
তাঁকে মালদার মাস্টারমাইন্ড বলা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই CID তাঁকে গ্রেফতার করেছে। সেই মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার হওয়ার পর বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকেই একটি ফেসবুক লাইভ করেন। যেখানে তিনি বলেব, 'আন্দোলনটা আমি করিনি।'
ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, 'SIR-এর নাম করে যে সব মুসলিম ভোটারদের ডি ভোটার করে দিয়েছে অথবা তাদের নাম ডিলিট করা হয়েছে, সেই আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়েছিলাম। আমি আন্দোলনটা করিনি। আমি কলকাতা থেকে আলিপুরদুয়ার যাচ্ছিলাম। আন্দোলনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে গিয়েছিলাম।' তাঁর সংযোজন, 'আমার জন্য কোনও জজসাহেব আটক ছিল না। আমি জাতীয় সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলাম আর ঘটনা ঘটেছে মোথাবাড়িতে। আমায় গ্রেফতার করা হল।'
পেশায় আইনজীবী, ইটাহারের বাসিন্দা মোফাক্কেরুল ইসলাম সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিপুল সংখ্যক ফলোয়ার্স রয়েছে তাঁর। প্রায়দিনই একের পর এক ভিডিও পোস্ট করে নানা বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখতে দেখা যায় তাঁকে। ফলে গ্রেফতারির পর এই 'ইনফ্লুয়েন্সার' ভিডিও পোস্ট করে তাঁর ফলোয়ার্সদের উদ্দেশে বলেন, 'আমায় গ্রেফতার করেছে। আমায় হয়তো এবার মালদা সহ নানা জায়গায় নিয়ে যাবে। আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে না। সকলে ভাল থাকুন আর ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য যা যা আবশ্যক, তা করুন।'
কালো প্যান্ট, হালকা আকাশি রংয়ের ফুল হাতা শার্ট পড়ে মালদার কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসের সামনে গাড়ির বনেটে উঠে ভাষণ দিতে দেখা গিয়েছিল এই মোফাক্কেরুলকে। তারপর সেই ভিডিও ভাইরাল হয়। বক্তৃতা শুনে মানুষের ভিড়। ভিড় জমিয়েছিলেন বহু সংখ্যক মানুষ। যাঁর তাঁর বক্তৃতা শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে করতালি দিচ্ছিলেন। তবে ওই জমায়েতকে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগেই গ্রেফতার করা হয়েছে মোফাক্কেরুলকে, এমনটাই জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গের ADG কে জয়রমন।
চল্লিশোর্ধ্ব মোফাক্কেরুল এক সময়ে রায়গঞ্জ জেলা আদালতের আইনজীবী ছিলেন। তবে বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টের কাছে তাঁর চেম্বার রয়েছে। পরিবার নিয়ে তিনি বর্তমানে কলকাতাতেই থাকেন। আসাদউদ্দিন ওয়েইসির ভক্ত মোফাক্কেরুল ২০২১ সালে AIMIM-এর টিকিটে ইটাহারের প্রার্থীও হয়েছেন। বেশ চর্চায় এসেছিলেন সে সময়ে।
মালদার কালিয়াচকেও বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে এই আইনজীবীকে। গাড়ির বনেটের উপর দাঁড়িয়ে হাইকোর্টের এই আইনজীবী বলেন, 'এটা আমার বাপের দেশ, আমার বাপ এসে বললেও এই দেশ ছেড়ে যাব না। কোনও নেতা, এলাকার মুরুব্বি এসে বললেও যাব না। কোনও DM, SP এসে বললেও যাব না।' উল্লেখ্য, SIR প্রক্রিয়ার শেষে বের হওয়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে অনেকের নাম বাদ পড়েছে। ৮টি সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষের মধ্যে ৫২ লক্ষের নামের নিষ্পত্তির কথা কমিশন জানালেও বহু ভোটারের নাম ডিলিটেড। আর এই নিয়েই প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন কালিয়াচক, মোথাবাড়ি, সুজাপুরের বাসিন্দারা। সেখান থেকেই মোফাক্কেরুলের বক্তৃতা ভাইরাল হয়।