Advertisement

Junglemahal in West Bengal: বাংলায় মতুয়াদের মতোই কেন কুড়মি সমাজের ভোটব্যাঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ? যা জানা জরুরি

পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর নিয়ে তৈরি জঙ্গলমহল। এই এলাকায় প্রায় ৪০টি বিধানসভা আসন রয়েছে। নবান্নে ঢোকার অন্যতম দরজা। ঠিক যেমন উত্তরবঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বের জঙ্গলমহলও। 

পশ্চিমবঙ্গে কুড়মি সমাজের ভোটব্যাঙ্কপশ্চিমবঙ্গে কুড়মি সমাজের ভোটব্যাঙ্ক
অরিন্দম গুপ্ত
  • কলকাতা,
  • 16 Apr 2026,
  • अपडेटेड 12:12 PM IST
  • জঙ্গলমহলে কেন গুরুত্বপূর্ণ কুড়মি সমাজের ভোট?
  • নবান্নের অন্যতম গেটওয়ে জঙ্গলমহল 
  • ৩০ শতাংশ ভোটব্যাঙ্ক কুড়মি সমাজের হাতে

মতুয়া ভোট নিয়ে চর্চার শেষ নেই পশ্চিমবঙ্গে। মতুয়া সমাজের মন জয় করতে, বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস সহ প্রায় সব দলই নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে আরও একটি ভোটব্যাঙ্কও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যে ভোট পেতে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একেবারে উঠেপড়ে লেগেছেন। তা হল কুড়মি সম্প্রদায়ের ভোট। আর এই ভোটব্যাঙ্ক সবচেয়ে বেশি রয়েছে জঙ্গলমহলে। জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে নির্ণায়ক ভূমিকা নেয় কুড়মি ভোটব্যাঙ্ক। 

জঙ্গলমহলে কেন গুরুত্বপূর্ণ কুড়মি সমাজের ভোট?

পুরুলিয়ার জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দিল্লির আদিবাসী কুড়মি সমাজের প্রতিনিধিরা অমিত শাহের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে জঙ্গলমহলের দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। কুড়মিদের দীর্ঘদিনের দাবি, তাদের তফসিলি উপজাতি (ST) তালিকাভুক্ত করা। নির্বাচনের মুখে বিজেপি এই আবেগকে গুরুত্বও দিচ্ছে। 

গত শনিবার বাঘমুণ্ডির সভায় শাহ বলেন, 'আমাদের সরকার গঠন হতেই কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফশিলে স্থান দেওয়া হবে ৷ কুড়মালি, রাজবংশী ভাষাকেও বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হবে৷ আপনাদের জমি, সাঁওতাল, আদিবাসীদের জমি অনুপ্রবেশকারীরা জবর দখল করে রেখেছে৷ মমতা সরকার ওদের আদর করে এখানে বসিয়ে রেখেছে ৷ ওরাই তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্ক ৷ বিজেপি সরকারে আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া হবে ৷ অবৈধরা আর কোনওভাবেই ঢুকতে পারবে না ৷'

নবান্নের অন্যতম গেটওয়ে জঙ্গলমহল 

আসলে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে জঙ্গলমহলের ভূমিকা অপরিসীম। একসময় এই এলাকায় মাওবাদীদের দাপটে কোনও মেইন স্ট্রিমের রাজনৈতিক দল ঢুকতেই পারত না। ২০২৫ সালে একটি সরকারি সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, '১৯৯২ সালে স্বামীজির জন্মদিনে আমি স্কুটারে করে বেলপাহাড়ির এক গ্রামে গিয়েছিলাম। লুকিয়ে গিয়ে দেখি, কাঠের চুলোয় কিছু সেদ্ধ হচ্ছে। জিজ্ঞেস করতেই গ্রামের মানুষ বললেন, আমরা ৯ মাস চাল পাই না, জঙ্গল থেকে পিঁপড়ে আর গাছের শিকড় তুলে এনে সেদ্ধ করে খাই।' সেই জন্যই নাকি তিনি খাদ্যসাথী প্রকল্প এনেছিলেন ক্ষমতায় এসে, দাবি করেন মমতা। 

Advertisement

জঙ্গলমহল ২০১৯ সালের লোকসভায় ভরসা রেখেছিল বিজেপির উপরে। ২০২১ সালেও জঙ্গলমহলের ৪০টি আসনের মধ্যে ১২টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু ২০২৪ সালে দেখা যায়, জঙ্গলমহলে জমি ক্রমেই হারিয়েছে বিজেপি। 

পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর নিয়ে তৈরি জঙ্গলমহল। এই এলাকায় প্রায় ৪০টি বিধানসভা আসন রয়েছে। নবান্নে ঢোকার অন্যতম দরজা। ঠিক যেমন উত্তরবঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বের জঙ্গলমহলও। 

৩০ শতাংশ ভোটব্যাঙ্ক কুড়মি সমাজের হাতে

জঙ্গলমহলে হারানো জমি ফিরে পেতে এবার এক বিশেষ কৌশলী পথে হাঁটছে বিজেপি। এই রণকৌশলের মূলে রয়েছে আদিবাসী এবং কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছানো। কারণ এই দুই গোষ্ঠীই এ অঞ্চলের ভোটারদের একটি বিশাল অংশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখানকার জনসংখ্যার প্রায় ৬ থেকে ৮ শতাংশ আদিবাসী এবং প্রায় ৩০ শতাংশ কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষ। ফলে নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারণে এই দুই গোষ্ঠীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জঙ্গলমহলের স্বতন্ত্র আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এবং স্থানীয় সমস্যাগুলিকে মাথায় রেখেই বিজেপি তাদের নির্বাচনী প্রচার সাজিয়েছে।

Read more!
Advertisement
Advertisement