পাকিস্তানের কাটা ঘায়ে নুন ছিটিয়ে দিলেন অক্ষর প্যাটেল! পাকিস্তান শুধু ভারতের শত্রু দেশই নয়, বিশ্বক্রিকেটেও চির প্রতিদ্বন্দ্বী। সীমান্তের যুদ্ধ নেমে আসে মাঠেও। সব ছবি সৌজন্য: PTI
কিন্তু রবিবার T20 বিশ্বকাপে যা ঘটল, তাতে মাঠে পাকিস্তানকে কি আদৌ আর ভারতের চির প্রতিদ্বন্দ্বী বলা যায়? প্রশ্ন তুললেন অক্ষর প্যাটেল।
কলম্বোর T20 World Cup ম্যাচ ঘিরে মাঠে যেমন উত্তেজনা ছিল, মাঠের বাইরে ততটাই আলোচনার কেন্দ্র ছিল ‘ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ’ আদৌ আগের মতো আছে কি না।
ম্যাচের ফলাফল সেই বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দিল। ৬১ রানে জিতে ভারত আবারও প্রমাণ করল, অন্তত T20 ফরম্যাটে দুই দলের ব্যবধান এখন বেশ বড়।
ম্যাচের পর ভারতীয় অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ভারতীয় ড্রেসিংরুমে পাকিস্তানকে আলাদা করে ‘চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী’ ভাবা হয় না।
তাঁর কথায়, তারা প্রতিপক্ষকে শুধুই আরেকটি দল হিসেবে দেখে এবং ফোকাস থাকে শুধুই ক্রিকেটে। অর্থাৎ আবেগ, ইতিহাস বা রাজনৈতিক উত্তাপ, এসব মাঠে প্রভাব ফেলছে না।
আসলে ম্যাচের আগেই বড় নাটক হয়েছিল ‘নো-হ্যান্ডশেক’ বিতর্ক নিয়ে। আগের কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতোই এবারও দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রচলিত সৌজন্য বিনিময় দেখা যায়নি।
টসের সময়েও দুই দলের মধ্যে দূরত্ব চোখে পড়ে। খেলা শেষ হওয়ার পর ভারতীয় ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যেই জয় উদ্যাপন করেন, আর পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা সরাসরি ড্রেসিংরুমে ফিরে যান।
ম্যাচের ক্রিকেটীয় দিকটাও ছিল একতরফা। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত প্রথমে ১৭৬ রান তোলে। জবাবে পাকিস্তান ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায়।
ম্যাচের আগে পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আলি আগা আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের কথা বললেও মাঠে সেই পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
স্পিন-সহায়ক উইকেটে ভারত ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয় পায়।
এই জয় পরিসংখ্যানকেও আরও একপেশে করে দিল। টি-২০ বিশ্বকাপে এখন ভারতের লিড ৮-১। গত কয়েক বছরে বেশিরভাগ ম্যাচই একই স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করেছে, শুরুতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশা, শেষে ভারতের নিয়ন্ত্রণ।
ফলে অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকের মতে, ‘রাইভালরি’ শব্দটি এখন বেশি আবেগনির্ভর, ক্রিকেটীয় বাস্তবতায় নয়।
তবে দর্শকদের কাছে ম্যাচের গুরুত্ব এখনও কমেনি। রাজনৈতিক উত্তেজনা, ইতিহাস এবং সমর্থকদের আবেগ এই লড়াইকে আলাদা মাত্রা দেয়।
কিন্তু মাঠে ক্রিকেট ক্রমশ পেশাদার বাস্তবতায় চলে যাচ্ছে। ক্রিকেটারদের বক্তব্যেও সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট, প্রতিপক্ষ মানে প্রতিপক্ষই, তার বেশি কিছু নয়।
সব মিলিয়ে কলম্বোর ম্যাচটি শুধু একটি জয় নয়, বরং একটি ধারণার পরিবর্তনের প্রতীক।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এখনও বড় ইভেন্ট, কিন্তু খেলোয়াড়দের কাছে এটি আর ‘যুদ্ধ’ নয়,একটি ক্রিকেট ম্যাচ মাত্র। আর সেই জায়গাতেই আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাস্তবতা ধরা পড়ছে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে।