
উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র আলিপুরদুয়ার। একই নামের জেলার সদর এই বিধানসভা সাধারণ শ্রেণিভুক্ত আসন এবং আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। পুরো আলিপুরদুয়ার পুরসভা এলাকা, আলিপুরদুয়ার রেল জংশন, আলিপুরদুয়ার–১ ব্লকের ১০টি এবং আলিপুরদুয়ার–২ ব্লকের ৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র। ভুটান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে কৌশলগত গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে এক আলাদা সীমান্ত-সংলগ্ন আবহ।
১৯৫১ সালে গঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে একচেটিয়া প্রভাব ছিল বামফ্রন্টের শরিক রেভোলিউশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টির (আরএসপি)। মোট ন’বার জয় পেয়েছে তারা, যার মধ্যে ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন...
উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র আলিপুরদুয়ার। একই নামের জেলার সদর এই বিধানসভা সাধারণ শ্রেণিভুক্ত আসন এবং আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। পুরো আলিপুরদুয়ার পুরসভা এলাকা, আলিপুরদুয়ার রেল জংশন, আলিপুরদুয়ার–১ ব্লকের ১০টি এবং আলিপুরদুয়ার–২ ব্লকের ৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র। ভুটান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে কৌশলগত গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে এক আলাদা সীমান্ত-সংলগ্ন আবহ।
১৯৫১ সালে গঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে একচেটিয়া প্রভাব ছিল বামফ্রন্টের শরিক রেভোলিউশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টির (আরএসপি)। মোট ন’বার জয় পেয়েছে তারা, যার মধ্যে ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা সাতটি নির্বাচন জয়ের নজির রয়েছে। কংগ্রেস জিতেছে ছ’বার। তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি একবার করে জয় পেয়েছে। যা রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট করে।
নির্বাচনী ফলের দিকে তাকালেই এই পরিবর্তনের ছবি ধরা পড়ে। ২০০৬ সালে আরএসপি প্রার্থী নির্মল দাস টানা চতুর্থবার জিতে কংগ্রেসের সৌরভ চক্রবর্তীকে ৩৮,৮৬৮ ভোটে হারান। ২০১১ সালে সেই বাম দুর্গ ভাঙে। কংগ্রেসের দেবপ্রসাদ রায় ৬,৭৮৩ ভোটে আরএসপি প্রার্থী ক্ষিতি গোস্বামীকে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া সৌরভ চক্রবর্তী জিতে নেন আসনটি। তবে ২০২১ সালে প্রথমবার আলিপুরদুয়ার দখল করে বিজেপি। সুমন কাঞ্জিলাল ১৬,০০৭ ভোটে তৃণমূলের তৎকালীন বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীকে হারান।
লোকসভা নির্বাচনের ফলেও বিজেপির উত্থান চোখে পড়ার মতো। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে তারা তৃতীয় স্থানে থাকলেও ২০১৯ সালে ৫৫.১০ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃণমূলের থেকে ৩৭,০২০ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০২৪ সালেও বিজেপি এই বিধানসভা অংশে ২৮,৫৬৪ ভোটের লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ভোটার সংখ্যাও ধীরে ধীরে বেড়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে ভোটার ছিল ২,৪৯,০৬৪ জন, ২০২১ সালে তা বেড়ে হয় ২,৬০,৬৫২ এবং ২০২৪ সালে দাঁড়ায় ২,৬৮,৬৭০। সাধারণ আসন হলেও এখানে তফসিলি জাতির ভোটার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি—মোট ভোটারের প্রায় ৪২.৮৪ শতাংশ। তফসিলি উপজাতির ভোটার ১১.৭৬ শতাংশ, মুসলিম ভোটার তুলনায় কম। গ্রামীণ ভোটার প্রায় ৫৯ শতাংশ, শহুরে ভোটার ৪১ শতাংশের কাছাকাছি। ভোটদানের হার বরাবরই বেশি। ২০১১ ও ২০১৬ সালে ৮৬ শতাংশের উপরে, ২০২১ সালে ৮৫.৬৮ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে সামান্য কমে ৮০.৭০ শতাংশ।
ভৌগোলিকভাবে আলিপুরদুয়ার সমতল ভূমি থেকে ধীরে ধীরে হিমালয়ের পাদদেশে উঠে গিয়েছে। চারদিকে ঘন বন, চা-বাগান আর কালজানি, রাইডাক, সংকোশ-সহ একাধিক নদীর প্লাবনভূমি রয়েছে। বর্ষায় বন্যা সমস্যা থাকলেও কৃষি ও চা শিল্পের জন্য এই নদীগুলিই জীবনরেখা। ব্রিটিশ আমলে ১৯০০ সালে গড়ে ওঠা আলিপুরদুয়ার রেল জংশন শহরের বিকাশে বড় ভূমিকা নেয়।
রেল ও সড়ক যোগাযোগের সুবাদে আলিপুরদুয়ার আজ উত্তরবঙ্গের অন্যতম ট্রানজিট হাব। আসাম, বাংলা ও ভুটানের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এটি। অর্থনীতির মূল ভরকেন্দ্র চা শিল্প, কাঠ, কৃষি ও ভুটানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য। ছোট-মাঝারি ব্যবসা, সাপ্তাহিক হাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শহর ও গ্রাম—দুই এলাকাকেই জুড়ে রেখেছে।
কলকাতা থেকে রেলে আলিপুরদুয়ারের দূরত্ব প্রায় ১৭০ কিলোমিটার। জলপাইগুড়ি ৭০ কিমি, শিলিগুড়ি ১০০ কিমি, কোচবিহার ১৩৫ কিমি দূরে। হাসিমারা–জয়গাঁও হয়ে ভুটানের ফুয়েন্তশোলিং সীমান্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উত্তরে।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে আলিপুরদুয়ারে বিজেপি আপাতত শক্ত অবস্থানে। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলিতে ধারাবাহিক লিড ধরে রেখে তারা দ্বিতীয়বার ক্ষমতা ধরে রাখার দৌড়ে এগিয়ে। তফসিলি জাতি ও উপজাতি ভোটারদের মধ্যে বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং তুলনামূলক কম মুসলিম ভোট তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। তৃণমূল যদি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া ক্ষোভ সামাল দিয়ে শক্তিশালী স্থানীয় ইস্যু তুলে ধরতে পারে, তাহলে লড়াই জমতে পারে। আপাতত পাল্লা ভারী বিজেপির দিকেই, কিন্তু আলিপুরদুয়ারে লড়াই এখনও খোলা।
Sourav chakraborty (ghutis)
AITC
Deba prasad roy
INC
Nikhil chandra raibir
IND
Nota
NOTA
Rinku ghosh
IND
Pijush kanti sarma
SUCI
Ashim roy
IND
Kushal kumar roy
IND
Abinash das
IND
Biswa ranjan sarkar
INC
Kushal chatterjee (tatu)
BJP
Nirmal das
RSP
Nota
NOTA
Alokesh das
SUCI
Dalendra nath ray
AMB
Santosh kumar balo
IND
Gouri roy
BSP