
পূর্ব হিমালয়ের কোলে থাকা দার্জিলিং জেনারেল বিধানসভা কেন্দ্র। দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত এই কেন্দ্রটি দার্জিলিং লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার একটি। পাহাড়ি সৌন্দর্য আর চায়ের জন্য বিশ্বজোড়া পরিচিত দার্জিলিং ১৯৫১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৮ বার বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, যার মধ্যে ২০১৯ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। দার্জিলিং পুরসভা, দার্জিলিং ফুলবাজার ব্লক এবং জোরবঙ্গল–সুখিয়াপোখরি ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে এই কেন্দ্র গঠিত।
দার্জিলিংয়ের নির্বাচনী রাজনীতির রূপ বদলেছে মূলত আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষার জেরে। প্রথম কয়েক দশক জুড়ে আধিপত্য ছিল অখিল ভারতীয় গোর্খা লীগের। ১৯৬২ থেকে ১৯৭৭—টানা ছ’টি নির্বাচনে জয়ী হয় এই দল। তার আগে ১৯৫৭ সালে স্বতন্ত্র হিসাবে জেতেন দেও প্রকাশ রাই। ...
পূর্ব হিমালয়ের কোলে থাকা দার্জিলিং জেনারেল বিধানসভা কেন্দ্র। দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত এই কেন্দ্রটি দার্জিলিং লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার একটি। পাহাড়ি সৌন্দর্য আর চায়ের জন্য বিশ্বজোড়া পরিচিত দার্জিলিং ১৯৫১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৮ বার বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, যার মধ্যে ২০১৯ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। দার্জিলিং পুরসভা, দার্জিলিং ফুলবাজার ব্লক এবং জোরবঙ্গল–সুখিয়াপোখরি ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে এই কেন্দ্র গঠিত।
দার্জিলিংয়ের নির্বাচনী রাজনীতির রূপ বদলেছে মূলত আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষার জেরে। প্রথম কয়েক দশক জুড়ে আধিপত্য ছিল অখিল ভারতীয় গোর্খা লীগের। ১৯৬২ থেকে ১৯৭৭—টানা ছ’টি নির্বাচনে জয়ী হয় এই দল। তার আগে ১৯৫৭ সালে স্বতন্ত্র হিসাবে জেতেন দেও প্রকাশ রাই। পরে সিপিএম দু’বার আসন দখল করলেও ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত চারবার জয় পায় গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট। এরপর ২০১১ ও ২০১৬ সালে জেতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। ২০১৯ সালের উপনির্বাচনে বিজেপির নিরজ জিম্বা বিপুল ভোটে জেতেন। ২০২১ সালেও তিনি জয় ধরে রাখেন।
লোকসভা ভোটে বিজেপির উত্থান আরও স্পষ্ট। ২০০৯ সাল থেকে এই বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে তারা। ওই বছর তারা ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে লিড পায়। ২০২৪ সালে সেই লিড কমে ৩১ হাজারে নামলেও তৃণমূলকে পিছনে ফেলে এগিয়ে থেকেছে বিজেপি। উল্লেখযোগ্য ভাবে, তৃণমূল রাজ্যের শাসকদল হয়েও কোনও দিনই এই কেন্দ্রে বিধানসভায় দ্বিতীয় স্থানে উঠতে পারেনি। তবে গত তিনটি লোকসভা ভোটেই তারা রানার-আপ হয়েছে।
২০২৪ সালে দার্জিলিংয়ে ভোটার ছিলেন ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৭৮৮ জন। তার আগের নির্বাচনের তুলনায় সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। ২০২১ সালে তফসিলি উপজাতি ভোটারের হার ছিল প্রায় ২৬ শতাংশ আর তফসিলি জাতির প্রায় ৬ শতাংশ। মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। গ্রাম ও শহর এলাকার ভোটারের ভাগও প্রায় সমান সমান।
