ক্রিকেটের ঈশ্বর তিনি। সেই সচিন তেন্ডুলকারের ছেলের বিয়ে বলা কথা! ক্রিকেট থেকে বলিউড, রাজনীতি, ভারতের তাবড় ব্যক্তিত্বদের সমাগম অর্জুন তেন্ডুলকার ও সানিয়ার বিয়েতে। অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান থেকে মুকেশ আম্বানি, মহেন্দ্র সিং ধোনি থেকে ভেঙ্কটেশ প্রসাদ, আইসিসি প্রেসিডেন্ট জয় শাহ, সচিনের ছেলের বিয়েতে গেলেন না, এমন কোনও হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিত্ব বাকি নেই।
ইতিমধ্যেই অতিথিরা যেতে শুরু করে দিয়েছেন। ক্রিকেট, বলিউড, বাণিজ্য, রাজনীতি, সচিনের ছেলের বিয়েতে সবাই হাজির হচ্ছেন। পৌঁছে গিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি ও সাক্ষী ধোনি।
অর্জুন তেন্ডুলকারের বিয়েতে হাজির হলেন মুকেশ আম্বানি ও নীতা আম্বানি। অর্জুনকে নিয়ে আবেগপ্রবণ হলেন নীতা। বললেন, 'আজ আমরা সবাই আবার সেই জায়গাতেই একত্রিত হয়েছি, যেখানে দু’বছর আগে অনন্ত আর রাধিকা তাদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল।সচিন ও অঞ্জলি, তোমরা সবসময়ই আমাদের পরিবারের অংশ ছিলে। আজ তোমাদের আনন্দের মুহূর্তে সামিল হতে পেরে আমাদের হৃদয় ভরে উঠছে। প্রিয় অর্জুন, আমাদের স্কুলে ছোট্ট ছেলেটি থেকে আজ তোমাকে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায় শুরু করার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে খুব গর্ব হচ্ছে। সানিয়া, তোমার মধ্যে এক উষ্ণ ও ইতিবাচক শক্তি রয়েছে। তোমাকে কাছ থেকে জানতে পেরে খুব ভাল লাগছে এবং তোমাদের দু’জনকে একসঙ্গে দেখতে আরও ভাল লাগছে। ঈশ্বর তোমাদের এই বন্ধন চিরকাল অটুট রাখুন।
বিয়ের অনুষ্ঠানে আসা প্রতিটি অতিথিকে নিজে আপ্যায়ন করছেন সচিন ও অঞ্জলি। তাঁদের দেখা যাচ্ছে, প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে।
বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা গেল আইসিসি প্রেসিডেন্ট জয় শাহকেও। বিয়েতে সবার সঙ্গে আড্ডায়মাতলেন জয় শাহ। সচিন নিজের সময়ের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বর্তমানের ক্রিকেটারদেরও আমন্ত্রণ করেছেন। তবে বর্তমানে ভারতীয় দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই ব্যস্ত বিশ্বকাপ নিয়ে। তাই অনেকেই যেতে পারেননি।
আজ অর্থাত্ ৫ মার্চ সানিয়ার সঙ্গে বিয়ে হচ্ছে অর্জুনের। সন্ধ্যায় T20 World Cup-এর সেমি ফাইনাল ম্যাচ রয়েছে। তাই ছেলের বিয়ের রিসেপশন পার্টি দুপুরে রেখেছেন সচিন তেন্ডুলকার।
সচিনের ছেলে অর্জুন তেন্ডুলকারের ছেলের বিয়ে হচ্ছে সানিয়া চন্দোকের সঙ্গে। সানিয়া মুম্বইয়ের এক নামী ব্যবসায়ীর কন্যা। এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অর্জুনকে ক্রিকেট বোঝাচ্ছেন খোদ সচিন।
ব্যবসায়ী রবি ঘাইয়ের নাতনি সানিয়া চন্দোক। ঘাই পরিবারের খাবার এবং হোটেলের ব্যবসা রয়েছে। এ ছাড়া দুটো নামী আইসক্রিম সংস্থার মালিক তিনি। তবে সানিয়ার বাবা গৌরবের সঙ্গে রবি ঘাইয়ের সম্পর্ক খুব একটা ভাল নয় বলেই জানা গিয়েছে।
সানিয়া পড়াশোনা করেছেন ক্যাথিড্রাল অ্যান্ড জন ক্যানন স্কুলে। এর পর তিনি লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ২০২০-তে পাশ করার পর দেশে ফিরে এসে নিজের ব্যবসা শুরু করেন।
সচিন তেন্ডুলকরের পুত্র অর্জুন নিজেও একজন ক্রিকেটার। এবারের আইপিএলে তাঁকে লখনউ সুপার জায়ান্টসের জার্সিতে দেখা যাবে। তার আগেই সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন তিনি।
সচিনের ছেলেরে বিয়েতে মোটামুটি সব প্রাক্তন ক্রিকেটারকেই দেখা গেল সস্ত্রীক। এলেন তৃণমূল সাংসদ তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। তাঁর স্ত্রীকে দেখা গেল বোরখা পরা অবস্থায়।
যুবরাজ সিং ও হ্যাজেল কিচকেও। সচিন তেন্ডুলকার যখন ভারতীয় দলে অন্যতম সিনিয়র, তখন যুবরাজ সিংয়ের ডেবিউ হয়েছিল।
সচিনের ছেলের বিয়েতে দেখা গেল মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ ঠাকরেকে। সচিন নিজে তাঁকে আপ্যায়ন করলেন। সচিনের জন্ম মুম্বইয়ে। সচিনকে প্রায় ছেলেবেলা থেকেই ঠাকরে পরিবার স্নেহ করেন।
জাহির খান পরেছিলেন স্টিল-গ্রে রঙের একটি কুর্তা, সাদা ট্রাউজার্সের সঙ্গে। তার ওপর ছিল হাতাকাটা আইভরি রঙের নেহরু জ্যাকেট, যা তাঁর সাজে আভিজাত্যের ছোঁয়া যোগ করেছিল। অন্যদিকে সাগরিকা নজর কাড়েন গাঢ় লাল রঙের সিল্ক শারারায়। ফুলের সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং রেশমের ঝলমলে আভা তাঁর সাজকে করে তুলেছিল আরও আকর্ষণীয় ও রাজকীয়।
অর্জুনের বিয়েতে হাজির হলেন ইরফান পাঠান ও তাঁর স্ত্রীকেও। ইরফান পাঠানও গোটা কেরিয়ার সচিনের সঙ্গে খেলেছেন।