
শনিবার মালদার মালতীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টারের সামনে উড়ল এক রহস্যময় ড্রোন। আর সেই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এমনকী এই ঘটনায় নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন স্বয়ং মমতা।
যতদূর খবর, এ দিন মালদায় সভা শেষে মমতা হেলিকপ্টারে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় কপ্টারের সামনেই ড্রোনটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এই ঘটনা উপস্থিত সকলেরই চোখে পড়ে। এমনকী এই ঘটনার জেরে কপ্টারে ওঠার আগেই দাঁড়িয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী।
আর কপ্টারের সামনে এভাবে ড্রোন ঘোরাফেরার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি সেই সময় পুলিশকে বলেন, 'পুলিশের এটা নজরে রাখা উচিত। যারা এমনটা করেছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে।'
যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনা কে ঘটিয়েছে বা এই ড্রোন কীভাবে কপ্টারের সামনে এল, সেই বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। তবে পুলিশ খোঁজখবর শুরু করেছে।
আসলে আজ মালদায় তিনটি জনসভা করছেন মমতা। তাঁর প্রথম সভা ছিল মানিকচকে। দ্বিতীয় সভা ছিল মালতীপুরে। এরপর তাঁর যাওয়ার কথা ছিল গাজোলের দিকে। সেই মতো হেলিপ্যাডে দাঁড়িয়ে ছিল মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার। তখনই কপ্টারের সামনে একটা ড্রোন উড়তে দেখা যায়। আর সেটা মুখ্যমন্ত্রীরও চোখে পড়ে বলে খবর। তখনই তিনি পুলিশকে গোটা বিষয়টা নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মাথায় রাখতে হবে, চলতি বিধানসভা ভোটের আগে একাধিকবার সমস্যায় পড়েছে মমতার বিমান। এই যেমন ২৬ মার্চের কথাই ধরুন। সেই দিন দুবরাজপুরে প্রচার সভা করে অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে কলকাতা ফিরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ফেরার সময় কলকাতা বিমানবন্দরে নামতে পারেনি মমতার বিমান। সেই দিন প্রায় ৭০ মিনিট ধরে কলকাতার আকাশে চক্কর কাটে সেই বিমান। তারপর আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দমদম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এই ঘটনার পর মমতা পাইলটের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, পাইলটরা বিমানে সওয়ার সকলের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।
আবার ১ এপ্রিলও দুর্যোগের মুখে পড়ে মমতার কপ্টার। সেই দিন মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় সভা করে নবগ্রামে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সময় হঠাৎই প্রবল ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। সেই কারণে কপ্টার নবগ্রামে নামতে পারেনি। তাই কপ্টারের পাইলট ঝুঁকি না-নিয়ে মমতাকে বড়ঞাতেই ফিরিয়ে আনেন। তারপর বড়ঞা থেকে সড়কপথেই নবগ্রামে যান মুখ্যমন্ত্রী। আর আজ আবার তাঁর কপ্টারের সামনে ড্রোন উড়তে দেখা গেল।