ভোটদানে আগ্রহ বরাবরই স্থিতিশীল। ২০১৬ সালে ভোট হয়েছিল ৬৭ শতাংশের একটু বেশি। ২০২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬৯ শতাংশে। ২০২৪ সালে কিছুটা কমে ৬৩ শতাংশে নেমেছে। পাহাড়ি এলাকার স্বভাবসুলভ ভৌগোলিক সমস্যার মধ্যেও ভোটদানের হার তাই মোটামুটি স্থির।
দার্জিলিংয়ের ভূপ্রকৃতি সম্পূর্ণ পাহাড়ি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতা প্রায় দুই হাজার মিটার। তিস্তা ও রঙ্গীত নদীর মাঝের জলাপাহাড়–দার্জিলিং রিজে বসে থাকা এই শহর বর্ষায় বারবার ভূমিধসের শিকার হয়। এখান থেকে ৭৪ কিলোমিটার দূরে রয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা, পরিষ্কার দিনে যাকে স্পষ্ট দেখা যায়। অর্থনীতির মূল ভিত্তি চা ও পর্যটন। পাহাড়ের ৮১টি চা বাগানে উত্পাদিত দার্জিলিং চা সারা বিশ্বে পরিচিত। ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃতি রয়েছে এই চায়ের। সারাবছরই পর্যটকের ভিড় থাকে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে তথা টয় ট্রেন এখনও বড় আকর্ষণ। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তকমা দেয়।
পরিকাঠামোর চ্যালেঞ্জও কম নয়। রাস্তা সরু, যানজট নিয়মিত। গণপরিবহণ সীমিত, মূলত শেয়ার ট্যাক্সির উপরেই নির্ভরতা। গরমের মাসে জলসংকট চরম আকার নেয়। অনেকে বেসরকারি জল বিক্রেতার উপর নির্ভর করেন। বিদ্যুৎ তুলনামূলক সাপ্লাই স্থিতিশীল হলেও বর্জ্য নিষ্কাশনে সমস্যা রয়েছে। নিকটতম বিমানবন্দর বাগডোগরা প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে। সড়কপথে সিলিগুড়ি, গ্যাঙটক, কাঠমান্ডু সহ নানা জায়গার সঙ্গে দার্জিলিং যুক্ত।
ব্রিটিশ আমলের ছাপ শহরের স্থাপত্যে ও প্রতিষ্ঠানে আজও স্পষ্ট। ১৮৩৫ সালে সিকিমের মহারাজের কাছ থেকে ব্রিটিশরা লিজ নেয় দার্জিলিং। গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটানোর জায়গা হিসেবে গড়ে ওঠে পাহাড়। তারপর শুরু হয় চা বাগানের বিস্তার। স্কুল–কলেজ গড়ে ওঠে। নানা জাতিগোষ্ঠীর মেলবন্ধনে শহরের নিজস্ব এক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রশ্নে দার্জিলিং দীর্ঘদিন ধরেই আলাদা। এখানে মূল ভাষা নেপালি। স্বশাসন বা পৃথক রাজ্যের দাবি বহু দশকের। জিএনএলএফ এবং পরে জিএমএম আন্দোলনের ফলে ২০১১ সালে গঠিত হয় জিটিএ। তবে কলকাতার মূল ধারার রাজনীতিতে দার্জিলিংয়ের প্রতিনিধিত্ব খুব কমই দেখা যায়।
আঞ্চলিক দলগুলির দুর্বলতা এবং জাতীয় রাজনীতিতে আরও গভীর ভাবে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ ভোটাভ্যাসেও প্রভাব ফেলেছে। তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম, কারও পক্ষেই এখনও ঘাঁটি শক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটেও বিজেপি যে এই পাহাড়ি কেন্দ্রে এগিয়ে থাকবে, তা এখনই স্পষ্ট। নাটকীয় রাজনৈতিক বদল না হলে দার্জিলিংয়ে বিজেপির ধারাবাহিকতা বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
Keshav raj sharma
IND
Pemba tshering
IND
Suraj gurung
IND
Nota
NOTA
Nima gyamtsho sherpa
IND
Gautam raj rai
CPI(M)
Anjani sharma
IND
Milan thokar
IND
Bharat prakash rai
IND
Sarda rai subba
AITC
Govind chettri
IND
Nota
NOTA
Ashok kumar lepcha
GRAC