
মালদা জেলার ব্লক স্তরের একটি শহর হল গাজোল। এটি একটি একটি তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। একসময় এই কেন্দ্র ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু বর্তমানে সেই ট্রেন্ড আর নেই। বরং শেষ তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে তিনটি আলাদা আলাদা দল এখানে জয়ী হয়েছে। আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রতিটি নির্বাচনেই লড়াই হয়েছে টানটান। তবে তৃণমূল এখানে একবারও জেতেনি।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গাজোল বিধানসভা। এটি মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। এটি পুরো গাজোল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে গঠিত। ২০১৮ সালে গাজোলকে পুরসভা করার একটি প্রস্তাব ওঠে। তবে সেই প্রস্তাব এখনও ঝুলে রয়েছে। অনেকের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট না দেওয়ার ‘শাস্তি’ হিসেবেই এই প্রস্তাব গৃহীত হয়ন...
মালদা জেলার ব্লক স্তরের একটি শহর হল গাজোল। এটি একটি একটি তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। একসময় এই কেন্দ্র ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু বর্তমানে সেই ট্রেন্ড আর নেই। বরং শেষ তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে তিনটি আলাদা আলাদা দল এখানে জয়ী হয়েছে। আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রতিটি নির্বাচনেই লড়াই হয়েছে টানটান। তবে তৃণমূল এখানে একবারও জেতেনি।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গাজোল বিধানসভা। এটি মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। এটি পুরো গাজোল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে গঠিত। ২০১৮ সালে গাজোলকে পুরসভা করার একটি প্রস্তাব ওঠে। তবে সেই প্রস্তাব এখনও ঝুলে রয়েছে। অনেকের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট না দেওয়ার ‘শাস্তি’ হিসেবেই এই প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। গাজোল এখনও পর্যন্ত ১৫টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালে কেন্দ্রটি নির্বাচনী মানচিত্র থেকে বাদ পড়েছিল। তবে ১৯৬৭ সালের নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্রটি পুনরায় চালু হয়।
এখানে দীর্ঘদিন লাল পতাকার আধিপত্য ছিল। মোট ১০ বার বামপন্থীরা এই আসনে জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে সিপিআই(এম) নয়বার এবং ১৯৫১ সালের প্রথম নির্বাচনে অবিভক্ত সিপিআই একবার জিতেছে। কংগ্রেস চারবার এই আসনে জয় পেয়েছে। আর বিজেপি প্রথমবার জয়ের স্বাদ পায় ২০২১ সালে।
১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা সাতবার সিপিআই(এম)-এর জয় পেয়েছে। সেই ধারার অবসান ঘটান কংগ্রেস প্রার্থী সুশীল চন্দ্র রায়। ২০১১ সালে তিনি সিপিআই(এম)-এর গোবিন্দ মণ্ডলকে ৫,৫৮৪ ভোটে পরাজিত করেন। তবে ২০১৬ সালে সিপিআই(এম) ঘুরে দাঁড়ায়। সিপিআই (এম)-এর দীপালি বিশ্বাস তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সুশীল চন্দ্র রায়কে ২০,৬০২ ভোটে হারান। ওদিকে ২০১১ ও ২০১৬ সালে যথাক্রমে মাত্র ৫.২৬ শতাংশ ও ১৪.৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল বিজেপি। তবে ২০২১ সালে চমক দেখায় এই গেরুয়া বাহিনী। বিজেপি প্রার্থী চিন্ময় দেব বর্মণ তৃণমূল কংগ্রেসের বসন্তী বর্মণকে মাত্র ১,৭৯৮ ভোটে পরাজিত করে জয়ী হন।
লোকসভা নির্বাচনেও গাজলের ফল তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৯ সালে কংগ্রেস সিপিআই(এম)-এর থেকে ৯,৮০৮ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে সিপিআই(এম) তৃণমূল কংগ্রেসের উপর ১৪,৮০৩ ভোটে লিড পায়। তবে ২০১৯ সালে বিজেপি বড় উত্থান ঘটায়। সেই ভোটে তৃণমূলের থেকে ৪১,১৭১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে যায় গেরুয়া বাহিনী। ২০২৪ সালেও বিজেপি তৃণমূলের উপর ৩৮,৮৭১ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০২৪ সালে গাজোল বিধানসভা কেন্দ্রে মোট নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন ২,৭৯,৫২৪ জন। এই সংখ্যা ২০২১ সালে ছিল ২,৬৭,০৯৬, ২০১৯ সালে ২,৫৩,৭৭২, ২০১৬ সালে ২,৩৩,৮৩৩ এবং ২০১১ সালে ১,৮৬,৯৬০। মাথায় রাখতে হবে, এই কেন্দ্রটিতে তফসিলি জাতির ভোটারই সবচেয়ে বেশি। তাদের সংখ্যা ৩৭.৩৬ শতাংশ। তফসিলি উপজাতির ভোটার ১৯.৯৪ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ২৩.৮০ শতাংশ।
এটি মূলত গ্রামীণ কেন্দ্র, ৯৬.৬১ শতাংশ ভোটার গ্রামে বসবাস করেন, শহুরে ভোটার মাত্র ৩.৩৯ শতাংশ। এই কেন্দ্রে ভোটদানের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১১ সালে ৮৬.৬৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৪.৮৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৩.০১ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮২.৮৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে নেমে এসেছে ৭৩.৪১ শতাংশে।
গাজোল উত্তর মালদা জেলার মালভূমিতে অবস্থিত। এখানে জমি সামান্য উঁচু এবং মাটি ল্যাটেরাইট প্রকৃতির। পূর্বদিকে মহানন্দা নদী প্রবাহিত হয়েছে। এই নদী এবং ছোট ছোট খাল ও নালা কৃষিক্ষেত্রে জলসেচের কাজ করে। কৃষিই এখানকার অর্থনীতির মূল ভিত্তি। ধান, পাট ও আম প্রধান ফসল। জাতীয় সড়ক ১২ গাজোলের মধ্য দিয়ে গেছে, যা উত্তর দিকে রায়গঞ্জ ও শিলিগুড়ি এবং দক্ষিণে মালদহ শহরের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে। গাজোল স্টেশনের মাধ্যমে মালদা, কলকাতা ও শিলিগুড়ির সঙ্গে যুক্ত। জেলা সদর মালদা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত গাজোল। কলকাতা প্রায় ৩৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে। এছাড়া রায়গঞ্জ ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে, বালুরঘাট ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, শিলিগুড়ি ১৬৫ কিলোমিটার উত্তরে। বিহারের পাটনা প্রায় ২৯৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, কিশনগঞ্জ ৯৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং পূর্ণিয়া ১৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এই আসন ধরে রাখার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে। তবে তাঁদের কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলতে তৃণমূল কংগ্রেস। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে গাজোল বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাম-কংগ্রেস এই ভোটে অপ্রাসঙ্গিকই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Basanti barman
AITC
Arun kumar biswas
CPI(M)
Sanatan rishi
BSP
Nota
NOTA
Supen kumar roy
SUCI
Satish rajbanshi
IND
Bipad bhanjan roy
BMUP
Minu sarkar (barman)
KPPU
Sushil chandra roy
AITC
Sudhangsu sarkar
BJP
Sagar chandra sarkar
SP
Nota
NOTA
Dhananjoy sarkar
JDP
Rintu biswas
JMM
Ashok kumar sarkar
KPPU
Bidyut biswas
BSP
Subhash sarkar
SUCI
Subhash singha
CPI(ML)(L)
Shyamal sarkar
IND
Jharna barman
HKRD