
জঙ্গলমহলের প্রাণকেন্দ্র ঝাড়গ্রাম। ঝাড়গ্রাম লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্যতম। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্র। ২০০৬ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশনের নির্দেশে নতুন রূপ পায়। ২০০৯ সালে লোকসভা ও ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয়। বাংলার রাজনীতির হাওয়া যেদিকে বয়েছে, ঝাড়গ্রামের ভোটদাতারাও সেদিকেই জনাদেশ দিয়েছেন। ১৯৫৭ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস এখানে চারবার জিতেছে, বাংলা কংগ্রেস জিতেছিল একবার। ১৯৬৭ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ।
১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই আসনটি ছিল সিপিএমের একচেটিয়া দখলে। বামফ্রন্ট জমানার সাতটি নির্বাচনের সবকটিতেই তারা জিতেছিল। তবে ২০১১ সাল থেকে সমীকরণ বদলেছে। রাজ্যের শাসক দল ঝাড়গ্রামে টা...
জঙ্গলমহলের প্রাণকেন্দ্র ঝাড়গ্রাম। ঝাড়গ্রাম লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্যতম। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্র। ২০০৬ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশনের নির্দেশে নতুন রূপ পায়। ২০০৯ সালে লোকসভা ও ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয়। বাংলার রাজনীতির হাওয়া যেদিকে বয়েছে, ঝাড়গ্রামের ভোটদাতারাও সেদিকেই জনাদেশ দিয়েছেন। ১৯৫৭ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস এখানে চারবার জিতেছে, বাংলা কংগ্রেস জিতেছিল একবার। ১৯৬৭ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ।
১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই আসনটি ছিল সিপিএমের একচেটিয়া দখলে। বামফ্রন্ট জমানার সাতটি নির্বাচনের সবকটিতেই তারা জিতেছিল। তবে ২০১১ সাল থেকে সমীকরণ বদলেছে। রাজ্যের শাসক দল ঝাড়গ্রামে টানা তিনবার জিতেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার সুকুমার হাঁসদা এখান থেকে দু’বার জয়ী হন। ২০১১ সালে তিনি সিপিএমের বিদায়ী বিধায়ক অমর বসুকে ১৫,২৭৩ ভোটে এবং ২০১৬ সালে ঝাড়খণ্ড পার্টির চুনিবালা হাঁসদাকে ৫৫,২২৮ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। সুকুমার হাঁসদার প্রয়াণের পর ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী করে সাঁওতালি চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ বীরবাহা হাঁসদাকে। বিজেপির সুখময় সৎপথীকে ৩৮,২৪০ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন।
ঝাড়গ্রামের লোকসভা ভোটের প্রবণতাও একই কথা বলছে। ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। মাঝখানে ২০১৯-এর লোকসভা লড়াইয়ে বিজেপি তৃণমূলকে ১,৬৪৩ ভোটের সামান্য ব্যবধানে টপকে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪-এ ফের তৃণমূলের দখলে চলে আসে। ব্যবধান দাঁড়ায় ১৪,১০১। একদা দাপুটে শক্তি সিপিএমের পতন এখানে চোখে পড়ার মতো। গত তিনটি নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়েও ভোটের হার ছয়ের নীচে নেমে গদিয়েছে।
