দেশ শীঘ্রই তার প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন পেতে চলেছে। আগামী ১৭ জুলাই, এই ট্রেনটি প্রথমবারের মতো হরিয়ানায় জিন্দ এবং সোনিপতের মধ্যে চলবে। ট্রেনটি ৮৯ কিলোমিটারের এই যাত্রা মাত্র দুই ঘণ্টায় সম্পন্ন করবে। জিন্দ থেকে সোনিপত যাওয়ার পথে এটি ১২টি স্টেশনে থামবে। আগামী ১৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী মোদী এর উদ্বোধন করবেন।
হাইড্রোজেন ট্রেন নম্বর ৭৪১০ তার নির্ধারিত রুটে সকাল ৭:৪০ মিনিটে জিন্দ রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করবে এবং সকাল ৯:৪০ মিনিটে সোনিপতে পৌঁছাবে। রেলওয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে নর্দার্ন রেলওয়েকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুসারে, ট্রেনটি যে ১২টি স্টেশনে থামবে সেগুলি হল জিন্দ সিটি, পান্ডু পিন্ডারা, ললিত খেড়া, ভাম্বেবা, ইশাপুর খেরি, বুটানা, খান্দ্রাই, গোহানা, রাভরা, লাঠ, মোহনা এবং বাদওয়াসনি।
ভারতে ডিজাইন ও তৈরি করা হাইড্রোজার ট্রেন 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর প্রতি ভারতীয় রেলের অঙ্গীকারের একটি উদাহরণ। এটি লখনউয়ের রেলওয়ে রিসার্চ ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন (RDSO) দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছিল।এটি চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে (ICF) নির্মিত হয়।
ট্রেনটি সকাল ১০:৪০ মিনিটে সোনিপত থেকে ছেড়ে দুপুর ১:০০ টায় জিন্দে পৌঁছবে। দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনটি ১৭ই জুলাই বিশেষ উদ্বোধনী পরিষেবা হিসাবে চলবে। তবে, নিয়মিত যাত্রী পরিষেবা শুরুর তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, তাঁরা উত্তর রেলওয়েকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তারিখটি চূড়ান্ত করতে বলেছেন।
দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনে ভ্রমণ পেট্রোল বা ডিজেল চালিত যানবাহন ও ট্রেনের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে সস্তা হবে। ভাড়া শুরু হবে ৫ টাকা থেকে এবং সর্বোচ্চ ২৫ টাকা পর্যন্ত যাবে। বর্তমানে, প্রচলিত ট্রেনের ভাড়া শুরু হয় ৩০ টাকা থেকে এবং সর্বোচ্চ ১২৬ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে, হাইড্রোজেন ট্রেনগুলো এগুলোর চেয়ে অনেক সস্তা।
হাইড্রোজেন ট্রেনটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এতে আটটি ফুয়েল সেল রয়েছে, যা হাইড্রোজেন গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ট্রেনটিকে শক্তি জোগায়। ট্রেনটিতে প্রায় ৪৪০ কিলোগ্রাম কম্প্রেস হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করার ক্ষমতা রয়েছে। এই হাইড্রোজেন একটি ফুয়েল সেলের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে মোটর চালাবে। এই প্রক্রিয়ায় ধোঁয়া বা কার্বন নিঃসরণের পরিবর্তে শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প উৎপন্ন হয়, যা এটিকে পরিবেশবান্ধব পরিবহন করে তোলে।
ট্রেনটি একবার হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং করে প্রায় ৩৫০ থেকে ৩৬০ কিলোমিটার ভ্রমণ করতে পারবে। এর ফলে ঘন ঘন রিফুয়েলিংয়ের প্রয়োজন হবে না। এই প্রকল্পের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ লোকো পাইলট, কারিগরি কর্মী এবং রক্ষণাবেক্ষণ টিমকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে। যেহেতু ভারতে প্রথমবারের মতো রেল চলাচলে হাইড্রোজেন-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তাই সমস্ত সুরক্ষা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। রেল কর্মকর্তারা মনে করেন যে জিন্দ প্রকল্পের সফল পরিচালনার পর ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য রেলপথেও হাইড্রোজেন ট্রেন চালু করা হবে।
এবার আপনাদের জানাই এই প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী। এই ট্রেনটিতে মোট ১০টি কোচে ৬৮২টি আসন থাকবে এবং পুরো ট্রেনটির যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে প্রায় ২,৬০০। যদিও এই ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১২০ কিমি, যা সফলভাবে পরীক্ষিত হয়েছে, তবে ট্রেনটির পরিচালন গতি ঘণ্টায় ৭৫ কিমি রাখা হয়েছে, যা রেলওয়ে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত। ট্রেনটির শক্তি ক্ষমতা হবে ২৪০০ কিলোওয়াট, যার মধ্যে থাকবে একটি ১২০০ কিলোওয়াট হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল সিস্টেম ইঞ্জিন।