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের লিড ছিল মাত্র ২,৭০৫ ভোট এবং ২০২৪ সালে ৩,২৩৮ ভোট।
২০২৪ সালে পূর্বস্থলী উত্তরে মোট ভোটার ছিলেন ২,৬১,৯৭৮ জন। ২০২১ সালে ছিল ২,৫২,৬২৬, ২০১৯ সালে ২,৪১,৯৬১, ২০১৬ সালে ২,২৫,৫১৩ এবং ২০১১ সালে ১,৮৯,৩৭৩ জন। মুসলিম ভোটার এখানে সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী—মোট ভোটারের ২৮.৫০ শতাংশ। এরপর তফসিলি জাতি ২৫.২০ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতি ৩.৪৪ শতাংশ। এটি পুরোপুরি গ্রামীণ কেন্দ্র, শহুরে ভোটার নেই। ভোটার উপস্থিতি বরাবরই ভালো—২০১১ সালে ৮৮.১০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৬.৪৫ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৩.৬৯ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৪.১২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮০.৩৯ শতাংশ।
ভৌগোলিকভাবে পূর্বস্থলী পূর্ব বর্ধমান জেলার পলিমাটি সমভূমিতে, কাটোয়া ও নবদ্বীপের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। ভাগীরথী, অজয় ও দামোদর নদীর মাঝে গঠিত উর্বর সমভূমিতে এই এলাকা, যেখানে গভীর পলিমাটি নিবিড় কৃষিকাজের পক্ষে সহায়ক। পূর্বস্থলী শহরের কাছে ভাগীরথীর একটি বড় অক্সবো হ্রদ রয়েছে, যা পাখির জন্য বিখ্যাত জলাভূমি। ছোট ছোট খাল ও পুকুর সেচ ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত হয়।
এখানকার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। ধান প্রধান ফসল, পাশাপাশি পাট, তেলবীজ, সবজি ও কিছু ডাল চাষ হয়। উঁচু জলস্তর ও উর্বর মাটির কারণে বহু গ্রামে বছরে একাধিক ফসল সম্ভব। অনেক মানুষ কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন বা নিকটবর্তী বাজার কেন্দ্র—পূর্বস্থলী, কালনা ও কাটোয়ায় ছোট ব্যবসা, পরিবহণ ও পরিষেবামূলক কাজে যুক্ত। কেউ কেউ আরও দূরে বর্ধমান বা কলকাতায় যাতায়াত করে কাজ করেন।
যোগাযোগ ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো। পূর্বস্থলী শহর বান্ডেল–কাটোয়া রেললাইনে অবস্থিত, হাওড়া ও শিয়ালদহগামী সরাসরি ট্রেন রয়েছে, যাত্রা সময় প্রায় আড়াই ঘণ্টা। সড়কপথে বর্ধমান জেলা সদর প্রায় ৬০–৭০ কিমি দূরে, কালনা ও ধাত্রিগ্রাম হয়ে যাওয়া যায়। কলকাতা প্রায় ১২০ কিমি দূরে, ব্যারাকপুর–কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ও এসটিকেকে রোড ধরে পৌঁছনো সম্ভব। কালনা, কাটোয়া, বর্ধমান এবং নদিয়ার নবদ্বীপ ও শান্তিপুর—সবই সহজ যাতায়াতের মধ্যে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকালে কাগজে-কলমে তৃণমূল কংগ্রেস কিছুটা এগিয়ে। গত সাতটি বড় নির্বাচনের মধ্যে পাঁচটিতেই তারা এখানে লিড পেয়েছে। তবে বিজেপির সঙ্গে ব্যবধান খুব কম- ২০১৯ লোকসভায় ১.৩০ শতাংশ, ২০২১ বিধানসভায় ৩.২০ শতাংশ এবং ২০২৪ লোকসভায় ১.৫০ শতাংশ। বিজেপি এখানে পূর্ণ শক্তিতে লড়াই করবে এবং তারা চাইবে বাম-কংগ্রেস জোট সামান্য হলেও ঘুরে দাঁড়াক, যাতে তৃণমূলের মুসলিম ভোটে কিছুটা ভাঙন ধরে। তৃণমূলের প্রাথমিক সুবিধা থাকলেও ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করবে বিজেপি তফসিলি জাতি ও উপজাতি ভোট বাড়াতে পারে কি না এবং বাম-কংগ্রেস কতটা জমি পুনরুদ্ধার করতে পারে তার ওপর। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে পূর্বস্থলী উত্তর একটি হাড্ডাহাড্ডি ও ভারসাম্যপূর্ণ লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে।
Gobardhan das
BJP
Pradip kumar saha
CPI(M)
Kesto roy
BSP
Bibhas das
PMPT
Nota
NOTA
Samilan sutradhar
IND
Tapan chatterjee
AITC
Swapan bhattacharya
BJP
Jyotsna goldar
BSP
Nota
NOTA
Ansarul aman mondal (babu)
CPI(ML)(L)
Binod bihari debnath
SP(I)