২০২৪ সালের হিসেব অনুযায়ী ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ২,৮৯,১৮৭। ২০১১ সালে যা ছিল ১,৮৪,৩৯৮ এবং ২০২১-এ ২,৩৬,০৩৫। এখানকার ভোটারদের মধ্যে তফসিলি জনজাতি গোষ্ঠী সবচেয়ে বড় অংশ- ২৩.১০ শতাংশ। তফসিলি জাতি ১৮.৫৪ শতাংশ। ঝাড়গ্রাম শহরটি জেলা সদর হওয়া সত্ত্বেও এই কেন্দ্রটি মূলত গ্রামীণ। ভোটারদের ৭৮.৭৫ শতাংশ গ্রামে থাকেন। মাত্র ২১.২৫ শতাংশ শহরে। গত কয়েক বছরে ভোটদানের হার সব সময়ই ৮০ শতাংশের বেশি থেকেছে। ২০২১-এ সর্বোচ্চ ৮৫.৪৯ শতাংশ। ২০১৯-এ সর্বনিম্ন ৮৩.৩৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
এই অঞ্চলের ইতিহাসের শিকড় লুকিয়ে রয়েছে ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে। সম্রাট আকবরের বাংলা, বিহার ও ওড়িশা বিজয়ের সময় আমেরের রাজা মান সিংয়ের সেনাপতি ফতেপুর সিক্রির চহ্বান বংশের রাজা সর্বেশ্বর সিং এখানে আসেন। জঙ্গলখণ্ডের মাল উপজাতীয় শাসকদের পরাজিত করে এই এলাকা দখল করেন। ঝাড়গ্রামের শাসকরা ‘মল্লদেব’ উপাধি নিতেন। বহিরাগত আক্রমণ থেকে নিজেদের ভূমি রক্ষা করেছিলেন। অষ্টাদশ শতাব্দীতে মরাঠা আক্রমণ প্রতিহত করতে তাঁরা বিষ্ণুপুরের রাজা এবং বাংলার নবাবের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগমনের পর ঝাড়গ্রাম ব্রিটিশদের প্রবল বাধা দেয়। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে ঝাড়গ্রাম ব্রিটিশ শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে।
ছোট নাগপুর মালভূমির প্রান্তে অবস্থিত ঝাড়গ্রাম। রাঙামাটির ঢেউখেলানো ভূমি। ছোট ছোট পাহাড় এবং শাল ও সেগুন বনে ঘেরা। বনের বুক চিরে বয়ে চলা সুবর্ণরেখা এবং কংসাবতী নদী এখানকার চাষাবাদ ও দৈনন্দিন জীবনের মেরুদণ্ড। এখানকার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। ধান, তৈলবীজ এবং আলু প্রধান ফসল। এ ছাড়াও আদিবাসী হস্তশিল্প, কাঠের কাজ এবং লোকগীতি এই অঞ্চলের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
রাজ্য রাজধানী কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রামের দূরত্ব প্রায় ১৭৮ কিমি। পূর্ব দিকে খড়্গপুর প্রায় ৪২ কিমি এবং মেদিনীপুর শহর ৫৪ থেকে ৬০ কিমি দূরে অবস্থিত। উত্তরে বাঁকুড়া ৯৮ কিমি এবং উত্তর-পশ্চিমে পুরুলিয়ার দূরত্ব প্রায় ১৩৮ কিমি। দক্ষিণে ওড়িশা সীমান্ত মাত্র ৭০ কিমি দূরে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। গত দু’টি বড় নির্বাচনে তারা এগিয়ে। তবে বিজেপি প্রধান বিরোধী পক্ষ হিসেবে নিজেদের মাটি শক্ত করেছে। পদ্ম শিবির বীরবাহা হাঁসদার মতো কোনও হেভিওয়েট মুখকে প্রার্থী করতে পারলে কড়া টক্কর হতে পারে। আর বামেরা এখানে প্রান্তিক শক্তি। ফলে লড়াই মূলত তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
Sukhamay satpathy (jahar)
BJP
Madhuja sen roy
CPI(M)
Nota
NOTA
Ramkrishna sarkar
BSP
Archana sain
SUCI
Madhusudan singha
IND
Hamlet baskey
IND
Sibaji mahata
IND
Laxman hansda
AMB
Ashutosh rana
IND
Chunibala hansda
JKP(N)
Ajoy kumar sen
BJP
Subrata bhattacharya
INC
Nota
NOTA
Mahadeb pratihar
SUCI
Bablu murmu
IND
Gunadhar mahato
AJSUP
Ashoke mahata
NDPOI