
দার্জিলিং জেলার গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রটি দার্জিলিং লোকসভা আসনের অন্তর্গত। নকশালবাড়ি ব্লক এবং মাটিগাড়া ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রটি ২০০৮ সালে ডিলিমিটেশন কমিশনের সুপারিশে তৈরি হয়। শুরু থেকেই এটি তফসিলি জাতির (SC) জন্য সংরক্ষিত আসন। নতুন কেন্দ্র হলেও রাজনৈতিকভাবে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। ২০১১ সালে প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের শঙ্কর মালাকার সিপিএম প্রার্থী ঝড়েন রায়কে হারিয়ে জয়ী হন। ২০১৬ সালেও তিনি আসনটি ধরে রাখেন, সেবার তৃণমূল কংগ্রেসের অমর সিনহাকে পরাজিত করেন।
তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। বিজেপি প্রার্থী...
দার্জিলিং জেলার গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রটি দার্জিলিং লোকসভা আসনের অন্তর্গত। নকশালবাড়ি ব্লক এবং মাটিগাড়া ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রটি ২০০৮ সালে ডিলিমিটেশন কমিশনের সুপারিশে তৈরি হয়। শুরু থেকেই এটি তফসিলি জাতির (SC) জন্য সংরক্ষিত আসন। নতুন কেন্দ্র হলেও রাজনৈতিকভাবে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। ২০১১ সালে প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের শঙ্কর মালাকার সিপিএম প্রার্থী ঝড়েন রায়কে হারিয়ে জয়ী হন। ২০১৬ সালেও তিনি আসনটি ধরে রাখেন, সেবার তৃণমূল কংগ্রেসের অমর সিনহাকে পরাজিত করেন।
তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। বিজেপি প্রার্থী আনন্দময় বর্মণ বিপুল ভোটে তৃণমূলের রাজেন সুন্দাসকে হারিয়ে আসনটি দখল করেন। বর্মণ পান ১,৩৯,৭৮৫ ভোট (৫৮.১০ শতাংশ), আর সুন্দাসের ঝুলিতে যায় ৬৮,৯৩৭ ভোট (২৮.৬৫ শতাংশ)। একসময়ের শক্তিশালী কংগ্রেস তৃতীয় স্থানে নেমে যায়, ভোট শতাংশ মাত্র ৯.৫৮। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ২ লক্ষ ৬৫ হাজার ৭৩৫ জন, ভোট পড়েছিল ৮৩.৬৫ শতাংশ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা অংশে ভোটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ২১৪। সেবারও এই অংশে বিজেপি এগিয়ে থাকে, যা ২০২১ সালের ধারা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়।
ভোটার গঠনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তফসিলি জাতির ভোটার প্রায় ৩১.৬৯ শতাংশ, তফসিলি উপজাতি ১৬.২৪ শতাংশ, আর মুসলিম ভোটার প্রায় ৫.৮ শতাংশ। এই কেন্দ্র মূলত গ্রামীণ অধ্যুষিত। প্রায় ৬৪ শতাংশ ভোটার গ্রামাঞ্চলের, শহুরে ভোটার প্রায় ৩৬ শতাংশ। ঐতিহাসিক দিক থেকেও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির গুরুত্ব আলাদা। ১৯৬৭ সালে নকশালবাড়ি গ্রাম থেকেই নকশাল আন্দোলনের সূচনা, যা এক সময় ভারতীয় রাজনীতিতে গভীর ছাপ ফেলেছিল। যদিও সেই আন্দোলনের তীব্রতা এখন আর নেই, তবু তার স্মৃতি আজও এই অঞ্চলের মানুষের মনে রয়ে গিয়েছে।
ভৌগোলিকভাবে এই এলাকা সমতল জমি ও বনঘেরা পাহাড়ের মিশেলে গঠিত। কাছ দিয়েই বয়ে গেছে তিস্তা নদী। নকশালবাড়ি ও মাটিগাড়ার চা-বাগানগুলি এই অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম ভরসা। ধান, ভুট্টা ও শাকসবজি চাষ এখানকার প্রধান জীবিকা। পাশাপাশি চা শিল্প ও ছোটখাটো ব্যবসাও অর্থনীতিকে চাঙা রাখে। মাটিগাড়া থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে শিলিগুড়ি শহর, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার। দার্জিলিং শহর প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে, এনএইচ-৫৫ ও ঐতিহাসিক হিল কার্ট রোড ধরে যাওয়া যায়। এই কেন্দ্রের মধ্যেই রয়েছে বাগডোগরা বিমানবন্দর, যা দেশের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। কাছেই ইন্দো-নেপাল সীমান্ত, কাকারভিট্টা বাণিজ্য ও যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
বর্তমানে বিজেপির দখলে থাকা মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গেরুয়া শিবির যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসকে নতুন করে কৌশল সাজাতে হতে পারে। কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট যদি ফের সংগঠন চাঙা করতে পারে, তবে বিরোধী ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে ভোটার উপস্থিতি, জাতিগত সমীকরণ এবং দার্জিলিং তরাই অঞ্চলের সামগ্রিক রাজনৈতিক মেজাজই ঠিক করে দেবে এই কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ।
Rajen sundas
AITC
Sankar malakar
INC
Nota
NOTA
Rakesh mondal
IND
Sudip mandal
BSP
Harish chandra barman
SUCI
Amar sinha
AITC
Anandamoy barman
BJP
Nota
NOTA
Bidur barman
KPPU
Sudip mandal
BSP
Goutam kirtania
IND
Kshitish chandra roy
SUCI