
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর লোকসভার অন্তর্গত বড়ঞা বিধানসভা কেন্দ্র। আসনটি তপশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত। বড়ঞা ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ভরতপুর ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে বিধানসভাটি গঠিত। ১৯৫১ সালে বড়ঞা বিধানসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালের রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্রে আসনটি ছিল না। ১৯৬৭ সাল থেকে ফের এই কেন্দ্রে ভোট শুরু হয়। ২০১১ সালে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক আসনটি তপশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়। বড়ঞাতে এখনও পর্যন্ত ১৫ বার বিধানসভা ভোট হয়েছে। তার মধ্যে কংগ্রেস ৫ বার ও RSP ৯ বার জিতেছে। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আসনটিকে টানা নিজেদের দখলে রেখেছিল বামেদের ওই দল। ২০২১ সালে এখানে খাতা খোলে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের প্রার্থী জ...
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর লোকসভার অন্তর্গত বড়ঞা বিধানসভা কেন্দ্র। আসনটি তপশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত। বড়ঞা ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ভরতপুর ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে বিধানসভাটি গঠিত। ১৯৫১ সালে বড়ঞা বিধানসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালের রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্রে আসনটি ছিল না। ১৯৬৭ সাল থেকে ফের এই কেন্দ্রে ভোট শুরু হয়। ২০১১ সালে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক আসনটি তপশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়। বড়ঞাতে এখনও পর্যন্ত ১৫ বার বিধানসভা ভোট হয়েছে। তার মধ্যে কংগ্রেস ৫ বার ও RSP ৯ বার জিতেছে। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আসনটিকে টানা নিজেদের দখলে রেখেছিল বামেদের ওই দল। ২০২১ সালে এখানে খাতা খোলে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের প্রার্থী জীবন কুমার সাহা বিজেপির অমিয় কুমার দাসকে মাত্র ২৭৪৯ ভোটে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে কংগ্রেস ও তৃণমূল যৌথভাবে আসনটিতে লড়েছিল। সেবার জোট প্রার্থী হিসেবে জিতেছিলেন প্রতিমা রজক। মাত্র ৬১৬ ভোটের ব্যবধানে। ২০১৬ সালে কংগ্রস ও তৃণমূল পৃথকভাবে লড়ে। সেবারও আসনটি ধরে রাখেন কংগ্রেসের ওই মহিলা প্রার্থী। RSP-র সংগঠন দুর্বল হওয়ার পর থেকে লোকসভা ভোটে কংগ্রেস এই আসনে বারবার এগিয়ে থেকেছে। তিনটি লোকসভা নির্বাচন অর্থাৎ ২০০৯, ২০১৪, ২০১৯ সালে অধীর চৌধুরী এখান থেকে লিড পেয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ভোটে প্রথমবারের মতো এখানে এগিয়ে যায় বিজেপি। তৃণমূলের থেকে মাত্র ৫৫৮ ভোট বেশি পেয়ে কংগ্রেসকে তৃতীয় স্থানে ঠেলে দেন পদ্ম প্রার্থী। ২০২৪ সালে বড়ঞা কেন্দ্রে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ২২৬,১৭৮ জন। ২০২১ ও ২০১৯ সালে যথাক্রমে ২১৭,৫০০ ও ২০৮,৩৭৮ জন। তপশিলিদের জন্য আসনটি সংরক্ষিত হলেও সবথেকে বেশি ভোটার মুসলিম। প্রায় ৩৭ শতাংশ। সেখানে তপশিলি জাতির ২৩ শতাংশ। নির্বাচনী এলাকাটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ, শহুরে ভোটার নেই বললেই চলে। ভোটারদের হার এখানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২১ সালে ৮১.৩৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৭৬.৫৪ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৮.৮৮ এবং ২০১৬ সালে ৭৮.০৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল। বড়ঞা মুর্শিদাবাদ জেলার রাঢ়ভূমের অন্তর্গত। এর দক্ষিণ পূর্ব কোণে ময়ূরাক্ষী ও দ্বারকা নদী প্রবাহিত হয়েছে। চাষ এখানকার প্রধান জীবিকা। কাদা ও ল্যাটারাইট মৃত্তিকা হওয়ার কারণে পাট, ধান ও সর্ষে উৎপাদিত হয়। ময়ূরাক্ষী, দ্বারকা, ব্রাহ্মণী এবং কোপাইয়ের মতো নদী আশপাশে থাকার ফলে প্রায় প্রতিবছরই বন্যা হয়। এটা এই অঞ্চলের অন্যতম সমস্য়া। পরিকাঠামো তেমন উন্নত নয় বড়ঞার। এখানকার নিকটবর্তী শহর কান্দি প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তবে সেখানে কোনও রেল যোগাযোগ নেই। জেলা সদর শহর বহরমপুর ৪৫ কিলোমিটার দূরে। কলকাতার দূরত্ব সড়কপথে প্রায় ২১৫ কিলোমিটার। বড়ঞার নিকটবর্তী শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে কান্দি, ভরতপুর ও নবগ্রাম। বীরভূম জেলার ময়ূরেশ্বর এখান থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে। নদীয়ার কৃষ্ণনগর ও ঝাড়খণ্ডের পাকুড়ের এখান থেকে দূরত্ব যথাক্রমে ৮৫ ও ৯৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশের রাজশাহি বিভাগ বড়ঞা থেকে কাছেই। যদিও কোনও যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। এই আসনের ভোটারদের মনোভাব দলীয় প্রার্থীদের বারবার চমক দিয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এই আসন থেকে মাত্র ৭ শতাংশ মতো ভোট পেয়েছিল কংগ্রেস। অথচ সেই তারাই আবার ২০২৪ এর লোকসভায় ২২ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছে। বিধায়ক রয়েছেন তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী। দ্বিতীয় স্থানে বিজেপি। সেদিক থেকে বিচার করলে বড়ঞার এবারের বিধানসবা ভোট ত্রিমুখী লড়াইয়ের সাক্ষী থাকতে চলেছে।
Amiya kumar das
BJP
Shiladitya haldar
INC
Nota
NOTA
Naresh kumar das
IND
Shasthi charan mal
AITC
Binoy sarkar
RSP
Amiya kumar das
BJP
Nota
NOTA
Ranjit das
SP
Jata sankar thandar
IND