তপ্ত রোদকে উপেক্ষা করে রাজধানীর রাজনৈতিক পারদ এখন সপ্তমে। ২০২৬-এর বাজেট অধিবেশনের শুক্রবারের সকালটা ছিল বেশ ঘটনাবহুল। সেখানে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের দুরন্ত অ্যাপিয়ারেন্স নজর কাড়ে। বেগুনি শাড়ি বড় ফ্রেমের চশমা, কাঁধে কালো ভ্যানিটি ব্যাগ ছিল আকর্ষণীয়।
বাজেট অধিবেশনের এই পর্বে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, তা জানতে উৎসুক দেশ। গত কয়েক দিনে এই বিলের বাস্তবায়ন নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, বিরোধীরা আজ তা নিয়ে সরব হন। সংসদের বাইরে দুই প্রজন্মের দুই নেতা থারুর ও চড্ডাকে খোশমেজাজে দেখা গেলেও, অধিবেশনের ভেতরে তাঁরা সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখতে কসুর করেননি। রাঘব চড্ডাকে দেখা যায় স্টাইলিশ সাদা শার্ট, তার উপর ব্রাউন ওয়েস্ট কোটের সঙ্গে গোল ফ্রেমের চশমায়। নজর কাড়ে হাতের ব্লু মগও।
কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা শশী থারুর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই বিল নিয়ে সরকারের গড়িমসি আর সহ্য করা হবে না। অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির তরুণ তুর্কি রাঘব চড্ডা স্পষ্ট করে দেন যে, স্রেফ প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব রূপায়ণই তাঁদের প্রধান দাবি। তাঁদের এই দ্বিমুখী আক্রমণ শাসক শিবিরের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেস সাংসদের ডাবল ফ্রেমের চশমা সকলের নজর কাড়ে। তাঁর মডার্ন ফ্যাশন চোখ টানছিল।
সংসদ চত্বরে আজ উপস্থিত ছিলেন বহু মহিলা সাংসদও। তাঁদের অনেকের হাতেই ছিল বিলের সমর্থনে প্ল্যাকার্ড। বাজেট অধিবেশনের এই বিশেষ দিনে অধিবেশন শুরুর আগেই বিরোধী দলগুলির মধ্যে একপ্রস্থ সমন্বয় বৈঠক সেরে নেওয়া হয়। লক্ষ্য একটাই, সাধারণ বাজেটের পাশাপাশি নারী শক্তির অধিকার সুনিশ্চিত করা। কঙ্গনার নীল শাড়ির সঙ্গে স্টাইলিশ রোদচশমা ছিল বেশ আকর্ষণীয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬-এর এই বাজেট অধিবেশন কেবল অর্থনৈতিক হিসেব-নিকেশের নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম মাইলফলক হতে পারে। সরকার পক্ষ যদি এই দফায় মহিলা বিল নিয়ে ইতিবাচক কোনো ঘোষণা না করে, তবে সংসদীয় লড়াই আরও চরম আকার ধারণ করবে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। অখিলেশ অবশ্য তাঁর চিরাচরিত টুপি ও কালো কোটে নেতা সুলভ লুক নজর কেড়েছে। তাঁর গোলাপী টুপি ছিল আকর্ষণীয়।
বিকেলের দিকে সংসদ ভবনের বাইরে শশী থারুর ও রাঘব চড্ডার কিছু মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়। অভিজ্ঞ রাজনীতি এবং আধুনিক ভারতের তারুণ্য, এই দুইয়ের মেলবন্ধন কি বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদের বাড়তি অক্সিজেন দেবে? সর্বত্রই এখন এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে।