
নির্বাচন কমিশন এবার ভোটারদের ভয় দেখানোর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল। এই বিষয় প্রতিটি জেলার বিধানসভা কেন্দ্রগুলি ধরে একটি নামের তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। যাঁদের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার, ভয় দেখানোর চেষ্টার আশঙ্কা রয়েছে। কমিশনের উল্লেখ করা ব্যক্তিদের উপর কড়া নজরদারি, এমনকী প্রয়োজনে আটক করার কথাও DIG-কে নোটিশ দিয়ে জানাল কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক নোটিশে স্পষ্ট উল্লেখ করেছে, এই তালিকায় উল্লিখিত বিধানসভা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট থানা এলাকায় বসবাসকারী ব্যক্তিরা ভোটারদের ভয় দেখানো এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর কাজে সক্রিয়ভাবে জড়িত। কোন কোন পরিচিতের নাম রয়েছে এই তালিকায়?
> হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী কাজল শেখ।
> রঘুনাথপুরে কয়লা পাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালা।
> বেলেঘাটায় তৃণমূল নেতা পরেশ পাল।
> বেলেঘাটায় ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সচিন সিং।
> এন্টালিতে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমিরুদ্দিন ববি।
> চৌরঙ্গী ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সানা আহমেদ।
> নন্দীগ্রামে শেখ সুফিয়ান।
> মানিকতলায় তৃণমূল কাউন্সিলর অনিন্দ কিশোর রউত।
> রাসবিহারীতে বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু।
> রাসবিহারীতে তৃণমূল নেতা কুমার সাহা।
> ভবানীপুরে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিজামুদ্দিন শামস।
> কলকাতা বন্দরে ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামস ইকবাল।
> কসবায় তৃণমূল নেতা সুশান্ত ঘোষ।
> বোলপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঙ্গিতা দাসের স্বামী বাবলু দাস।
> ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান।
> ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূলর নেতা শামিম আহমেদ।
আরও একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে এই তালিকায়।
তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ জারি করা, যথাযথ যাচাইয়ের পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছে কমিশন। এই ব্যবস্থাগুলির মধ্যে থাকতে পারে FIR, আইনি নোটিশ এবং প্রয়োজন হলে আটক। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের বুথগুলিতে টহলদারির সময়ে এবং নির্বাচন চলাকালীন এই ব্যক্তিদের গতিবিধির উপর নজর রাখতেও বলা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার এবং কমিশনার থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (OC) এবং SDPO সহ সকল স্তরের পুলিশ আধিকারিক ও অন্যান্য কর্মীদের কাছে একটি স্পষ্ট ও জরুরি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছে কমিশন। উল্লিখিত ব্যক্তিদের কোনও ভাবেই দুষ্কর্ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ভোটারদের কাজে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। ভোটারদের ভয় দেখানো বা কোনও ধরনের অশান্তির ঘটনা ঘটলে তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে পুলিশ বিভাগের সর্বস্তর থেকে নীচ পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করা হবে।