
'আর এই জেলায় গদ্দার লিস্ট করে দিয়েছে, কাকে গ্রেফতার করতে হবে। ইলেকশনের পরে তুমি নিজেকে সামলাও। অনেক কেলেঙ্কারি করেছ।', আজ নাম না করেই হলদিয়ার সুতাহাটা সুবর্ণ জয়ন্তী মাঠের জনসভায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে এভাবেই আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি আরও বলেন, 'হলদিয়া থেকে কত ট্রাক যায়, সেই ট্রাকের কাটমানি কে খায়? শ্রমিকদের ভাতা থেকে টাকা কে খায়? যত কোম্পানি আছে, তাদের কাছ থেকে মাসে মাসে টাকা কে তোলে? সব জেনে রেখে দিন, একজনই তোলে। সেই টাকা অর্ধেক নিজে নেয়। বাদবাকিটা দেয় বাইরের নেতাকে। আমার কাছে এগুলো অজানা নয়। আমি সবটাই জানি।'
পাশাপাশি মমতা দাবি করেন, তিনি অনেক দিয়েছে এই পরিবারকে (অধিকারী পরিবার)। আর দিতে পারবেন না। এখনও বিজেপির সাহায্যে দুধেভাতে রয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করে রেখেছে। কত টাকা তার কোনও ঠিক নেই।
চেকিং নিয়ে কী দাবি?
মমতা বলেন, 'ভোটের আগে চেক করবে বলে ঘোষণা করেছে কমিশন। পোলিং বুথের সামনে সেন্ট্রাল ফোর্সের দুইজন থাকবে। তারা চেক করবে। জেনে রাখবেন পুরুষেরা মহিলাদের চেক করতে পারে না। আবার বলছে কাউন্টিউংয়ে খেলা হবে। সবকটাকে কোর্টে টানব। ছাড়া হবে না।'
বিজেপি ফর্ম দিচ্ছে...
মমতার দাবি, ইলেকশনের আগেই ফর্ম দিচ্ছে বিজেপি। এটা বেআইনি কাজ। এটা করা লজ্জার বিষয়। তাই সকলকে এই ফর্ম ব্যবহার করতে বারণ করলেন তিনি। এই কাজটা করলে পরবর্তী সময় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
পাশাপাশি তিনি জানালেন, লক্ষ্মীরভাণ্ডার দেওয়া হচ্ছে। এটাই সারাজীবন পাওয়া যাবে। বন্ধ হবে না।
এদিন ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়েও আবার আক্রমণ করলেন মমতা। তিনি দাবি করেন, মোদী সাজিয়ে গুছিয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তো ১০ টাকা থাকার কথা নয়। এটা পুরোটাই সাজানো।
তাঁর মতে, নন্দীগ্রামের মানুষ আগেরবারও বিজেপিকে ভোট দেয়নি। কোর্টে কেস চলছে। তিনি ভবানীপুরে জিতে যান বলে বিষয়টা নিয়ে বেশি মাথা ঘামাননি।
এখানেই শেষ না করে মমতার দাবি, ইতিমধ্যেই সেনা নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসেছে যুদ্ধে ব্যবহারের গাড়ি। তৃণমূলের লোকজনকে বেছে বেছে ধরার প্ল্যান করা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ বিজেপির বিরুদ্ধে কিছুই করা হচ্ছে না।