
'পাউরুটি যুদ্ধ' চলছে দার্জিলিঙে। তবে এ পাউরুটি খাবার নয়, ভোটের প্রতীক। আর তাই নিয়েই টানাটানি। পাউরুটি প্রতীকে লড়াই করার জন্য মুখিয়ে ছিলেন দার্জিলিং আসন থেকে ভোটে দাঁড়ানো ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের কনভেনার অজয় এডওয়ার্ডস। কিন্তু খোদ গ্লেনারিজের এই মালিকের হাত থেকেই বেরিয়ে গিয়েছে পাউরুটি। চলে গিয়েছে এক নির্দল প্রার্থীর হাতে। অন্যান্য আসনগুলিতে তাঁর দলের প্রতীক হিসেবে পাউরুটি চিহ্ন পেলেও দার্জিলিঙে তা জোটেনি। বিপাকে পড়েছেন অজয়। বিভ্রান্ত হচ্ছেন ভোটারদের চিহ্ন চেনাতে গিয়ে। আর এসব নিয়েই শৈল শহর এখন উত্তপ্ত।
বিষয়টা ঠিক কী?
দার্জিলিঙের প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী অজয় এডওয়ার্ডস পাহাড়ের রাজনীতিতেও এখন পরিচিত নাম। সেই সময় তাঁর দলের প্রতীক ছিল ‘ব্রেড’ বা 'পাউরুটি'। পরবর্তীকালে তিনি দলের নাম বদলে রাখেন, ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট (IGJF)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে IGJF ৫ আসনে লড়ছেন। দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়ং, শিলিগুড়ি এবং মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি। এর মধ্যে দার্জিলিং আসনে দাঁড়িয়েছেন খোদ অজয় এডওয়ার্ডসই। বাকি আসনগুলিতে দলের নিজস্ব প্রতীক 'পাউরুটি' পেয়ে গেলেও দার্জিলিঙে তা হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে।
কেন হাতছাড়া হল 'পাউরুটি'?
অজয় এডওয়ার্ডসের পার্টির সেন্টাল ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য বিমল ঝাওয়ার bangla.aajtak.in-কে বলেন, 'আমাদের দল যেহেতু রেজিস্টার্ড পার্টি নয় এখনও তাই নির্দল হিসেবেই লড়তে হচ্ছে। বাকি ৪ আসনে পাউরুটি প্রতীক পাওয়া গেলেও দার্জিলিং আসনটির জন্য তা পাওয়া যায়নি। কারণ ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভ বেসিসে হয় এই আবেদন।' বিমলের সংযোজন, 'নোমান রাইয়ের বন্ধুস্থানীয় এক ব্যক্তিকে দার্জিলিং আসনে নির্দল হিসেবে দাঁড় করিয়েছে BJP। তিনি আগে আবেদন করায় পাউরুটি প্রতীকটি পেয়ে গিয়েছেন। কমিশন অজয় এডওয়ার্ডসকে আর সে প্রতীক দেয়নি। এগুলি ইচ্ছাকৃত ভাবে করা হয়েছে। যাতে দার্জিলিং আসনে অজয়ের সমর্থন ড্যামেজ করা যায়। ওঁর জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। জয়ের বিষয়েও আমরা আশাবাদী। আর সে কারণেই BJP এমন প্রতীক চুরির প্ল্যান করেছে।'
বিপাকে অজয়
পছন্দসই 'পাউরুটি' প্রতীক হাতছাড়া হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গ্লেনারিজ কর্তা। অজয়কে কমিশন দিয়েছে 'কলমের নিব'। যখন অন্যান্য আসনগুলিতে প্রচারে যাচ্ছেন তখন 'পাউরুটি' প্রতীকে ভোট দেওয়ার আর্জি জানালেও দার্জিলিঙের ভোট প্রচারে ভোট চাইতে হচ্ছে 'কলমের নিব' চিহ্নে। আর এতেই বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে ভোটারদের মধ্যে। দলের সেন্ট্রাল ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য কার্যত স্বীকারই করে নিয়েছেন, এই প্রতীক বিভ্রান্তিক জেরে তাঁদের ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব পড়তে চলেছে ভাল মতোই। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁরা এই নিয়ে বাড়তি প্রচার করছেন যাতে এই বিভ্রান্তি ভোটারদের মন থেকে দূর করা যায়।