
পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং জেলায় অবস্থিত কালিম্পং বিধানসভা কেন্দ্রটি দার্জিলিং লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। সাধারণ শ্রেণির এই আসনটি পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পর্যটন, নামী আবাসিক স্কুল এবং ফুল রফতানির জন্য পরিচিত। হিমালয়ের কোলে গড়ে ওঠা এই শহর উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি রাজনীতিতে আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, এক সময় কালিম্পং ছিল সিকিম রাজ্যের অংশ। লেপচা, ভুটিয়া ও লিম্বু জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল এই অঞ্চলে। ১৭০৬ সালে ভুটানের দখলে আসে কালিম্পং। পরে নেপালের গোর্খারা অঞ্চলটি দখল করে নেয়। ১৮৬৫ সালের সিনচুলা চুক্তির পর ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে কালিম্পং। ব্রিটিশ আমলে এটি বাংলা ও তিব্বতের মধ্যে বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠ...
পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং জেলায় অবস্থিত কালিম্পং বিধানসভা কেন্দ্রটি দার্জিলিং লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। সাধারণ শ্রেণির এই আসনটি পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পর্যটন, নামী আবাসিক স্কুল এবং ফুল রফতানির জন্য পরিচিত। হিমালয়ের কোলে গড়ে ওঠা এই শহর উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি রাজনীতিতে আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, এক সময় কালিম্পং ছিল সিকিম রাজ্যের অংশ। লেপচা, ভুটিয়া ও লিম্বু জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল এই অঞ্চলে। ১৭০৬ সালে ভুটানের দখলে আসে কালিম্পং। পরে নেপালের গোর্খারা অঞ্চলটি দখল করে নেয়। ১৮৬৫ সালের সিনচুলা চুক্তির পর ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে কালিম্পং। ব্রিটিশ আমলে এটি বাংলা ও তিব্বতের মধ্যে বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। ১৯৫৯ সালে তিব্বত দখলের পর বহু তিব্বতি শরণার্থীর আগমন কালিম্পংয়ের সমাজ ও সংস্কৃতিকে নতুন রূপ দেয়। বর্তমানে এখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২৭ মাউন্টেন ডিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে।
১৯৫১ সালে কালিম্পং বিধানসভা কেন্দ্র গঠিত হয়। ২০১১ সাল থেকে কালিম্পং–১, কালিম্পং–২ ও গোরুবাথান ব্লক নিয়ে বর্তমান সীমানা কার্যকর। এই কেন্দ্রে বরাবরই স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলির প্রভাব বেশি। এখনও পর্যন্ত স্থানীয় দলগুলি ৯ বার জয় পেয়েছে। এর মধ্যে অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগ ও জিএনএলএফ তিনবার করে, জিএজেএম দু’বার এবং বিজিপিএম একবার জয় পেয়েছে। চারবার জয় এসেছে নির্দল প্রার্থীদের হাত ধরে।
২০১১ সালে জিএজেএম প্রার্থী হরকা বাহাদুর ছেত্রী বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে নজির গড়েন। ২০১৬ সালে জিএজেএম-এর সরিতা রাই তাঁর বিরুদ্ধে জয় পান। ২০২১ সালে লড়াই আরও হাড্ডাহাড্ডি হয়। বিজিপিএম প্রার্থী রুদেন সাদা লেপচা বিজেপির শোভা প্রধানকে অল্প ব্যবধানে হারান।
তবে বিধানসভায় স্থানীয় দলের আধিপত্য থাকলেও লোকসভা ভোটে ছবি একেবারেই আলাদা। গত চারটি লোকসভা নির্বাচনে কালিম্পং বিধানসভা অংশে বিজেপি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে থেকেছে। ২০০৯ সালে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিশাল ব্যবধানে জয়, ২০১৪, ২০১৯ এবং ২০২৪, প্রতিটি নির্বাচনে বিজেপির লিড পাহাড়ের রাজনীতিতে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
২০২৪ সালে কালিম্পংয়ে মোট ভোটার ছিল প্রায় ২.২০ লক্ষ। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি ভোটার প্রায় ৩০ শতাংশ এবং তফসিলি জাতি প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ। শহরাঞ্চলের ভোটার মাত্র ২২ শতাংশ। বাকি অংশ গ্রামীণ। সাধারণত ভোটদানের হার ৭০ শতাংশের উপরে থাকলেও ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ৬৬ শতাংশে।
ভৌগোলিকভাবে কালিম্পং পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা। ডেলো ও দুরপিন পাহাড় এখানকার উঁচু অঞ্চল। বর্ষায় অতিবৃষ্টির কারণে ধস নামা এখানে নিয়মিত সমস্যা। তিস্তা, জলঢাকা ও রংপো নদী এলাকার ভূপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করে।
অর্থনীতির মূল ভরকেন্দ্র পর্যটন, উদ্যানচাষ ও ফুলচাষ। বিশেষ করে অর্কিড ও গ্লাডিওলাস। আদা চাষ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সেনাবাহিনীকে ঘিরে বাণিজ্যও স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখে। পাহাড়ি স্কুলগুলিতে পড়তে আসে উত্তরবঙ্গ, সিকিম, ভুটান ও নেপাল থেকেও পড়ুয়ারা।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে কালিম্পংয়ে বিজেপি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে। লোকসভায় শক্ত অবস্থান থাকলেও বিধানসভায় স্থানীয় দলের প্রভাব ভাঙা সহজ নয়। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাব এখানে সীমিত। বিজেপি যদি কোনও শক্তিশালী স্থানীয় দলের সঙ্গে জোট গড়ে তুলতে পারে, তবে সমীকরণ বদলাতে পারে। তবে পাহাড়ের রাজনীতি বরাবরের মতোই স্থানীয় আবেগ ও দাবিদাওয়ার উপর দাঁড়িয়ে থাকবে। এটাই কালিম্পংয়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা।
Suva pradhan
BJP
Dr. r.b. bhujel
IND
Nota
NOTA
Penjo gompu bhutia
NPEP
Songden lepcha
IND
Dilip pradhan
INC
Ujjwal rai
IND
Bhupendra lepcha
IND
Harka bahadur chettri
IND
Kishore pradhan
IND
Nota
NOTA
Amar loksom
GRAC
Bhrigu nath gupta
IND